শরীর ও মন নিয়ে লেখালেখি

Tuesday, 11 February 2014

ভার্চুয়াল চিকিৎসা জগত ২০১৩

কালের স্রোতে ২০১৩ সাল এখন অতীত হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা জগতে ২০১৩ সাল অনেক নতুন প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। এসম্পর্কে আলোচনা করা যেতে পারে।
২০১৩ সালের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে প্যাথলজি ল্যাবে পরিবর্তনের হাওয়া । সাধারণত রোগীদের রক্ত পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। এতদিন একাধিক কাঁচের কিংবা প্লাস্টিক নলে রক্ত সংগ্রহ করা হতো। ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আবার রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সময়মত পাওয়া নিয়ে নানান ঝামেলায় পড়তে হয়। এক্ষেত্রে সত্যি সত্যি পরিবর্তন ঘটাবে থেরানস(theranos) প্রযুক্তি। অত্যাধুনিক এই মাইক্রোফ্লুয়িড প্রযুক্তির সাহায্যে সামান্য কয়েক ফোঁটা রক্ত দিয়ে শত শত পরীক্ষা করা যাবে, এর প্রতিটির খরচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাবে এবং পরীক্ষার রিপোর্ট সরাসরি রোগী এবং চিকিৎসকের নিকট পৌঁছে যাবে। বিগত ৬০ বছরের মধ্যে এটাকে প্যাথলজি ল্যাবে বড় ধরণের পরিবর্তন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এসম্পর্কে আরও জানতে চাইলে http://www.theranos.com –এ দেখতে পারেন। 
দ্বিতীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে বলা হচ্ছে জেনেটিক পরীক্ষার ওপর চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রণের শিথিলতা। এতদিন যে কোন রোগ কিংবা রোগের ঝুঁকি শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষা করতে হলে রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ দরকার হতো।  কিন্তু শীগগিরই রোগীরা তাদের চাহিদামত পরীক্ষা সরাসরি করাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ২০১৩ সালের মে মাসে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তার স্তন ক্যানসার ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য একটি বিশেষ ধরণের জেনেটিক পরীক্ষা (BRCA 1,2 gene শনাক্তকরণ) করিয়েছিলেন। সেটা পজিটিভ হওয়ার ফলে তিনি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ক্যানসার না হলেও আগেভাগেই তার দুই স্তন অপারেশন করে ফেলে দিয়েছেন। স্তন ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য “অ্যাঞ্জেলিনা ইফেক্ট(Angelina effect)” সারা দুনিয়াজুড়ে বেশ ভালই অনুভূত হচ্ছে। এখন কেউ ইচ্ছে করলে তার স্তন ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি আছে কিনা তা জানার জন্য এ পরীক্ষা নিজেই সরাসরি করাতে পারবে। গর্ভবতী মায়েরাও তাদের অনাগত সন্তানের কোন জন্মগত রোগের ঝুঁকি আছে কিনা তা শনাক্ত করার কয়েকটি পরীক্ষাও নিজে থেকে করাতে পারবে। এরফলে অচিরে জেনেটিক পরীক্ষা করানোর ব্যবসা বেশ ফুলে-ফেঁপে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল এবং ডাক্তারের চেম্বার থেকে সেবা গ্রহণের প্রবণতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। একটি কোম্পানির পর্যবেক্ষণে দেখা যায় শতকরা ৭০ জন রোগী হাসপাতাল কিংবা ডাক্তারের চেম্বারে না যেয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চিকিৎসা সেবা নিতে বেশী আগ্রহী।  হয়তো সেদিন আর বেশী দূরে নয় যখন মানুষ সশরীরে  হাসপাতালে না যেয়ে ঘরে বসে ভার্চুয়াল হাসপাতাল থেকে সেবা গ্রহণ করাকেই বেশী পছন্দ করবে।
আরেকটি বড় পরিবর্তন আসছে মানুষের শরীর ট্র্যাকিং করার বিষয়ে। গত বছর মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এমন কিছু স্মার্ট ফোনের অনুমোদন দিয়েছে যার সাহায্যে কারো হৃদপিণ্ডের কার্যকলাপ  বা ই সি জি রেকর্ড করবে এবং ফোনের মাধ্যমে তা হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসকের নিকট পৌঁছে যাবে। এমন ঘড়ি তৈরি করা হয়েছে যা প্রতি মুহূর্তে মানুষের রক্তচাপ রেকর্ড করবে। ফলে আশা করা হচ্ছে অচিরেই মানুষের শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ খুব সহজেই রেকর্ড করা বা ট্র্যাক করা যাবে এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটা বড় রকমের পরিবর্তন আনবে।

চিকিৎসা জগতে ২০১৩ সাল প্রকৃতই ডিজিটাল পরিবর্তনের হাওয়া এনেছে এবং স্বভাবতই আশা করা হচ্ছে এটা অব্যাহত থাকবে। হয়তো সেদিন বেশী দূরে নয় যখন আমরা ভার্চুয়াল চিকিৎসা জগতের বাসিন্দা হয়ে যাবো।

Saturday, 8 February 2014

“সামাজিক টীকা”

মানুষ সামাজিক প্রাণী। সুস্থ শরীর ও মনের জন্য সামাজিক বন্ধন বিশেষ দরকারি। সুন্দর সামাজিক সম্পর্ক মানুষের সুস্থতার জন্য যেমন উপকারী, তেমন দীর্ঘজীবী হতে সাহায্য করে। সামাজিক সম্পর্কের অভাব এবং নিঃসঙ্গতা হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ায়, ভাইরাস সংক্রমণ বেশী হয় এবং ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অনেকে এজন্য এখন মনে করছেন “বন্ধুত্ব” একধরণের “সামাজিক টীকা” বা "social vaccine"। বন্ধুত্ব শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  
বিভিন্ন সমাজে বন্ধুত্বের রকমফের রয়েছে।

জার্মানিতে বন্ধুত্বের জন্য আনুগত্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বভাবতই বন্ধুরা বিপদে-আপদে একে অপরকে সাহায্য করবে-এটাই আশা করা হয়। জার্মানদের বন্ধু সংখ্যা কম। কিন্তু কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব হলে তা দীর্ঘ স্থায়ী হয়। একই কথা প্রযোজ্য রুশদের বেলাতেও। তাদেরও বন্ধু সংখ্যা কম। কিন্তু যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়  তাদের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ আন্তরিকতা থাকে। এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়। বন্ধুত্বের জন্য আরবরা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতেও পিছ পা হয় না। মার্কিনীদের ব্যক্তিগত বন্ধুর সংখ্যা আগের চেয়ে গড়ে কমে গিয়েছে। প্রতি ৪ জনের মধ্যে ১ জনের নিজের পরিবার ছাড়া কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধুই নেই। আগে প্রত্যেক মার্কিনীর গড়ে ৪ জন বন্ধু থাকতো; এখন সে সংখ্যা কমে ২ জন হয়েছে। আগে তারা বিপদে আপদে শতকরা ৫৭ ভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের ওপর নির্ভর করতো; এখন নির্ভরতা ৮০%।  বন্ধু সংখ্যা এমন কমে যাওয়ার ফলে তাদের মানসিক সুস্থতা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন।

প্রকৃত বন্ধুত্ব স্বতঃস্ফূর্ত। বন্ধুর প্রতি বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, আন্তরিকতা এবং সততার সঙ্গে সাহায্য করার ইচ্ছা থেকে উৎসারিত। বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সামাজিক সংগঠনের কাজ কর্মে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং তা আমাদের সুখী ও আনন্দময় জীবন গড়তে সাহায্য করে। সমস্যার সময় ছাড়াও বন্ধুরা আমাদের স্বাস্থ্যকর জীবনাচরণ মেনে চলতে সাহায্য করতে পারে। বন্ধুত্ব আসলে আমাদের মানসিক সুস্থতার একটি মূল্যবান চাবি কাঠি। 

আমরা নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেললেও একজন প্রকৃত বন্ধু আমাদের প্রতি আস্থা রাখে । অন্য যে কারও চেয়ে একজন বন্ধু আমাদের সমস্যা অনেক ভালো বুঝতে পারে; তারা শুধু আমরা যা বলি সেটাই শোনে তা নয়; আমরা যা বলি না, যা বলতে পারি না , সেটাও শোনে এবং বুঝতে পারে। এমন একজন বন্ধু থাকলে আমরা আসলেই ভাগ্যবান। 

Saturday, 1 February 2014

দাবানল কেন হয়?

কয়েকদিন ধরে মেলবোর্নের তাপমাত্রা চরমে। ভিক্টোরিয়ার অনেক জায়গায় দাবানল। প্রাকৃতিক কারণে অস্ট্রেলিয়ায় সারা বছর জুড়েই দাবানল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গ্রীষ্ম আসলে সে সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। এক সময় অস্ট্রেলিয়ার ইউক্যালিপটাস তেলের দুনিয়া জুড়ে খুব কদর ছিল। নানারকম আধুনিক ব্যাথার ওষুধ আসার ফলে এখন এটা গুরুত্ব হারিয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বনজ সম্পদের সিংহ ভাগ জুড়ে আছে অসংখ্য ইউক্যালিপটাস গোত্রের নানারকমের গাছ। কেউ ব্যবহার করুক বা নাই করুক এখনও গাছে গাছে জমে থাকে ইউক্যালিপটাস তেল- আর তার সুবাসে মৌ মৌ করে চারদিক। আপন মাংসে যেমন হরিণা বৈরী ; তেমন আপন তেলে ইউক্যালিপটাস। তাপমাত্রা একটু বাড়লে কিংবা আশে-পাশে কোন কারণে একটু আধটু আগুণের পরশ পেলেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে বনের পর বন। সৃষ্টি হয় দাবানল। আমাদের বাংলাদেশে যেমন প্রতি বছর বন্যা হয়;এদের তেমন দাবানল। বন্যার পরে পলি জমার ফলে ফসল ভালো হয়। দাবানল না হলে ইউক্যালিপটাস গাছের বংশ বিস্তৃতি হয় না। হাজার হাজার বছর ধরে ইউক্যালিপটাসসহ আরও অনেক এই জাতীয় গাছ আগুণে পুড়েই  রেখে গিয়েছে তার বংশের অস্তিত্ব । এভাবেই প্রকৃতি তার ভারসাম্য বজায় রাখে। তখন মানুষের বসবাস কম ছিল। তাই দাবানল কোন খবর হতো না। এখন প্রতি মুহূর্তে  নিউজ আপডেট। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বাঁচার লড়াই। কোথাও বন্যা; কোথাও তুষারপাত; কোথাও প্রচণ্ড খরা। এখানে আগুনের লেলিহান শিখা।    

মোটা মানুষদের সংখ্যা বাড়ছে

স্থূলকায় মানুষের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। নানারকম ক্রনিক ব্যাধি বাড়ার পিছনেও মেদ-ভুড়ি হওয়া একটা বড় কারণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক হিসেবে দেখানো হচ্ছে ২০২৩ সাল নাগাদ শুধুমাত্র স্থূলকায়তার জন্য সৃষ্ট বিভিন্ন ক্রনিক রোগ ব্যাধির পিছনে বছরে ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হবে।


মোটা মানুষদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে ট্রাক ড্রাইভারগণ। আর সবচেয়ে চিকন-পাতলা চিকিৎসকগণ। 

Sunday, 29 December 2013

টাইপ-২ ডায়াবেটিস মেলিটাস এবং রজঃনিবৃত্তি

দেখা যাচ্ছে ৪৫ বছরের কম বয়সী মহিলাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস মেলিটাস থাকলে তাদের রজঃনিবৃত্তি সাধারণত আগে হয়ে যায়। সম্প্রতি ল্যাটিন আমেরিকার ১১ টি দেশে প্রায় ৬০০০ মহিলার উপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ডায়াবেটিস আক্রান্ত মহিলাদের রজঃনিবৃত্তি হয়েছে গড়ে ৪৮ বছর বয়সে।  কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের রজঃনিবৃত্তি হয়েছে ৫০ বছর বয়সে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে ৪৫ বছর বয়স পেরিয়ে গেলে ডায়াবেটিস আর রজঃনিবৃত্তির উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারে না। আর রজঃনিবৃত্তি হওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিস হওয়ারও কোন সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। গবেষকগণ মনে করছেন ডায়াবেটিস থাকলে প্রজনন তন্ত্রের ওপর কোন প্রভাবের কারণে দ্রুত রজঃনিবৃত্তি ঘটে। কিন্তু এর আসল রহস্য কি সেটা তারা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না। 

তথ্যসূত্রঃ

Monterrosa-Castro A, Blumel JE, Portela-Buelvas K, Mezones-Holguin E, Baron G, Bencosme A, et al. Type II diabetes mellitus and menopause: a multinational study. Climacteric : the journal of the International Menopause Society. 2013 Dec;16(6):663-72.

উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এতদিন হৃদরোগের সঙ্গে উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তার সম্পর্ক প্রমাণিত সত্য ছিল। এখন স্ট্রোকের জন্যও উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা করাকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা এমন একটি বিষয় যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রকোপ অনেক বেশী। অকারণে  দীর্ঘদিন উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তায় ভুগলে আমাদের রক্তনালীতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি ছয় হাজারের বেশী মানুষের ওপর ১৬ বছর পর্যবেক্ষণ করে গবেষকগণ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা স্ট্রোকের প্রকোপ বাড়ায়। এর আগে কখনও স্ট্রোকের জন্য উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তাকে এভাবে সরাসরি সম্পর্কিত মনে করা হয়নি।

অতএব হৃদরোগ প্রতিরোধের মত স্ট্রোক প্রতিরোধ করার জন্যও আমাদের উদ্বেগবিহীন এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করার অভ্যাস করতে হবে।


তথ্যসূত্রঃ
Lambiase MJ, Kubzansky LD, Thurston RC. Prospective Study of Anxiety and Incident Stroke. Stroke. 2013 December 19, 2013.

Thursday, 19 December 2013

ভিটামিন প্রতিদিন আর না

অনেকের ধারণা প্রতিদিন ভিটামিন খেলে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তি তাজা থাকে। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত Physicians' Health Study II (PHS II)-এর ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ৬৫ বছরের বেশী বয়সীরা টানা একযুগ ধরে ভিটামিন খেয়েও কোন উপকার পাননি। একই সময়ে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণার ফলাফলে বলা হচ্ছে ক্যান্সার কিংবা হৃদরোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ভিটামিন সেবনের কোন উপকারিতা নেই।  গবেষকগণ মনে করছেন এর মাধ্যমে  মাল্টিভিটামিন নিয়ে বিতর্কের চিরতরে অবসান ঘটতে যাচ্ছে। যারা অপুষ্টিতে আক্রান্ত না তাদের শুধু শুধু নানারকম ভিটামিন সেবন করার কোনই যুক্তি নেই।

তথ্যসূত্রঃ Ann Intern Med. Published online December 17, 2013. 

Wednesday, 11 December 2013

ডিমেনসিয়া বাড়ছে

অনেক সময় মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ভুলে যাওয়া ভালো। কিন্তু ভুলে যাওয়া যখন সত্যি সত্যি রোগ হিসেবে দেখা দেয়, তখন সেটা চিন্তার বিষয় বটে। অনুমান করা হচ্ছে পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ ডিমেনসিয়ায় ভুগছে। অর্থাৎ তারা বুদ্ধিভ্রংশ, ভুলোমনা বা তাদের কিছু মনে থাকে না। তারা স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ কর্ম করতে পারেনা, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন ঘটে, সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়,এমনকি তাদের নিজের যত্ন নেয়ার ক্ষমতাও থাকে না এবং আরও অনেক রকম শারীরিক এবং স্নায়বিক সমস্যায় ভুগে থাকে। এদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ পৃথিবীতে ডিমেন্সিয়ার রোগীর সংখ্যা হবে প্রায় সাড়ে সাত কোটি। আর ২০৫০ সালে এ সংখ্যা হবে সাড়ে তের কোটি অর্থাৎ পুরো এক বাংলাদেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশী। অনেকের মনেই আশঙ্কা এত বুদ্ধিভ্রংশ মানুষের সেবাযত্নের ব্যবস্থা কিভাবে হবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে এখন পর্যন্ত ১৯৩ টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৩ টি দেশে বুদ্ধিভ্রংশ রোগীদের চিকিৎসার কিছু ব্যবস্থা আছে। কিন্তু দুনিয়াজুড়ে যেভাবে ভুলোদের সংখ্যা বাড়ছে তাতে শীগগিরই ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করবে।  

Tuesday, 10 December 2013

সেক্সটিং বাড়ছে



মোবাইল ফোন কিংবা ই-মেইলের মাধ্যমে যৌন উদ্দীপক মেসেজ বা ছবি পাঠানোকে সেক্সটিং বলে। ২০০৪ সালে প্রথম কানাডা এবং এরপর বিভিন্ন দেশে সেক্সটিং শব্দটা ব্যবহার করা হতে থাকে। সবশেষে ২০১২ সাল থেকে এটা ইংরেজি ডিকশনারীতেও স্থান করে নিয়েছে।এখন বিশ্ব জুড়ে সেক্সটিং বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। শুরুতে সেক্সটিং মূলত যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও কানাডার মতো দেশগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিলো। কিন্তু জরীপে দেখা যায় ৬৪ ভাগ ব্রাজিলিয়ান সেক্সটিং করে। ভারতে শতকরা প্রায় ৫৪ ভাগেরও বেশি মানুষ সেক্সটিং করছে। উদ্বেগের বিষয় হলো সেক্সটিং কিশোর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। আমেরিকায় ৩০ ভাগ কিশোর-কিশোরী নিজেদের নগ্ন ছবি ইমেইল বা মোবাইল ফোনে অন্যদের পাঠিয়ে থাকে। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা সেক্সটিং বেশি করে। আবেগপ্রবণ, অরক্ষিত, নিঃসঙ্গ ও স্নেহবঞ্চিত সন্তানেরা এই ধরনের কাজে বেশী জড়িয়ে যায়। অনেকে মনে করেন ভারতে সেক্সটিং বাড়ার কারণ যৌথ পরিবার ভেঙ্গে যাওয়া, পারিবারিক মূল্যবোধের পরিবর্তন, গভীর রাত করে পার্টি, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটে বেশি সময় ধরে থাকা ইত্যাদি। সেক্সটিং কোন দেশেই কিংবা সমাজেই ভালো কাজ হিসেবে গন্য হচ্ছে না। বরং অনেক দেশেই এটা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ইদানীং অস্ট্রেলিয়া সেক্সটিং আইন কঠোর করেছে এবং এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য স্কুল-কলেজে প্রচারণা চলছে। বাংলাদেশে এটা কতটা ছড়িয়েছে সে সম্পর্কে কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এ বিষয়ে আমাদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।  

Monday, 9 December 2013

ডায়াবেটিসের হিসেব-নিকেশ

  • ২০১৩ সালে দুনিয়াজুড়ে ৩৮২ মিলিয়ন মানুষ ডায়াবেটিস আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে ২০৩৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ৫৯২ মিলিয়নে উন্নীত হবে।
  •  প্রতি পাঁচ জন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে চার জন নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশে বাস করে।
  • বেশীরভাগ ডায়াবেটিস রোগীর বয়স ৪০ থেকে ৫৯ বছর।
  •  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ডায়াবেটিস রোগীদের অর্ধেকেরই রোগ শনাক্ত করা হয় না।
  • বাংলাদেশে ২০ থেকে ৭৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার ৬.৩% এবং মোট ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫১ লাখ। 
  • ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসার জন্য উত্তর আমেরিকা এবং ক্যারিবিয় দেশসমূহ ২৬৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করে। এটা ডায়াবেটিসের পেছনে সারা দুনিয়ার ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার খরচ মাত্র ৬ বিলিয়ন ডলার যা সারা দুনিয়ার ডায়াবেটিসের চিকিৎসার জন্য মোট ব্যয়ের এক শতাংশেরও কম।

তথ্যসূত্রঃ www.idf.org/diabetesatlas   

Tuesday, 19 November 2013

“লায়েক” হওয়ার বয়স ১৬ নাকি ১৫?

বিলেতের ছেলেমেয়েদের বয়স ১৬ হলে তারা “লায়েক” হয়েছে বলে গণ্য করা হয়। তখন তারা আইনতঃ সম্মতি দেওয়ার যোগ্য হয়, বন্ধু-বান্ধবীর সঙ্গে ডেটিং করতে পারে , মদ খেতে পারে , দোকান থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণের সামগ্রী কিনতে পারে। ১৮৮৫ সালে ইংল্যান্ডে  শিশু পতিতাবৃত্তি বন্ধ করার জন্য তীব্র সামাজিক আন্দোলনের মুখে সম্মতি দানের বয়স ১৬ নির্ধারণ করা হয়।  কিন্তু আজকাল আর কেউ ১৬ বছর বয়স হওয়া অবধি অপেক্ষা করতে চায় না। প্রতি তিন জনে একজন বয়স ১৫ হতেই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করছে। এত বিপুল সংখ্যক কিশোর কিশোরীর যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে উপদেশ এবং সেবা দিতে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে । তাই সেবাদানে সুবিধার জন্য এই বয়স সীমা ১৬ থেকে কমিয়ে ১৫ বছর করার প্রস্তাব উঠেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন অ্যাস্টন এই প্রস্তাব দিয়েছেন। বিলেতের সরকার অবশ্য তাতে সায় দেয়নি। কারণ শিশুদের অধিকার রক্ষার জন্য ১৬ বছরের বয়স সীমা  মেনে চলার দরকার রয়েছে। কিশোর-  কিশোরীদের যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে সমস্যার কথা স্বীকার করলেও তারা তড়িঘড়ি কোন সিদ্ধান্তে যেতে চান না। ব্রিটিশ উপপ্রধান মন্ত্রী মনে করেন, এ সম্পর্কে আরও আলোচনা এবং বিতর্কের প্রয়োজন রয়েছে ।