শরীর ও মন নিয়ে লেখালেখি

Wednesday, 6 February 2013

চকোলেটের স্বাস্থ্যগুন


চকোলেট খেতে পছন্দ করেন না কিংবা চকোলেট উপহার পেয়ে খুশি হন না, এমন মানুষ বিরল আবাল- বৃদ্ধ-বণিতা সকলেই চকোলেটের ভক্ত চিকিৎসকের নিকটে গেলে যারা খাবার মেনে চলার লম্বা ফিরিস্তি নিয়ে বিরস বদনে বের হয়ে আসেন, তাদের জন্যও এখন অন্তত একটি সুখবর দেওয়া যায়- প্রাণ ভরে চকোলেট খেতে পারেন কারণ সম্প্রতি গবেষকগণ বলেছেন চকোলেট খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
অষ্টাদশ শতকে সুইডিস প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারলাস লিনিয়াস চকোলেটের গাছের নাম দেন ক্যাকাও থিওব্রোমা (Cacao theobroma) ক্যাকাও শব্দের অর্থ ঈশ্বরের খাদ্য| তারপর শতশত বছর যাবৎ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ চকোলেট প্রেমে আপ্লুত হয়েছে অতএব সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগতে পারে কি যাদু আছে এই চকোলেটর ভিতরে?
চকোলেটের ইতিহাস অনেক পুরোনো| ষষ্ঠ শতকের দক্ষিণ আমেরিকার সভ্যতার অধিবাসীরা উত্তরাঞ্চলের ইউকাটান এলাকায় কোকো গাছ লাগানো শুরু করে মনে করা হয় মায়া সভ্যতার অধিবাসীরা কয়েক শত বছর ধরে কোকোর সঙ্গে পরিচিত ছিল এটাকে তারা অত্যন্ত মূল্যবান পণ্য হিসেবে গণ্য করতো কেনা-বেচার জন্য তারা কোকো -কে মুদ্রা হিসাবে বিনিময় করতো এবং গণণার জন্য ব্যবহার করা হতো
মায়া এবং অ্যাজটেকরা ক্যকাও গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে একধরণের পাbxয় তৈরি করতো যার নাম ছিল জোকোলেটেল (Xoco latl) অ্যাজটেকরা বিশ্বাস করতো ক্যাকাও বীজ স্বর্গ থেকে এসেছে এবং এটা খাওয়ার মাধ্যমে প্রজ্ঞা শক্তি অর্জিত হয়
জোকো (Xoco) শব্দের অর্থ ফেনা আর অ্যটল (atl) অর্থ পানি মায়া শব্দ জোকোলেটেল থেকেই এসেছে বর্তমান চকোলেট শব্দটি তখন চকোলেট সবসময় পানীয় হিসেবেই পান করা হতো
মনে করা হয় কলম্বাস নতুন দুনিয়া থেকে ঘুরে আসার সময় ক্যাকাও বীজ এনেছিলেন কিন্তু রাজা ফার্দিনান্দের দরবারে অন্যান্য মূল্যবান রত্ন রাজির ভিড়ে তখন কেউ কোকো বীজের দিকে গুরুত্ব দেয়নি
সেপনের ফার্নান্দো কর্টেজ ১৫১৯ সালে মেক্সিকোর সম্রাট মন্টেজুমার দরবারে গেলে চকোলেট প্রথম ইউরোপীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিভিন্ন বর্ণনায় দেখা যায় মন্টেজুমা ভোজনের পর রত্নখচিত পাত্রে চকোলেট পান করতেন  পাত্রে চকোলেট ফেনার পরিমাণই বেশি থাকতো ভোজনের পরে এরকম চকোলেট পানীয় পান করাকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসাবে গণ্য করা হতো মন্টেজুমা চকোলেট পান করার পর আবার অম্বর যুক্ত তামাকও সেবন করতেন
ষোড়শ শতকে পেরু এবং মেক্সিকোতে চকোলেট পানীয় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল কেউ ঠান্ডা, কেউ গরম চকোলেট পান করতো অনেকে এর সঙ্গে ঝাল মিশিয়েও চকোলেট পান করতো এটাকে তারা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মনে করb
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ইউরোপে প্রথম চকোলেট আমদানী করা হয় ১৮৮৫ সালে ভেরাক্রুজ থেকে জাহাজে করে সেভিল- চকোলেট আনা হয় ইউরোপীয়রা চকোলেটের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে খেতে শুরু করে অনেকে এর সঙ্গে দারুচিনি এবং অন্যান্য মশলা যোগ করে খেত
মন্টেজুমার দরবারে দৈনিক ২০০০ কাপ চকোলেট পান করা হতো এর ভেতর মন্টেজুমা একাই ৫০ কাপ পান করতো
স্প্যানিশরা অ্যাজটেক জয় করে নেওয়ার পর ইউরোপে ব্যাপকভাবে চকোলেট আমদানী হতে থাকে স্পেনে খুব দ্রুত চকোলেট জনপ্রিয়তা অর্জন করে স্পেন এবং ইউরোপের চকোলেটের ব্যাপক চাহিদা মেটানোর জন্য স্প্যানিশ সেনাবাহিনী মেক্সিকো, পেরু প্রভৃতি দেশে জোর-জবরদস্তি করে কোকো চাষ করাতে থাকে কোকো চাষ একটি লাভজনক ব্যবসায় রূপান্তরিত হয় তার পরেও চকোলেট একটি দামী পণ্য হিসাবেই রয়ে যায় এবং কেবলমাত্র ধনীরাB চকোলেট পান করার সামর্থ রাখতো

লন্ডনে প্রথম চকোলেটর দোকান খোলা হয় ১৬৫৭ সালে ১৬৮৯ সালে হ্যান্স স্লোন নামে একজন চিকিৎসক চকোলেটের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে খাওয়ার প্রচলন করেন এবং এটা ~লত চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হতো পরবর্তী ১৮৯৭ সালে মিল্কচকোলেটের স্বত্ব ক্যাডবারি এবং তার ভাইয়েরা কিনে নেন
অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে কঠিন চকোলেট বানানো শুরু হয় ডোরেট নামে এক ভদ্রলোক ইতালীর তুরিন শহরে এটা প্রথম বানাতে সক্ষম হন
এর পর চকোলেটের সঙ্গে নানা রকম উপাদান যোগকরে বিভিন্ন ধরণের চকলেট বানানো ïরু করা হয় ধীরে ধীরে নানা স্বাদ, বর্ণ গন্ধের চকোলেট বানানো হতে থাকে
স্বাস্থ্যের ওপর চকোলেটের নানামুখী প্রভাব দেখতে পাওয়া যায় এর মধ্যে কতগুলি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য
·    চকোলেটের মধ্যে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে
·   চকোলেটের মধ্যে অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকার কারণে অনেকে মনে করেন চকোলেট বার্ধ্যক্য বিলম্বিত করে
·    চকোলেট খেলে জীবনীশক্তি বাড়ে, কাজে-কর্মে উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয় এবং কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করার ক্ষমতা বাড়ে
·   মহিলাদের মাসিক রজস্রাবের আগে চকোলেটের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ দেখা যায়
·    চকোলেটে বেদনানাশক ক্ষমতা রয়েছে; চকোলেট খেলে মনে আনন্দ-ফূর্তির মনোভাব জাগে
·    চকোলেটে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম থাকে চকোলেট সেবন শরীরের ম্যাগনেশিয়ামামের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে
চকোলেট সম্পর্কে এরকম আরো অনেক তথ্য রয়েছে তবে এসকল তথ্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেন
চকোলেটের স্বাস্থ্যকর গুনাগুন সম্পর্কে প্রথম vনা যায় পানামার কুনা দ্বীপের স্থানীয় অধিবাসীদের স্বাস্থ্য পর্যালোচনা করে ওই দ্বীপের অধিবাসীদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপ বাড়েনা এমন কি তাদের মধ্যে হৃদরোগের হারও অনেক কম বিজ্ঞানীরা এর কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখতে পেলেন কুনা দ্বীপের অধিবাসীরা প্রচুর চকোলেট যুক্ত খাবার গ্রহণ করে পক্ষান্তরে কুনা দ্বীপের অধিবাসীরাই যখন শহরে বসবাস করে এবং চকোলেট কম খায়, তখন তাদের মধ্যে উচ্চরক্ত চাপ এবং হৃদরোগের হার বেড়ে যায়
 সম্প্রতি ব্রিটেনের কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক পুনরায় গবেষণা করে জানাচ্ছেন চকোলেট বেশি খেলে বিভিন্ন ধরণের হৃদ-বিপাকীয় ব্যাধি যেমন-হৃদরোগ,স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হৃদ বিকলতা ইত্যাদির হার এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়
অতএব এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত জ্ঞান এবং তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারি চকোলেটের লোভ সম্বরণ করা দরকার নেই আবাল-বৃদ্ধ,বণিতা আনন্দ চিত্তে উপভোগ করুক অন্তত চকোলেটের অমিয় স্বাদ

ক্যাফেইন এবং উচ্চ রক্তচাপ



সারাদিন পরিশ্রমের পরে কিংবা কর্মব্যস্ততার ফাঁকে এক কাপ ধূমায়িত চা কিংবা কফি কার না ভালো লাগে? কিন্তু যাদের উচ্চ রক্তচাপ নেই, তাদেরও দেখা যায় চা কিংবা কফি পানের পরে কিছু সময়ের জন্য রক্তচাপ বেড়ে যায়। দুই কিংবা তিন কাপ কফিতে যে পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে, তার ফলে সিস্টোলিক রক্তচাপ ৩ থেকে ১৪ মিঃ মিঃ পারদচাপ আর ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৪ থেকে ১৪ মিঃ মিঃ পারদচাপ বেড়ে যায়।  

শরীরে ক্যাফেইন কিভাবে রক্তচাপ বাড়ায় তা সঠিক জানা যায়নি। ধারণা করা হয় রক্ত নালীকে প্রসারিত করে এমন হরমোনের কার্যক্রমে ক্যাফেইন বাধা সৃষ্টি করে। আবার অনেকে মনে করেন ক্যাফেইন শরীরে অতিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন নিঃসরন ঘটায়। অ্যাড্রেনালিন রক্তনালীকে সংকুচিত করে ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। যারা নিয়মিত কফি পান করে থাকেন তাদের রক্তচাপ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকে। নিয়মিত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান করলে এর প্রতি এক পর্যায়ে সহনশীলতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে ক্যাফেইন প্রকৃতপক্ষে রক্তচাপ বাড়ায় না।

তবে যারা উচ্চ রক্তচাপের রোগী তাদের ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় অতিরিক্ত পান করা উচিৎ নয়। সাধারণত প্রতিদিন ২০০ মিঃ গ্রামের বেশী ক্যাফেইন সেবন করা ক্ষতিকর। ১২ আউন্সের দুই কাপ কফিতে এ পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। অবশ্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কফি এবং ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের মধ্যে এর পরিমানের ভিন্নতা থাকতে পারে। সুতরাং এক এক ধরণের পানীয় সেবন করলে রক্তচাপ বাড়ার মধ্যেও পার্থক্য দেখা যায়। সাধারণত যে সকল কাজ-কর্ম করলে রক্তচাপ বাড়ে ( যেমন- ভারী জিনিসপত্র তলা-নামানো, ব্যায়াম ইত্যাদি) তার আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় সেবন করা উচিৎ নয়।

যাদের ক্যাফেইন গ্রহণের পর রক্তচাপ বাড়ার প্রবণতা আছে তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ক্যাফেইন গ্রহণের আধঘণ্টার মধ্যে কারও রক্তচাপ যদি ৫ থেকে ১০ মিঃ মিঃ পারদচাপ বেড়ে থাকে, তাহলে তাদের অবশ্যই এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। নিয়মিত কফি পানকারীর সহসা এটা বন্ধ করা ক্ষতিকর হতে পারে এবং প্রতিক্রিয়া হিসেবে তীব্র মাথাব্যাথা হতে পারে। কফি আসক্ত ব্যক্তিদের ক্যাফেইন গ্রহণের মাত্রা ধীরে ধীরে কমালে এমন প্রতিক্রিয়া হয় না।  

" বাড়তি চিনি - "




জনপ্রিয় একটি কনডেন্সড মিল্কের বিজ্ঞাপনে একসময় বলা হতো, ‘বাড়তি চিনি কী দরকার?’ অর্থাৎ ওই দুধে যে পরিমাণ চিনি আছে তাতে আর বাড়তি চিনি দেওয়ার দরকার নেই। ক্রেতা হয়তো ভাবতো, আরে এখানেই তো লাভ! বাস্তবে কিন্তু বিস্তর ক্ষতি।
দৈনন্দিন খাবার ও পানীয়ের অনেকগুলোতেই অতিরিক্ত চিনি কিংবা বাড়তি কৃত্রিম শর্করা যোগ করা থাকে। নিয়মিত এসব বাড়তি চিনিযুক্ত খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করায় স্থূলতাসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে। তাই বলে কি এসব শর্করা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে? বাদ দিতে হবে খাদ্য তালিকা থেকে? নিশ্চয়ই নয়। কারণ শরীরের জন্যই শর্করা দরকার। কিন্তু তার মাত্রা যাতে বেশি না হয় খেয়াল রাখতে হবে সেটাই।
স্বাস্থ্যকর অধিকাংশ খাদ্যদ্রব্যেই কিছু না কিছু শর্করা থাকে। কারণ সুষম খাদ্যের অন্যতম উপাদান এই শর্করা। সমস্যা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড এবং পানীয়তে থাকা বাড়তি চিনি এবং শর্করা। এটা শুধু খাবারে ক্যালরির মাত্রা বাড়ানো ছাড়া আর কোনো কাজে লাগে না। তা ছাড়া ফাস্টফুড এবং নানা রকম পানীয়, ক্যান্ডি, চুইংগাম, চকোলেট, জ্যাম, জেলি এসব বাড়তি চিনিযুক্ত খাবারে প্রকৃত পুষ্টিগুণ সামান্যই থাকে। তাই বলা যায় জনস্বাস্থ্যের জন্য এসব খাবার এক ধরনের হুমকি।
মনে প্রশ্ন আসতে পারে, শর্করা কি শরীরে কোনো কাজে লাগে?
প্রাকৃতিক কিংবা প্রক্রিয়াজাত সব শর্করাই শরীরে শক্তি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রাকৃতিক খাবার যেমন চাল, গম, ভুট্টা, ফলমূল, সবজি, দুধ ইত্যাদির শর্করা দেহে শক্তির প্রধান উৎস।
কিন্তু প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন ফাস্টফুড এবং পানীয়ের সঙ্গে বাড়তি চিনি যোগ করা হয় কেন?
বেশ কয়েকটি কারণে তা করা হয়-
  • ফাস্টফুড ও পানীয়কে সুস্বাদু করে।
  • বেকারির খাবারে বিশেষ রং ও গঠন দেয়।
  • জ্যাম, জেলি প্রভৃতি সংরক্ষণে সাহায্য করে।
  • গাজন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে, ফলে রুটি জাতীয় খাবার ফুলে ওঠে।
  • ভিনেগার ও টমেটো সমৃদ্ধ খাবারের অম্লত্ব প্রশমন করে।
অতিরিক্ত চিনি যোগ করায় বাড়তি কিছু উপকারিতা আছে সন্দেহ নেই। কিন্তু এর সঙ্গে প্রক্রিয়াকরণের সুবিধার্থে কিছু চর্বিও যোগ করা হয়। চর্বি এবং বাড়তি চিনিকে একসঙ্গে সোফাস(SOFAS) বলে। কোনো কোনো খাবারের মোট ক্যালরির এক-তৃতীয়াংশ আসছে সোফাস থেকে। যখন কারো দৈনিক ক্যালরি চাহিদার এত বেশি অংশ চর্বি এবং চিনি থেকে আসে, তখন বুঝতে হবে ওই খাবার কোনোভাবেই স্বাস্থ্যপ্রদ নয়।
বেশি চিনি যেসব স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করে-
  • বেশি চিনি মানেই অতিরিক্ত ক্যালরি। এসব খেয়ে পরিমাণের তুলনায় বাড়তি ক্যালরি গ্রহণ করা হয়। ফলে ওজন বাড়ে।
  • চিনি দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে লেগে থেকে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়। ফলে দাঁত ক্ষয় হয়। বিশেষত চকোলেট, ক্যান্ডি, চুইংগাম, কেক-পেস্ট্রি জাতীয় খাবার ঘন ঘন গ্রহণ করলে এ ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। এ জন্য দেখা যায় বহু শিশু-কিশোরের দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো নয়।
  • ফাস্টফুড ক্যালরি চাহিদা পূরণ করে, কিন্তু অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যেমন প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ উপাদান ইত্যাদির আনুপাতিক ঘাটতি খাদ্যে রয়েই যায়। ফলে শরীর অপুষ্টি বা অপপুষ্টির শিকার হয়।
  • বাড়তি চিনি রক্তে ট্রাইগি্লসারাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা রক্তনালিতে জমে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকসহ বহু রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাহলে দৈনিক খাবারে কতটুকু চিনি নিরাপদ?

এর কোনো সঠিক পরিমাণ নির্দেশ করা যায় না। তবে বলা যায়, খাবারে চিনি যতটা সম্ভব কমানোটাই ভালো। সার্বিকভাবে যে কারো দিনে পাঁচ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি ক্যালরি সোফাস থেকে আসা উচিত নয়।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, কোনো মহিলার দৈনিক খাদ্য তালিকায় ১০০ ক্যালরি, আর পুরুষের জন্য এটা ১৫০ ক্যালরির বেশি হওয়া উচিত নয়। অর্থাৎ সারা দিনের খাবারের তালিকায় ছয় চা চামচ (মহিলাদের জন্য) থেকে নয় চা চামচ (পুরুষদের জন্য) বেশি বাড়তি চিনি থাকা উচিত নয়। অধিকাংশ পশ্চিমা নাগরিক দিনে ২২ চা চামচ অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করে থাকে। দেশেও এর হার খুব একটা নগণ্য নয়। এখানে সরাসরি চিনি গ্রহণের কথা কিন্তু বলা হচ্ছে না। আলাদাভাবে চিনি ও খাদ্যদ্রব্যে থাকা মোট চিনির পরিমাণকে বোঝানো হচ্ছে।

কিভাবে খাবারে চিনির প্রভাব কমাবেন? নিচের উপায়গুলো বিবেচনা করতে পারেন।

  • সরাসরি চিনিযুক্ত খাদ্য (মিষ্টি, পায়েস ইত্যাদি) যতটা সম্ভব বাদ দিন।
  • ক্যান্ডি, চুইংগাম, চকোলেট, আইসক্রিম, কেক পেস্ট্রি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • কেক, কুকি এবং অন্যান্য মিষ্টি স্ন্যাকসের পরিবর্তে তাজা ফলমূল খান।
  • মিষ্টি ফলের পরিবর্তে কম মিষ্টি কিংবা টক ফলকে প্রাধান্য দিন।
  • মিষ্টি সিরাপে সংরক্ষিত কৌটাজাত খাদ্য এড়িয়ে চলুন।
  • ফলের রস এবং কোমল পানীয়ের পরিবর্তে দুধ, ডাবের পানি কিংবা সাধারণ পানি পান করুন।
  • চা-কফিতে চিনি ব্যবহার না করাই ভালো কিংবা কম করতে পারেন।

অনেক সময় বাজারে কোন খাদ্যে চিনি আছে তা বোঝা যায় না। খাবারে চিনির পরিমাণ জানার জন্য মোড়কের গায়ে লেখা উপাদানের তালিকা দেখতে পারেন। নিজের সাধারণ জ্ঞানও কাজে লাগাতে পারেন।
নিচের খাবারগুলোর ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে পারেন।
  • বাদামি চিনি বা ব্রাউন সুগার - মোলাসেসযুক্ত দানাদার সাদা চিনি বেকিংয়ের জন্য বেশি  ব্যবহৃত হয়।
  • আখের রস এবং আখের সিরাপ - এটাকে পরিশোধন করলেই সাদা চিনি পাওয়া যায়।
  • ডেঙ্ট্রোজ - গ্লুকোজের আরেক নাম।
  • ফ্রুক্টোজ - ফল, মধু এবং সবজি থেকে পাওয়া চিনি, যা শরীরে গিয়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হতে পারে।
  • মধু - এতে গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজের মিশ্রণ যুক্ত চিনি থাকে।
  • ম্যাল্টোজ - বিয়ার, রুটি এবং শিশু খাদ্যে ব্যবহৃত চিনি।
  • মল্ট সিরাপ - শস্যবাটা এবং সদ্য অঙ্কুরিত বার্লি থেকে প্রস্তুত করা মিষ্টি রস।
  • মোলাসেস - আরেক নাম চিটাগুড়।

এবার নিজেই হিসাব করুন সারা দিনে যে খাবার খাচ্ছেন তাতে কতটা বাড়তি চিনি শরীরে ঢুকছে! যদি মনে হয়, চিনির পরিমাণ বেশি হচ্ছে, আজই কমানো শুরু করুন।