শরীর ও মন নিয়ে লেখালেখি

Sunday, 10 February 2013

মেদ- ভুঁড়ি কি করি?




মাঝে মাঝে পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখা যায়, মেদ ভুঁড়ি কি করি? এ সকল বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে মেদ ভুঁড়িওয়ালা লোকজন কি করছেন, তা সঠিক জানা না গেলেও সম্প্রতি মেদ ভুঁড়ি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইংল্যান্ডে বেশ মজার এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে বলা হচ্ছে মাঝ বয়েসী আমেরিকানদের ভুঁড়িতে ইংরেজদের চেয়ে বেশী বেশী মেদ-চর্বি জমা হয়েছে। বলা বাহুল্য ইংরেজদের চেয়ে মার্কিনীদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ তুলনামূলক ভাবে বেশী এবং এর কারণ হিসেবে মার্কিনীদের ভুঁড়িতে অতিরিক্ত মেদ-চর্বি জমা হওয়াকেই গবেষকগন দায়ী করেছেন।
ইউনিভারসিটি কলেজ লন্ডন এবং র‍্যান্ড কর্পোরেশনের(RAND Corporation) গবেষকগণ ২০০৬ সালে প্রায় সমতুল্য মাঝ বয়েসী মার্কিন নাগরিক এবং ইংরেজদের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করেন। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডায়াবেটিসের হার দ্বিগুণ। মার্কিনীরা ইংরেজদের তুলনায় বরাবরই স্থূলকায়; কিন্তু ডায়াবেটিসের হার কেন এত বেশী  তার সঠিক ব্যাখ্যা মিলছিল না। এখন গবেষকগণ বলছেন মার্কিনীদের বিশেষত মহিলাদের ভুঁড়িতে অতিরিক্ত মেদ জমার কারণেই এই বিপত্তি হয়েছে। গড় পড়তা একজন মার্কিন রমণীর কোমরের মাপ সমবয়সী ইংরেজ মহিলাদের চেয়ে কমপক্ষে ৫ সেন্টিমিটার বেশী। আর মার্কিন পুরুষদের কোমর ইংরেজদের চেয়ে ৩ সেন্টিমিটার বেশী। এমন কি যে সকল মার্কিনীর ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী নয়, তাদের কোমরের মাপও ইংরেজদের তুলনায় বেশী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবং ইংল্যান্ডের ৫২ থেকে ৮৫ বছর বয়সের নাগরিকদের ওপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়। ডায়াবেটিসের অন্যান্য যে সকল ঝুঁকি উপাদান রয়েছে সে গুলির বেলায় এই দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য দেখা যায়নি। শুধু একটি ক্ষেত্রেই বড় রকমের পার্থক্য দেখা গিয়েছে। আর সেটা হোল মার্কিনীদের ওজন স্বাভাবিক কিংবা অধিক যাই হোক না কেন, তাদের কোমরের মাপ ইংরেজদের চেয়ে বেশী। এমন কি প্রতি চারজন স্বাভাবিক ওজন বিশিষ্ট মার্কিন নাগরিকদের অন্তত একজনের ভুঁড়িতে সঞ্চিত মেদের পরিমাণ এত বেশী যে তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার অতিরিক্ত ঝুঁকি রয়েছে। ইংরেজদের বেলায় এ হার ১০ শতাংশ। এতদিন ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নির্ধারণের জন্য বি এম আই (Body mass index)-কে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হতো। কিন্তু এখন মনে করা হচ্ছে যার কোমরের মাপ যত বড় এবং ভুঁড়িতে সঞ্চিত চর্বির পরিমাণ যত বেশী , তার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি তত বেশী।
কিন্তু সকলেরই মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ইংরেজদের চেয়ে মার্কিনীদের ভুঁড়িতে কেন অতিরিক্ত মেদ জমলো? এর ব্যাখ্যা এখনও মিলছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে এ ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের বিশেষ ভূমিকা থাকতে পারে। বেশী চর্বিযুক্ত খাবার খেলে এবং শারীরিক পরিশ্রম করলে পেটে চর্বি জমে। ইংরেজদের চেয়ে মার্কিনীরা বেশী চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করে এবং তারা ইংরেজদের চেয়ে কম শারীরিক পরিশ্রম করে। একজন ইংরেজ ভদ্রলোক প্রতিদিন যা হাঁটাহাঁটি করে থাকেন, মার্কিনী ভদ্রলোক তার অর্ধেক হাঁটাহাঁটি করে থাকেন। একজন মার্কিনী যেখানে ৫০০০ পদক্ষেপ দেন, সেখানে একজন ইংরেজ ১০,০০০ ধাপ পা ফেলে থাকেন।
গবেষকদের বিবেচনায় পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এর ফলে অগ্নাশয় ইনসুলিন নিঃসরণ বাধাগ্রস্থ হয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের কাজটিও বিঘ্নিত হয়। ইনসুলিন সঠিক মাত্রায় নিঃসরিত হলে এবং যথাযথ কাজ করতে পারলে রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ যকৃতে সঞ্চয় করে রাখে। কিন্তু পেটে চর্বি বেশী থাকলে এ কাজটি আর ঠিক মতো সম্পন্ন হয় না। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে চর্বি গলে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং গ্লুকোজের মাত্রা আবার স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পায়। সুতরাং এ গবেষণার ফলাফলের মূল বার্তা হচ্ছে, মেদ-ভুঁড়ি  কমাতে হবে। অর্থাৎ সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ , কম ক্যালরি গ্রহণ, প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম করতে হবে। এটা শুধু মার্কিনী কিংবা ইংরেজদের জন্য নয়; ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকলের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য। 

ডায়াবেটিস নিয়ে বিভ্রান্তি



Wvqv‡ewUm wb‡q †jv‡Ki Rjcbv -Kíbvi †kl †bB| Wvqv‡ewUm m¤ú‡K© RbkÖ“wZ Ges åvš— aviYv G †ivMwUi wPwKrmv Ges wbqš¿‡bic‡_ Aš—ivq| GRb¨ Wvqv‡ewUm m¤ú‡K© weåvwš—Ki RbkÖ“wZ wbimb K‡i Rbmvavi‡Yi wbKU cÖK…Z Z_¨ Zz‡j aivi cÖ‡qvRb i‡q‡Q | GLv‡b Avgiv Wvqv‡ewUm m¤úwK©Z KZ¸wj RbkÖ“wZ Ges cÖK…Z Z_¨ wb‡q Av‡jvPbv  K‡iwQ|

RbkÖ“wZ:  Wvqv‡ewUm GKwU ¸i“Zi †ivM bq|
cÖK…Z Z_¨: GB aviYv G‡Kev‡iB wVK bq| cÖwZ eQi ¯—b K¨vÝvi  Ges GBP AvBwf / GBWm †iv‡M hZ †jvK gviv hvq, Wvqv‡ewUm Gi Kvi‡b Zvi †P‡q †ewk †jvK gviv  hvq| cÖwZ wZbRb Wvqv‡ewU‡mi †ivMxi `yBRb ü`‡ivM wKs¤^v c¶vNv‡Z g„Z¨y eiY K‡ib|

RbkÖ“wZ:  †gvUv n‡j  UvBc-2-Wvqv‡ewUm nq|
cÖK…Z Z_¨: ¯’yjKvqZ¡ UvBc-2-Wvqv‡ewU‡mi Rb¨ Aek¨B GKwU SzuwK| wKš‘ Gim‡½ cvwievwiK BwZnvm, RvwZmËv Ges eq‡miI ¸i“Z¡c~Y© Ae`vb i‡q‡Q| AwaKvsk gvbylB Ab¨vb¨ SzuwKi K_v †egvjyg fy‡j wM‡q ïay †gvUv nIqv‡KB †`vlv‡ivc K‡i| gRvi e¨vcvi n‡”Q AwaKvsk †gvUv gvby‡liB Wvqv‡ewUm nq bv; eis hv‡`i Wvqv‡ewUm nq Zv‡`i IRb †ewk bq wKs¤^v ¶xb Kvq|

RbkÖ“wZ: AwZwi³ wPwb †L‡j Wvqv‡ewUm nq|
cÖK…Z Z_¨: GUv †gv‡UB wVK bq| UvBc-1-Wvqv‡ewUm esk MwZ Øviv wbqwš¿Z Ges RwUj GK cÖwµqvq gva¨‡g Gi m~Pbv nq| IRb †ewk n‡j UvBc-2 Wvqv‡ewUm nIqvi SzuwK †e‡o hvq| Avi wPwb wKs¤^v Pwe© hvB Avgiv LvB bv †Kb †gvUv nIqvi m¤¢vebv  me †¶‡ÎB i‡q‡Q| cwiev‡i Kv‡iv Wvqv‡ewUm _vK‡j , Avgv‡`i Aek¨B Lv`¨ wbqš¿b Ki‡Z n‡e Ges wbqwgZ e¨vqg I kixi PP©vi gva¨‡g IRb wVK ivL‡Z n‡e|

RbkÖ“wZ: Wvqv‡ewU‡mi †ivMxi we‡kl ai‡Yi Wvqv‡ewUK Wv‡qU ev c_¨ †meb Ki‡Z nq|
cÖK…Z Z_¨: GKRb mvavib gvby‡li mylg Lvevi Avi Wvqv‡ewUm †ivMxi c‡_¨i g‡a¨ Avm‡j †Kv‡bv cv_©K¨ †bB| mylg Ges ¯^v¯’¨Ki Lvev‡i Aek¨B Pwe© Kg _v‡K ( we‡klZ: mgc„³ Pwe© Ges UªvÝ K¨vU), jeb Ges wPwbi cwigvb cwiwgZ, cÖPzi mwâ Ges dj-g~j †L‡Z n‡e| Avi cÖK„wZRvZ km¨ `vbv †_‡K cÖ¯‘Z kK©iv †ewk _vK‡e| Wvqv‡ewUK Lvevi Avi ÕWv‡qUÕ Kivi Lvev‡ii g‡a¨ GRb¨ Avm‡j †Zgb †Kvb cv_©K¨ †bB| cÖK…Z welq n‡”Q Avgiv AwaKvsk mgq mylgI ¯^v¯’¨Ki Lvevi bv †L‡q A¯^vfvweK, ¶wZKi Ges AwZ cwi‡kvwaZ Lvevi LvB| GUv mvavib gvby‡li Rb¨ †hgb ¶wZKi, Wvqv‡ewUm †ivMxi Rb¨I Dchy³ bq|

RbkÖ“wZ: Kv‡iv Wvqv‡ewUm n‡j Zvi ¯^í cwigvb kK©iv RvZxq Lvevi †hgb - i“wU, fvZ, Avjy BZ¨vw` LvIqv DwPZ|
cÖK…Z Z_¨: kK©iv RvZxq Lvevi ‰`wbK mylg Lvev‡ii ZvwjKvi GKwU Ask | ¸i“Z¡ c~Y© welq n‡PQ Lvev‡ii KZUzKz Ask Ry‡o kK©iv _vKv DwPZ| mvaviYZ mylg Lv`¨ ZvwjKv A‡a©K wKs¤^v wZbfv‡Mi `yB fvM Ry‡o kK©iv RvZxq Lvevi _vK‡Z cv‡i| w`‡b 3 †_‡K 4evi GmKj kK©iv MÖnb Kiv †h‡Z cv‡i| AvKvov M‡gi gq`v w`‡q ˆZwi i“wU, he, fyÆv, fvZ Qvov kK©iv mg„× mwâ †hgb Avjy, kvjMg, gUi wKsev MvRi w`‡q G mKj kK©ivi Pvwn`v c~iY Kiv †h‡Z cv‡i| kK©iv RvZxq Lvev‡i cÖPzi Avuk _v‡K Ges Avuk A‡š¿i  Rb¨ DcKvix|

RbkÖ“wZ: Wvqv‡ewU‡mi †ivMx‡`i wgwó wKsev  PK‡jU LvIqv DwPZ bq|
cÖK…Z Z_¨: mylg Lv`¨ ZvwjKvi Ask wn‡m‡e mxwgZ cwigv‡Y wgwó RvZxq Lv`¨ MÖnb Kiv †h‡Z cv‡i| Z‡e wgwó wKsev PK‡jU †L‡j Aek¨B h‡Zó e¨vqg wKsev kixi PP©v Kivi cÖ‡qvRb i‡q‡Q|

RbkÖ“wZ: Wvqv‡ewUm †ivMxi ms¯ú‡k© Avm‡j Av‡iK R‡bi Wvqv‡ewUm n‡Z cv‡i|
cÖK…Z Z_¨: GUv G‡Kev‡iB mwZ¨ bq| Wvqv‡ewUm †Kvb †Quvqv‡P wKsev msµvgK e¨vwa bq| mw`©-Mwg© wKsev Bbd¬z‡qÄvi g‡Zv GUv GKR‡bi kixi †_‡K Av‡iK R‡bi kix‡i msµwgZ nq bv| Wvqv‡ewUm †iv‡Mi g~‡j i‡q‡Q esk MwZ Ges RxebvPiY c×wZ|

RbkÖ“wZ: Wvqv‡ewUm †ivMx‡`i mw`©-Mwg© Ges Ab¨vb¨  †ivM †ewk nq|
cÖK…Z Z_¨: Wvqv‡ewUm _vK‡jB Kv‡iv AwZwi³ mw`©-Mwg© wKsev GB RvZxq †ivM e¨vwa †ewk nq bv| Z‡e Wvqv‡ewUm †ivMx‡`i Gai‡Yi msµvgK †iv‡Mi wei“‡× UxKv †bIqvi civgk© †`Iqv nq| Kvib Gai‡Yi †ivM n‡j Wvqv‡ewUm wbqš¿b Kiv KwVb nq; Avi Wvqv‡ewUm †ivMx‡`i G ai‡Yi e¨vwa n‡j Zvi RwUjZv  A‡bK mgq ¸i“Zi nq|

RbkÖ“wZ:  UvBc-2 Wvqv‡ewU‡mi †ivMx Bbmywjb Bb‡RKkb †`Iqv A_©B †ivMx  h_vh_fv‡e Wvqv‡ewUm wbqš¿‡b ivL‡Z cvi‡Q b bv|
cÖK…Z Z_¨: UvBc-2 Wvqv‡ewUm GKwU µg AMÖmi gvb †ivM| cÖv_wgK ch©v‡q kbv³ nIqvi c‡i A‡b‡KB  GUv e¨vqvg, Lv`¨ wbqš¿Y Ges gy‡L LvIqvi Ily‡ai Øviv GUv wbqš¿‡Y ivL‡Z cv‡i| wKš‘ GK ch©v‡q kix ‡i Bbmywjb ˆZix  nIqvi cwigvYI K‡g hvq Ges gy‡L LvIqvi Ily‡ai Kvh©KvwiZv nviv‡Z _v‡K| d‡j Bbmywjb Bb‡RKkb w`‡q ZLb Wvqv‡ewUm wbqš¿b Kivi cÖ‡qvRb nq| Bbmywjb e¨envi K‡i M­y‡Kv‡Ri gvÎv wVK ivLv fvj wPwKrmv G‡Z †`v‡li wKQz †bB|

RbkÖ“wZ: djg~j kix‡ii Rb¨ DcKvix | Wvqv‡ewU‡mi †ivMx B‡”Q gZ dj †L‡Z cv‡i|
cÖK…Z Z_¨:  dj DcKvix|  G‡Z cÖPzi Auvk, wfUvwgb Ges LwbR Dcv`vb _v‡K| wKš‘ KZUzKz Ges wK ai‡Yi dj Lv‡eb Zv mylg Lv`¨ ZvwjKvi mv‡_ m½wZ c~Y© n‡Z n‡e| d‡jI cÖPzi kK©iv _v‡K Ges Zv i‡³ M­y‡Kv‡Ri gvÎv evwo‡q w`‡Z cv‡i| GRb¨ dj DcKvix n‡jI cwiwgZ cwigv‡b MÖnb Ki‡Z n‡e|

Wvqv‡ewUm Avgv‡`i mK‡ji AwZ cwiwPZ GKwU †ivM | wKš— Gi m¤ú‡K© fyj avibv Ges weåvwš—  Kg bq | GRb¨ Avgv‡`i cÖ‡Z¨K‡KB Gi m¤ú‡K© m‡PZb _vK‡Z n‡e| 

Friday, 8 February 2013

কোলেস্টেরল কমানোর কয়েকটি কৌশল



আপনার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কত? আপনি যদি পাঁচ বছর আগে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা দেখে থাকেন এবং সেটার পরিমাণ স্বাভাবিক ছিল বলে আনন্দিত হন; তাহলে কিন্তু ভুল হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। চিকিৎসকগণ বলেন যাদের বয়স কুড়ি বছর কিংবা তার চেয়ে বেশী তাদের রক্ত প্রতি পাঁচ বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করে দেখা উচিত।
কারো রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা যদি ২০০ মিঃ গ্রাঃ/ ডেসিলিটারের বেশী হয় কিংবা কম ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল (ক্ষতিকর কোলেস্টেরল)-এর মাত্রা ১০০ মিঃগ্রাঃ/ ডেসিলিটারের বেশী হয় তাহলে এগুলোর পরিমাণ কমানো উচিত। সাধারণত জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করে এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ সেবন করে ছয় সপ্তাহের মধ্যে এগুলোর  পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থায় নামিয়ে আনা যায়।
রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। এ জন্য যে কেউ নীচের এগারোটি সহজ কৌশল অনুসরণ করে উপকৃত হতে পারেনঃ

প্রথমে কোলেস্টেরলের কাঙ্ক্ষিত মাত্রা ঠিক করুন।

আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কত এবং আপনি কতটুকু কমাতে চান। এটা অনেক উপাদানের উপর নির্ভর করে; যেমন-পরিবারের বাবা-মায়ের হৃদরোগের ইতিহাস আছে কিনা এবং আপনার হৃদরোগ হওয়ার   মতো ঝুঁকি রয়েছে কিনা; যেমন-উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপানের অভ্যাস, অতিরিক্ত মেদ-ভুড়ি ইত্যাদি। যাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী তাদের কম ঘনত্বের কোলেস্টেরল বা ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা ৭০ মিঃ গ্রাঃ / ডেসিলিটারের নীচে থাকা উচিত। আর যাদের হৃদরোগের কোন ঝুঁকি উপাদান নেই তাদের ১৬০ মিঃ গ্রাঃ / ডেসিলিটারের নীচে রাখা যেতে পারে। আজকাল যাদের হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে তাদের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল যত শীঘ্র কমানো যায় ততই মঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়।

 প্রয়োজনে ওষুধ সেবন করতে হবে।

যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশী তাদের অবশ্যই জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু যদি হৃদরোগের নমুনা থাকে তা হলে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবন করতে হবে। এ সকল ক্ষেত্রে ধূমপান পরিহার যেমন জরুরী তেমন ওষুধ সেবন করাও দরকারি। জীবনাচরণ পদ্ধতির পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ সেবন করলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। চিকিৎসকগণ কোলেস্টেরল কমানোর জন্য নানা রকম ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন। যেমন- নিয়াসিন, ফাইব্রেটস, স্ট্যাটিনস ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ বেশী জনপ্রিয়। এরা রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল ২০% - ৫০% কমাতে পারে।

হাঁটুন এবং ব্যায়াম করুন।

শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যায়াম শুধু রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায় তাই নয়, উপকারী কোলেস্টেরলের (বেশী ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন কোলেস্টেরল) পরিমাণ ১০% বাড়ায়। মাঝারী পরিমাণ ব্যায়াম কিংবা জোরে জোরে হাঁটলেও এমন উপকার পাওয়া যায়। এজন্য সকল চিকিৎসকের পরামর্শ নৈশ ভোজের পরে কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাঁটুন। কেউ যদি প্রতিদিন দশ হাজার সিঁড়ি উঠানামা করেন তাহলেও উপকৃত হবেন। আর কেউ যদি অফিসে চাকরি করেন, তার উচিত অন্তত প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ মিনিট হাঁটা চলাফেরা করা। আপনি যে ধরণের ব্যায়াম করেন না কেন তা নিয়মিত করতে হবে । সপ্তাহে সাত দিন ব্যায়াম করতে পারলে তো খুবই ভালো। অন্যথায় কমপক্ষে পাঁচ দিন ব্যায়াম করতে হবে।  




  

চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন।

কোলেস্টেরল কমানোর একটি সহজ উপায় হচ্ছে ডিমের কুসুম এবং অন্যান্য বেশী কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার পরিহার করা। তবে এটাও ঠিক যে খাবারের কোলেস্টেরলই রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ানোর জন্য শুধুমাত্র দায়ী নয়। মানুষের শরীরের মধ্যেও প্রতিদিন কোলেস্টেরল তৈরি হয়ে থাকে। যে সকল খাবারে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ বেশী সে সকল খাবারই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। এজন্য সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- মাখন , চর্বিযুক্ত গরু ও খাসীর মাংস ইত্যাদির পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যেমন- সয়াবিন তেল, সূর্যমুখী তেল, জলপাইয়ের তেল, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি বেশী খাওয়া উচিত।

আঁশযুক্ত খাবার বেশী করে খান।  

যে কোন ধরণের সবজী এবং ফলমূল শরীরের জন্য উপকারী। এরা রক্তে কোলেস্টেরলও কমায়। বিশেষত দ্রবণীয় আঁশ পরিপাক নালী থেকে স্পঞ্জের মতো কোলেস্টেরল শুষে নেয়। শিম, বার্লি, ওট ইত্যাদি জাতীয় খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে।

বেশী করে মাছ খান।  

মাছ এবং মাছের তেল কোলেস্টেরল কমাতে পারে। এর ভেতর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এটা খুব সহজে রক্ত থেকে কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য ক্ষতিকর চর্বি কমিয়ে ফেলে। প্রত্যেকেরই সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার মাছ খাওয়া উচিত। অধিকাংশ মাছেই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যদি কেউ মাছ খেতে না পারেন তিনি মাছের তেল থেকে তৈরি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ ক্যাপসুল চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক সেবন করতে পারেন। বিভিন্ন উদ্ভিজ্জাত খাবারেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। যেমন- সয়াবিন তেল, কাঠ বাদামের তেল ইত্যাদি।

গ্রীন টি সেবন করুন।

বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে সবুজ চায়ের ভেতরে রক্তের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমানোর উপাদান রয়েছে। সবুজ ছ সেবন হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী।

বাদাম খান।

বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে প্রমাণিত হয়েছে যে বাদাম খেলে রক্তের কোলেস্টেরল কমে। বিশেষত কাঠ বাদাম এবং কাজু বাদাম উপকারী। বাদামে প্রচুর ক্যালরি রয়েছে। এজন্য পরিমিত পরিমাণে বাদাম খাওয়া উচিত।

ধূমপান পরিহার করুন।

ধূমপান করলে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরল বা বেশী ঘনত্বের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়। অতএব রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশ্যই ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। অতএব রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে হলে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য চিকিৎসকের পরামর্শ যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।


রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।  আমাদের সকলের উচিত কোলেস্টেরল সম্পর্কে জানা। উপরের কৌশলগুলি মেনে চললে আমারা রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবো। প্রয়োজনে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

বিনিদ্র রজনী , তন্দ্রাচ্ছন্ন দিবস




Pvicv‡k †Lqvj Ki‡j †`Lv hvq A‡b‡KB wSgy‡”Qb| ev‡m †h‡Z †h‡Z wes¤^v  K¬v‡m e‡m †jKPvi ïb‡Z ïb‡Z Z›`ªv”Qbœ n‡q c‡o‡Qb| G‡Z †Zgb AevK nIqvi wKQz †bB| KviY A‡b‡KB AwZwi³ Kv‡Ri Pv‡c h‡Zó Nygv‡bvi  dzimr  cvb bv Ges A‡b‡K Zv eyS‡ZI cv‡ib bv| wKš‘ hLb ZLb Nyg Nyg fve wKs¤^v  wb`ªv”QbœZv gvivZ¥K cwibwZ †W‡K Avb‡Z cv‡i|  D`vnib  ¯^iƒc iv¯—vNv‡U UªvwdK wmMbv‡j  jvj evwZi mvg‡b Nywg‡q co‡j wKs¤^v `ª“ZMvgx  evm  wes¤^v Uªv‡Ki PvjK Nywg‡q  co‡j wK n‡Z cv‡i , Zv mevB Rv‡bb| wb`ªvnxbZvi Kvi‡b bvbv iKg kvixwiK †ivM e¨vwa n‡Z cv‡i; †hgb- D”P i³Pvc, ü`‡ivM, Wvqv‡ewUm, ¯’~jKvqZ¡ BZ¨vw`|

AvaywbK Kg©e¨¯— Rxe‡b Avgv‡`i Ny‡gi mgq K‡g hv‡”Q| ˆ`bw›`b Rxe‡b ¯^”QjZv Avb‡Z AwZwi³ cwikªg Ki‡Z wM‡q Ny‡gi cwigvb NvUwZ c‡o hv‡”Q| evsjv‡`‡ki g‡Zv  Dbœqbkxj †`‡k G mgm¨v   GLb †Zgb cÖKU bv n‡jI, DbœZ †`‡k mg~‡n A‡b‡Ki  †Pv‡LB Nyy‡gi AvKvj †`Lv w`‡”Q| ejv nq G g~û‡Z©  Av‡gwiKvi RbMb me‡P‡q  ‡ewk wb`ªv  msK‡U fyM‡Qb| 2001 mv‡ji wb`ªv msµvš— GK Rix‡ci djvd‡j †`Lv hvq gvwK©b hy³iv‡óªi cÖwZ 5Rb bvMwiK Aš—Z 1Rb cÖwZw`b Nygv‡bvi Rb¨ 6 N›Uvi †P‡q Kg mgq cvb| 2001 mv‡ji Rix‡c G Ae¯’v wQj cÖwZ 10 R‡b GK Rb| A_©vr wb`ªv ewÂZ gvby‡li msL¨v  weMZ `k‡K wظb n‡q‡Q|
‡Kb GB wb`ªvnxbZv?
wb`ªv nxbZvi wKs¤^v wb`ªvmsK‡Ui bvbvwea Kvib  i‡q‡Q | AvR‡Ki Zxeª cÖwZ‡hvMxZvgyLi RM‡Z Kv‡Ri AZ¨vwaK Pv‡ci cvkvcvwk i‡q‡Q `vwqZ¡ cvj‡bi cwieZ©b kxj cvjvµg, wegvb åg‡bi AvwaK¨ wg¤^v Kv‡Ri m~Px wVK ivLvi Rb¨ Ny‡gi wbqwgZ mg‡qi KvU-QuvU BZ¨vw`| cÖvZ¨wnK Rxe‡b wb`ªv msK‡U †fvMv  gvbyl R‡bi cvkvcvwk cÖK„Z  wb`ªvnxb †ivMxi msL¨vI wKš‘ †e‡o P‡j‡Q| Gi g‡a¨ D‡j­¨L †hvM¨  n‡”Q - wb`ªv Kv‡j k¦vm eÜ nIqv (Sleep apnoea), AcÖwZ‡iva¨ wb`ªv‡eM (Narcolepsy), Ny‡gi g‡a¨ c` PvÂj¨ (Restless leg syndrome) BZ¨vw`|
Kvib hvB †nvK bv †Kb, w`‡b w`‡b  wb`ªv msKU wKs¤^v wb`ªvnxbZv  †h †e‡o Pj‡Q, G wel‡q †Kvb m‡›`n †bB|

G‡`i A‡b‡KB w`‡bi †ejvq Z›`ªv”Qbœfve KvUv‡bvi Rb¨ AwZwi³ Pv Ges Kwd cvb K‡i _v‡Kb| Gi d‡j iv‡Zi †ejv Zv‡`i Avi I Kg Nyg  n‡”Q| wKš‘ Avm‡j Zviv Kv‡Ri Pv‡c iv‡Z Nygv‡bvi mgq cv‡”Qb Kg| w`‡bi †ejvq wb`ªvPQbœZv  KvUv‡bvi Rb¨ AwZwi³ Pv  ev Kwd cvb Ki‡Z eva¨ n‡”Qb Ges Gi d‡j Avevi Awb`ªvi wkKvi n‡”Qb|
AwaKvsk  eq¯‹ gvby‡li cÖwZ iv‡Z mvZ †_‡K AvU N›Uv Ny‡gi cÖ‡qvRb| Aek¨ e¨w³ †f‡` Kv‡iv Kv‡iv Kg  wKs¤^v ‡ewk Ny‡gi cÖ‡qvRb n‡Z cv‡i| Ny‡gi cwigvb Kg n‡j wKs¤^v Ny‡gi gvb fvj bv n‡j A‡bK Lvivc cwibwZ n‡Z cv‡i|  h‡Zó cwigv‡b fvj Nyg bv nIqv m‡½ bvbv iKg kvixwiK I gvbwmK †ivM e¨vwa nIqvi m¤¢vebv  i‡q‡Q| †hgb- D”Pi³ Pvc, ü`‡ivM, gw¯—‡¯‹i c¶vNvZ, Wvqv‡ewUm, AwZwi³ †g` fywo, ¯§„wZ `ye©jZv, ¯§„wZ åskZv BZ¨vw`| w`‡bi †ejvq hv‡`i  †PvL Ny‡g XyjXyj _v‡K Zv‡`i mvavibZ †Kvb bv †Kvb ai‡bi wb`ªv  msµvš— RwUjZv  i‡q‡Q| wb`ªvi mgm¨v _vK‡j †Kvb e¨vw³ mn‡R Nyg Avm‡Z cv‡i bv  wKs¤^v Nywg‡q _vK‡Z cv‡ib bv wKs¤^v  Ny‡gi g‡a¨ A¯^vfvweK AvPib Ki‡Z cv‡ib| †hgb- Ny‡gi g‡a¨ †nu‡U †eov‡bv| A‡b‡K wb`ªvi mgm¨vi Rb¨ w`‡bi †ejv q  AcÖw Z†iva¨  Ny‡g Aµvš— n‡Z cv‡ib|
‡h‡Kvb †ivMxi Ny‡gi mgm¨v _vK‡j cÖ_gZ `ywU cÖkœ Rv‡M, - Zv‡`i wK Ny‡gi cwigvb Kg bvwK Ny‡gi gvb fvj bq? hv‡`i AvswkK wKs¤^v gv‡S gv‡S wKs¤^v `xN© †gqv`x Ny‡gi NvUwZ i‡q‡Q, Zviv hw` h‡_ó cwigv‡b Nywg‡q †bb Zvn‡jB w`‡bi †ejvB wb`ªv”Qbœ fve †K‡U hvq|
hv‡`i Ny‡gi cwigv‡b †Kvb NvUwZ †bB Zv‡`i mvavibZ Ny‡gi gvb fvj bq| Ny‡gi gvb fvj bv nIqvi wKQz j¶b ev DcmM© i‡q‡Q| †hgb-
·       memgqB Nyg Avm‡Z wÎk wgwb‡Ui †ewk mgq jv‡M|
·       Ny‡gi wfZ‡i gv‡S gv‡S †R‡M DVv Ges  Avevi Nygv‡Z †`ix nIqv|
·       w`‡bi †ejv Nb Nb Ny‡gi Szj Avmv Ges †hLv‡b †mLv‡b Nywg‡q cov|
·       bvK WvKv, k¦vm Kó nIqv, nVvr nVvr `g eÜ n‡q Avmv BZ¨vw` mgm¨v  _vK‡jI Ny‡gi gvb fvj nqbv| GB mgm¨v ¸wj mvavibZ †ivMxi cv‡k whwb Nygvb wZwb fvj ej‡Z cv‡ib|
·       Ny‡gi g‡a¨ nvZ wKs¤^v cv‡q wSbwSb Kiv, KuvUv –KvuUv Abyf~wZ nIqv|
·       Ny‡gi mgq nvZ wKs¤^v cv †Ku‡c DVv wKs¤^v  wLPzwb nIqv|
·       Ny‡gi †_‡K RvMvi c‡i gv_v e¨v_v nIqv|
·       Nyg Avmvi mgq ¯^cœ †`Lv wKs¤^v ¯^cœv”Qbœ nIqv|
·       Ny‡gi g‡a¨ A¯^vfvweK AvPib  Kiv| †hgb- Ny‡gi g‡a¨ †nu‡U †eov‡bv|
·       nvm‡j, Kuv`‡j wKs¤^v †i‡M †M‡j  nVvr K‡i †ckx  Aek n‡q hvIqv |
·       Nyg †_‡K RvMvi ci nvZ -cv  bovPov Ki‡Z bv cviv|

Nyg msµvš— RwUj e¨wai msL¨v  bMY¨| A‡b‡Ki ÕAwZ wb`ªvÕ n‡Z †`Lv hvq| AwZwb`ªv †iv‡M (Hypersomnia) Avµvš— e¨vw³ K‡qK w`b hveZ µgvMZ Nygvb Ges Zvici ¯^vfvweK Ae¯’vq wd‡i Av‡mb| AwZwb`ªvi mgq Avµvš— e¨w³ cÖwZw`b 16 †_‡K 18 N›Uv Nygv‡Z cv‡ib|
G Qvov  AviI KZK ¸wj wb`ªv msµvš—  ‡iv‡Mi bvg D‡j­L bv Ki‡jB  bq| †hgb- wb`ªvnxbZv(Insomnia) , wb`ªvKvjxb k¦vm Ave×Zv (Sleep apnoea), wb`ªvKvjxb c`  PvÂj¨ (Restless leg syndrome), wb`ªv Kvjxb A¯^vfvweK AvPib(Parasomnia), AcÖwZ‡iva¨ wb`ªv‡eM(Narcolepsy) BZ¨vw`|
Wb`ªvnxbZvi(Insomnia) GKwU AwZ cwiwPZ mgm¨v| Gi d‡j Avµvš— e¨w³ Nyg Av‡mbv wKs¤^v Nywg‡q _vK‡Z cv‡ibv | AwZwi³ Pv-Kwd cvb, D‡ØM-`ywðš—v  Qvov  bvbvwea kvixwiK †iv‡Mi Kvi‡YI wb`ªvnxbZv n‡Z cv‡i| G Qvov wb`ªv RwbZ RwUjZvi Rb¨I wb`ªvnxbZv †`Lv hvq| GRb¨ wb`ªvnxbZvi mgm¨v †K  Ae‡njv  bv  K‡i GKRb Dchy³ wPwKrm‡Ki civgk© MÖnb Kiv DwPZ|
Wb`ªvKvjxb k¦vm Ave×Zv (Sleep apnoea) : Gi d‡j †ivMxi AwZwi³ bvK Wv‡K, k¦vm Kô nq Ges GK ch©v‡q wKQz mg‡qi Rb¨ †ivMxi `g eÜ n‡q hvq| d‡j †ivMx  Nyg †_‡K †R‡M hvq Ges D‡V e‡m; A‡b†K AvZw¼Z †evaI K‡ib| Nygv‡bvi ci GB iKg NUbvi cybive„wË n‡Z cv‡i| Ny‡gi g‡a¨ gv‡S gv‡S k¦vm eÜ _vK‡j gw¯—‡®‹i Ges kix‡ii Ab¨vb¨ A‡½ AwKª‡Rb cÖevn wewNœZ nq| d‡j G ai‡bi †ivMxiv mvivw`b Aembœ †eva K‡ib Ges wb`ªvjy _v‡Kb| wb`ªvKvjxb k¦vm Ave×Zvi cwiYwZ ¸i“Zi n‡Z cv‡i| Gi d‡j †ivMxi D”P i³ Pvc , ü`‡ivM, wKs¤^v gw¯—‡®‹i c¶vNvZ nIqvi m¤¢vebv _v‡K|
wb`ªvKvjxb c`PvÂj¨ (Restless leg syndrome): Gi d‡j Avµvš— e¨w³ Nygv‡bvi mgq cv bov -Pov Kivi  GKwU A`g¨ B”Qv Abyfe K‡ib| A‡bK mgq cv‡q R¡vjv †cvov, wSbwSb Kiv wKs¤^v  e¨_vi Abyf~wZ nq| Gi d‡j Ny‡gi weNœ N‡U _v‡K|
wb`ªvKvjxb A¯^vfvweK APiY (Parasomnia): A‡b‡KB Ny‡gi wfZi A¯^vfvweK APib K‡ib| †KB Ny‡gi †Nv‡i †n‡U †eovb, K_v e‡jb, gv_v bv‡ob wKs¤^v  AvZ‡¼ Nyg †_‡K †R‡M  D‡V  wPrKvi  ˆn‰P K‡ib| `ª“Z Aw¶N~Y©b wb`ªvi  (Rapid eye movement sleep) †Kvb †Kvb chv©‡q Nygš— e¨w³ jvw_ wKs¤^v Nywl  gvi‡Z cv‡ib Ges G ¸wj  Nygš— e¨w³i  AÁZmv‡i Awb”QvK„Z fv‡e  N‡U _v‡K|
AcÖwZ‡iva¨ wb`ªv‡eM (Narcolepsy): Gi d‡j Avµvš— e¨w³ †R‡M _vKv Ae¯’vq nVvr cÖPÛ Ny‡gi †eM Abyfe K‡ib Ges †h †Kvb ¯’v‡b Ny‡g X‡j c‡ob| A‡b‡Ki nvZ cv mvgwqK fv‡e Aek n‡h hvq Ges Nyg †_‡K †R‡M DVvi ciI A‡bK¶Y bov-Pov Ki‡Z cv‡ib bv|
AZGe ej‡Z nq cÖvZ¨wnK Rxe‡b cvbvnv‡ii g‡Zv cwiwgZ ¯^w¯—`vqK Nyg AwZ cÖ‡qvRbxq| wbN©yg ivZ KvUv‡bv GKwU Awfkvc| Ny‡gi †h †Kvb  ai‡bi mgm¨v‡K Lv‡Uv K‡I †`Lvi AeKvk †bB| Kvib Gi d‡j A‡bK ¸i“Zi RwUjZv m„wó n‡Z cv‡i| G ai‡bi mgm¨v  m„wó nIqvi c~‡e©B  wPwKrm‡Ki civgk©  MÖnb Kiv DwPZ|

রজঃনিবৃত্তি এবং উচ্চ রক্তচাপ




মনে রাখা দরকার রজঃনিবৃত্তি কোনো ব্যাধি নয়। প্রকৃতির নিয়মে যে শিশুকন্যাটির ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সে রজঃস্রাবের শুরুর মধ্য দিয়ে নারীজীবনের শুরু হয়েছিল, ৪৫-৫৫ বছর বয়সে সেই রজঃচক্র সমাপনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতার ইতি সাধিত হয়। সাধারণত সর্বশেষ রজঃস্রাবের ১২ মাস বন্ধ থাকলে তাকে রজঃনিবৃত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। রজঃনিবৃত্তি মেয়েদের জীবনের একটি অমোঘ প্রাকৃতিক পরিবর্তন হলেও এবং একে বিশেষ কোনো রোগ বলা না গেলেও এ সময়ে নানাবিধ শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার উদ্ভব হতে দেখা যায়। রজঃনিবৃত্তিকালে মহিলাদের নিদ্রাহীনতা, মানসিক অস্থিরতা, কাজকর্মে অনীহা, বুক ধড়ফড় করা, শরীরে অতিরিক্ত উত্তাপ অনুভব করা, চুল পড়ে যাওয়া, স্তন কৃশতা ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের উপসর্গ সৃষ্টি হয় এবং সার্বিকভাবে এক ধরনের বিষণ্ন্নতা বোধ, অজ্ঞাত কিছু হারানোর বেদনা চেতনাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। রজঃস্বলা নারীর সার্বিকভাবে হৃদরোগের সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু রজঃনিবৃত্তির পরে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন প্রবাহ কমে যায়। এর ফলে মহিলাদেরও এ পর্যায়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ সময় অনেক মহিলার রক্তচাপও বাড়তে দেখা যায়। অনেকের ধারণা রজঃনিবৃত্তির সময় শরীরের মধ্যে হরমোনের ছন্দময় প্রবাহের পরিবর্তনের ফলে রক্তচাপ বাড়ে।
আবার অনেকের ধারণা এ সময়ে মহিলাদের শরীরের ঘনত্ব সূচকে পরিবর্তন ও এ জন্য দায়ী হতে পারে। রজঃনিবৃত্তির পর অনেকে হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এর ফলেও অনেকের রক্তচাপ বাড়তে পারে। ১৯৭৬ সালের ফ্রামিংহাম পর্যবেক্ষণে অবশ্য রজঃনিবৃত্তির পরে মহিলাদের রক্ত চাপ বাড়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে রক্তে উল্লেখযোগ্য কোলেস্টেরল বাড়ার নজির পাওয়া গিয়েছিল।
আগে বাংলাদেশের মানুষের গড়আয়ু অনেক কম ছিল এবং মাতৃ মৃত্যুর হার অনেক বেশি ছিল। ফলে রজঃনিবৃত্তির পরবর্তী সমস্যা নিয়ে মহিলারা খুব কমই চিকিৎসকের কাছে আসতেন। এখন পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র বদলে গিয়েছে। আমাদের গড়আয়ু অনেক বেড়েছে এবং মাতৃমৃত্যুর হার ব্যাপকভাবে কমেছে। মেয়েদের শিক্ষার হার এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা আনুপাতিকহারে বেড়েছে। ফলে মহিলাদের রজঃনিবৃত্তির পরবর্তী সমস্যা এখন ব্যাপকভাবে চিকিৎসকদের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হয়তো এগুলো আরো বাড়বে।
প্রশ্ন হচ্ছে রজঃনিবৃত্তির পর রক্তচাপ বাড়া কীভাবে সামাল দেয়া যাবে। এর উত্তরে এক কথায় বলা যায়- জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। রজঃনিবৃত্তি উচ্চ রক্তচাপের কারণে হোক কিংবা না হোক আধুনিক জীবনাচরণ রক্তচাপ বাড়ানোর সহায়ক। অতএব উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করতে হলে একজন পুরুষের যেমন জীবনাচরণ পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, তেমনি রজঃনিবৃত্তির পর একজন মহিলারও জীবনাচরণ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অতএব রজঃনিবৃত্তির পর-

  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • হৃদ-বান্ধব খাওয়া-দাওয়া করতে হবে।
  • পাতে লবণ একেবারে পরিহার করতে হবে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম এবং শরীরচর্চা করতে হবে।
  • অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রা সীমিত রাখতে হবে।
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

এরপরও রজঃনিবৃত্তির পর যদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। 

Wednesday, 6 February 2013

অ্যানড্রোপজঃ পুরুষত্বের ইতি




বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরে হরমোনের মাত্রা পরিবর্তিত হতে থাকে। মেয়েদের নিয়মিত রজঃস্রাবের জন্য দায়ী যে সকল হরমোন, সাধারণত ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সে তা সহসা কমে যায় এবং রজঃনিবৃত্তি ঘটে। ইংরেজীতে একে মেনোপজ (Menopause) বলা হয়। পুরুষদের বেলায় পুরুষত্বের জন্য দায়ী হরমোনের মাত্রা এমন সহসা কমে যায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে এর মাত্রা কমতে থাকে এবং এই পরিবর্তন কয়েক বছর ধরে চলে। এক পর্যায়ে পুরুষত্বের অনেক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যায়। এক কোথায় একে পুরুষদের মেনোপজ বলা যায়। অধিকাংশ চিকিৎসা বিজ্ঞানী পুরুষত্বের বৈশিষ্ট্যসমূহ লোপ পাওয়াকে অ্যান্ড্রোপজ (Andropause) বলে থাকেন।
পুরুষত্বের জন্য দায়ী মূল হরমোন টেস্টোস্টেরন।টেস্টোস্টেরন শরীরে কমে যাওয়ার কারণে আন্ড্রোপজ হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে মেনোপজ বা রজঃস্রাব নিবৃত্তি হলে ডিম্বস্ফোটন(Ovulation) বন্ধ হয়ে যায়। আর নিয়মিত মাসিক রজঃস্রাব হয় না। এ পরিবর্তনগুলি খুবই দৃশ্যমান । পাশাপাশি রজঃনিবৃত্তির জন্য মহিলাদের নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে থাকে। অনেক মহিলা রজঃনিবৃত্তির শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন তীব্রভাবে অনুভব করেন; এমন কি এজন্য তারা চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য হন। আবার অনেকে এ সকল পরিবর্তন তেমন আমলে নেন না এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। পক্ষান্তরে পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে থাকে। ফলে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি সহসা তেমনভাবে দৃশ্যমান হয় না। এজন্য অ্যান্ড্রোপজ কখন ঘটে যায় তা অনেক পুরুষই উপলব্ধি করতে পারেন না। কিন্তু টেস্টোস্টেরন হরমোনের অভাবে পুরুষের যৌন চাহিদা, মানসিক শক্তি ইত্যাদি ক্রমশ পরিবর্তিত হতে থাকে। এ সকল পরিবর্তন সকলের অগোচরে ঘটে বিধায় তা সরাসরি দৃশ্যমান হয় না।
ব্যক্তিবিশেষে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ব্যাপক ভিন্নতা দেখা যায়। কম বয়সী যুবকদের চেয়ে স্বাভাবিকভাবে বয়স্ক পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকে। বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে শুরু করে। গড় পড়তা ৩০ বছর বয়স হওয়ার পরে এর মাত্রা প্রতিবছর ১% করে কমে; সাধারণত ৭০ বছর বয়স্ক পুরুষের শরীরে এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেক কমে যায়। কারও কারও এ মাত্রা আরও কমে যেতে পারে। স্বভাবত একজন পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বয়স বাড়ার জন্য কমেছে, নাকি অন্য কোন রোগ-ব্যাধির জন্য কমেছে তা মুল্যায়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। উপযুক্ত চিকিৎসা না করলে অনেক কারণেই টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়; যেমনঃ নিদ্রাকালীন শ্বাস আবদ্ধতা (Obstructive sleep apnoea)
একটা প্রশ্ন সকলের মনেই জাগতে পারে-কেমন করে বুঝব শরীরে টেস্টোস্টেরনের  মাত্রা কমেছে কিনা? সাধারণত অনেক পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলেও তেমন কোন লক্ষণ-উপসর্গ প্রকাশ পায় না। আবার অনেকের নানা রকম লক্ষন-উপসর্গ দেখা যায়। যেমনঃ
  • পুরুষের স্বাভাবিক যৌনাচরণের পরিবর্তন। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে পুরুষের যৌন চাহিদা হ্রাস পায়; এমনকি নপুংশতা দেখা দিতে পারে।অনেকের অণ্ডকোষ দুটি আকারে-আকৃতিতে ছোট হয়ে যায় এবং যৌন দুর্বলতা দেখা দেয়।
  • ঘুমের পরিবর্তনঃ টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ফলে অনেক পুরুষের ঘুমের ধরণ বদলে যায়। আবার অনেকে নিদ্রাহীনতায় ভুগতে পারেন।
  • শারীরিক পরিবর্তনঃ টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমার ফলে পুরুষের শরীরে নানাবিধ পরিবর্তন ঘটে থাকে। যেমন- শরীরে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়, পেশীর পরিমাণ কমে যায় এবং ভারী শারীরিক কসরত করার ক্ষমতা কমে যায়। এ ছাড়া হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। অনেক পুরুষের স্তন বৃদ্ধি ঘটে এবং তা ব্যথাযুক্ত হতে পারে। অনেকের মাথার চুল পড়ে যায় এবং টাক দেখা যায় এবং কেউ কেউ হঠাৎ হঠাৎ শরীরে উত্তাপের ঝলক সৃষ্টি হয় বলে অনুভব করে থাকেন।
  • মানসিক পরিবর্তনঃ টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের কর্মস্পৃহা অনেক কমে যায়। কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলার পাশাপাশি অনেকে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। যৌবনের যে উৎসাহ-উদ্দীপনা, মনের জোর, সব জয় করার এক উদগ্র বাসনা; টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ কমার ফলে তা কোথায় যেন উবে যায়। অনেকে কোন কাজে একভাবে মনঃসংযোগ করতে পারেন না, স্মৃতিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসে; এমনকি অনেকে বিভিন্ন মাত্রার বিষণ্ণতায় ভুগতে পারেন।
আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, বয়স বাড়ার ফলে এ সকল শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই ঘটতে পারে। তবে অনেক সময় অন্যান্য শারীরিক অসুখ-বিসুখ যেমনঃ থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা, বিষণ্ণতা রোগ, অতিরিক্ত মদ্যপান ইত্যাদি কিংবা ওষুধ সেবনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসাবেও এ রকম হতে পারে। সুতরাং একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত।
মহিলাদের রজঃনিবৃত্তি কোন রোগ নয়; এটা জীবনের একটি স্বাভাবিক অমোঘ পরিবর্তন। একদিন কিশোরী যেমন রজঃস্রাব শুরুর মাধ্যমে নারীতে পরিণত হন, তেমনি রজঃনিবৃত্তির মাধ্যমে তিনি জীবনে প্রৌঢ়ত্বের অন্য এক স্তরে উপনীত হন।  নারী জীবনে রজঃস্রাব শুরু হওয়া যেমন কোন অসুখ নয়, রজঃস্রাবের নিবৃত্তিও তেমন কোন ব্যাধি নয়। একই ধারাবাহিকতায় পুরুষের পরিণত বয়সে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ফলে পুরুষত্বের ইতি বা অ্যান্ড্রোপজও কোন অসুখ নয়। এটি জীবনের একটি পরিবর্তিত ধাপ বা পর্যায় মাত্র। এটাকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়ে জীবনের এই নতুন পর্যায়টিকে উপভোগ করা এবং আনন্দমুখর করে তোলা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তবে এ পরিবর্তন সম্পর্কে কোন সংশয় থাকলে কিংবা টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া নিয়ে কোন সন্দেহ থাকলে, অবশ্যই চিকিৎসকের স্মরনাপন্ন হতে হবে। শেষ বয়সে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পুনরায় টেস্টোস্টেরন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে কতগুলি বিষয় খেয়াল রাখা উপকারীঃ
·         চিকিৎসকের সঙ্গে এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলা উত্তম। সমস্যাগুলি যদি বয়স বাড়ার কারণে না হয়ে অন্য কোন অসুখ-বিসুখ কিংবা ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার কারণে হয়, তাহলে তার সমাধান করা যেতে পারে।
·         জীবনাচরণ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। যেমন- স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীর চর্চা করা ইত্যাদি। সুস্থ জীবনাচরণ  শারীরিক শক্তি ও মানসিক উদ্দীপনা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক।
·         বিষণ্ণতার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। আগেই বলা হয়েছে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে পুরুষের কর্মস্পৃহা, মানসিক উৎসাহ-উদ্দীপনা অনেক হ্রাস পায়। এছাড়া বিষণ্ণতার কারণে অনেকের মেজাজ খিট খিটে হয়ে যায়, নিঃসঙ্গ থাকতে পছন্দ করেন এবং সামাজিক কর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা, অতিরিক্ত নেশা করা কিংবা বিপজ্জনক কাজকর্ম করাও বিষণ্ণতার কারণে হতে পারে।
·         বনজ ওষুধ সেবনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এটা খুবই পরিস্কার যে বয়স বাড়ার ফলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে তা গাছগাছড়ার কিংবা পাতার রস খেয়ে বাড়ানো যায় না। অনেকক্ষেত্রেই এসকল বনজ ওষুধের কার্যকারীতার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং এগুলি সেবন করে যকৃত কিংবা কিডনি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
·         অনেকে ক্ষেত্রে  টেস্টোস্টেরন প্রতিস্থাপন চিকিৎসায় অনেকে উপকৃত হয়ে থাকেন। তবে এর কার্যকারীতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অতএব একজন উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এরকম ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

নিয়মিত শরীরচর্চার উপকারিতা





নিয়মিত ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করলে নানারকম দীর্ঘমেয়াদি রোগব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা যায়, ওজন কমানো যায়, ভালো ঘুম হয় কিংবা মানসিক প্রশান্তি আসে। যে কোনো বয়সী মানুষের জন্য; পুরুষ-নারী নির্বিশেষে সবার জন্য ব্যয়াম প্রযোজ্য। ব্যায়ামের আরও নানাবিধ উপকার রয়েছে। সে সম্পর্কে আজকের আলোচনা

ব্যায়াম মনকে চাঙ্গা করে

শরীরচর্চা করলে মস্তিষ্ক থেকে নানারকম রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এসব রাসায়নিক উপাদান চিত্ত প্রফুল্ল করে এবং শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি চেহারায় লাবণ্য ও ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়। ফলে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা বোধ অনেক বেড়ে যায়। নিয়মিত শরীরচর্চাকারীকে বিষণ্নতা কিংবা হতাশা খুব সহজে গ্রাস করতে পারে না।

ক্রনিক রোগ প্রতিরোধ করে

বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনে হাঁটাহাঁটির প্রয়োজন হয় না বললেই চলে, আর আমাদের খাদ্যাভ্যাসও বদলে গেছে। ফলে দিন দিন ক্রনিক রোগব্যাধি যেমন-হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার ইত্যাদির প্রকোপ বহুগুণে বেড়েছে। প্রতিদিন হাঁটলে, দৌড়ালে কিংবা শরীরচর্চা করলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না; কোলেস্টেরলের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়মিত শারীরিক কসরৎ রক্তে 'ভালো' কোলেস্টেরলের (High density lipoprotein -HDL) পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় আর 'মন্দ' কোলেস্টেরলের (Low density lipoprotein-LDL) মাত্রা কমিয়ে দেয়। এর ফলে রক্তনালীতে চর্বির পুরু আস্তর জমতে পারে না, ফলে হৃদরোগ হওয়ার ভয় কমে যায়।

 শরীরের ওজন কমে

যাদের ওজন বাড়তি, তাদের ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। বাড়তি ওজন মানেই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিংবা ক্যান্সারের ঝুঁকি। শারীরিক পরিশ্রম করলে ক্যালরি খরচ হয়। যত বেশি ক্যালরি খরচ করা যাবে, শরীরের ওজন তত নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এর জন্য যে প্রতিদিন প্রচুর সময় দিতে হবে তা কিন্তু নয়। লিফট দিয়ে না উঠে আমরা সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারি, টিভি দেখার পরিবর্তে আধঘণ্টা হাঁটতে পারি, অফিস যাওয়ার সময় হেঁটে যেতে কিংবা হেঁটে বাসায় ফিরতে পারি, এভাবে আমরা যতই শারীরিক পরিশ্রম করব ততই আমাদের ক্যালরি খরচ বাড়বে এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

কর্মস্পৃহা বাড়ায়

ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার ফলে আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে অতিরিক্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ হয়। আমাদের হৃদযন্ত্র এবং রক্তনালী সচল থাকে। এর ফলে পুরো শরীরে একটি প্রাণস্পন্দন ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এটি আমাদের কর্মস্পৃহা বাড়ায়, কাজ-কর্মে ও লেখাপড়ায় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

সুনিদ্রা আনে

যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ব্যায়াম অত্যন্ত উপকারী। ব্যায়াম অনিদ্রা দূর করে, অতি নিদ্রা হ্রাস করে। নিয়মিত যিনি শরীরচর্চা করেন তার ঘুম আসার কোনো সমস্যা হয় না এবং গভীর ঘুম হয়। অবশ্য একেবারে ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করা উচিত নয়। কারণ ব্যায়ামের পরে মানসিক চাঙ্গা ভাবের কারণে ঘুম আসা বিলম্বিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রত্যুষে ব্যায়াম করা উপকারী।

নিয়মিত ব্যায়াম একটি মজাদার অভিজ্ঞতা


অবসর সময় কিভাবে কাটানো যায়, এ নিয়ে যাদের সমস্যা, ব্যায়াম তাদের জন্য অতি উৎকৃষ্ট সমাধান। হাতে করার কিছু না থাকলে আধঘণ্টা দৌড়ানো কিংবা হাঁটার চেয়ে মজাদার কোনো কাজ হতে পারে না। যারা নাচতে জানেন, তারা আধঘণ্টা নাচের অনুশীলন করতে পারেন। সাঁতার কাটা, বাইসাইকেল চালানো কিংবা মাঠে গিয়ে ফুটবল খেলা, যাই হোক না কেন শরীরচর্চা মানেই নির্ভেজাল আনন্দ আর শরীরের জন্য নানাবিধ উপকার ষোল আনা।

অতএব আধুনিক যান্ত্রিক জীবনে শরীরের যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক রাখতে, রোগ-ব্যাধির তাড়না থেকে দূরে থাকতে, মনকে উদ্দীপিত ও চাঙ্গা করতে ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। যে কোনো বয়সের নারী-পুরুষের সুস্থতার জন্য ব্যায়াম বা শরীর চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জীবনকে ত্বরান্বিত করতে পারে সুস্থতার দিকে।