শরীর ও মন নিয়ে লেখালেখি

Saturday, 17 September 2016

আসল বন্ধু, নকল বন্ধু


সবাই কি আমাদের আসল বন্ধু? এটা মনে করা খুবই স্বাভাবিক যে আমরা যাদের বন্ধু মনে করি, তারাও আমাদের বন্ধু মনে করবে। কিন্তু বিষয়টি আসলে এমন সহজ নয়। সম্প্রতি একটি মজার গবেষণা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে আসলে বন্ধুদের মাত্র অর্ধেক আমাদের পছন্দ করে। অনেকের নিকট এটা খাপছাড়া মনে হতে পারে। আমাদের শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক সুস্থতার জন্য বন্ধুত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে আপনার দশজন বন্ধু থাকলে মাত্র পাঁচজন আপনাকে পছন্দ করে, এটা কি সঠিক?

ধরা করা যাক আবুল মনে করে বাবুল তার বন্ধু। বাবুল সামনাসামনি অস্বীকার না করলেও আসলে কি আবুলকে সে বন্ধু মনে করে? দেখা যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা যাদের বন্ধু বলে মনে করছি, তারা আমাদের বন্ধু মনে করছে না এবং এর উলটোটাও সত্যি। অর্থাৎ বন্ধুত্ব সবসময় পারস্পরিক নাও হতে পারে।

এজন্য গবেষকদের দুটি প্রশ্ন ছিল।

প্রথম প্রশ্ন বন্ধুদের কতজন আসলে পরস্পরকে বন্ধু মনে করে?
দুজন যদি আসলেই দুজনের পারস্পরিক বন্ধু হয়, তাহলে জীবনে একে অপরকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা থাকে। আবুল ধূমপান করে, কিন্তু বাবুল ধূমপান করে না। এখন বাবুল কি আবুলের ধূমপানের অভ্যাস ছাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে?

এজন্য গবেষকদের দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, বন্ধুত্ব একে অপরের জীবনাচরণ প্রভাবিত করার কতটুকু সামর্থ্য রাখে?    

দেখা যাচ্ছে শতকরা ৯৪ জনের ধারণাকৃত বন্ধুত্বের মধ্যে ৫৩ জন পারস্পরিক বন্ধুত্বের বন্ধনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। বাকীরা আসলে পারস্পরিক বন্ধুত্ব আছে বলে মনে করে না। ফলে জীবনাচরণ পরিবর্তনে আসলে তথাকথিত বন্ধুত্ব সত্যিকার কোন ভূমিকা রাখতে পারে না। “পিয়ার ইনফ্লুয়েন্স” বা “বন্ধুদের প্রভাব” তখনই কার্যকরী হয় যখন বন্ধুত্ব উভয়মুখী। অর্থাৎ যেখানে আবুল যেমন বাবুলকে বন্ধু মনে করে, বাবুলও তেমন আবুলকে বন্ধু মনে করে। কিন্তু আচরণ পরিবর্তনের ফলাফল ইতিবাচক হবে না কি নেতিবাচক হবে, সেটা কি ভাবে নির্ধারিত হয়? অর্থাৎ বাবুলকে দেখে আবুল ধূমপান ছেড়ে দেবে নাকি আবুলকে দেখে বাবুল ধূমপান শুরু করবে? এর উত্তর খুব সহজ মনে হচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে দুজনের মধ্যে যার বন্ধুত্ব বহির্মুখী, সেই প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে। অর্থাৎ আবুল যদি বন্ধুত্বের জন্য প্রথমত সক্রিয় হয়ে থাকে, তাহলে তার প্রভাবই বেশী। কিন্তু এটা যে কিভাবে নির্ধারিত হয় বা এর অন্তর্নিহিত রহস্য যে কি তা এখনও পরিস্কার নয়।

যারা এ সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহী তারা নীচের নিবন্ধটি পড়তে পারেন।
 
তথ্যসূত্রঃ Almaatouq A, Radaelli L, Pentland A, Shmueli E. Are You Your Friends’ Friend? Poor Perception of Friendship Ties Limits the Ability to Promote Behavioral Change. PLoS ONE. 2016;11(3):e0151588.  

Wednesday, 24 August 2016

সামাজিকতার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে মেয়েরা এগিয়ে


 
অনেকের নিকট মনে হতে পারে যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকা মানেই সামাজিকভাবে আমরা যুক্ত। কিন্তু আসলে তা নাও হতে পারে। বরং মোবাইল ফোন ব্যবহার সামাজিক বিচ্ছিন্নতার বোধ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

দেখা যাচ্ছে সামাজিকতার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। জরীপে দেখা যায় ছাত্রীরা প্রতিদিন গড়ে ৩৬৫ মিনিট ফোনে সময় কাটায়। তারা প্রতিদিন ৬ টি কল রিসিভ করে এবং গড়ে ২৬৫ টি টেক্সট মেসেজ পাঠায়। পক্ষান্তরে ছাত্ররা প্রতিদিন গড়ে ২৮৭ মিনিট ফোন ব্যবহার করে। তারা মেয়েদের মতো দিনে ৬টি কল রিসিভ করলেও মাত্র ১৯০ টি টেক্সট মেসেজ আদান-প্রদান করে। কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রায় পাঁচশ’ ছাত্র-ছাত্রীর মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করে এমন তথ্যই দিয়েছেন।

ছাত্রীরা জানিয়েছে তারা ফোনে পিতামাতার সঙ্গে কথা বলতে পারলে মানসিকভাবে সবচেয়ে ভাল বোধ করে। কিন্তু অন্যান্য বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে টেক্সট মেসেজ বিনিময় করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। কিন্তু ছাত্রদের বক্তব্য হচ্ছে ফোন কিংবা টেক্সট মেসেজ কোনটাই তাদের মানসিক নৈকট্যবোধ করতে সাহায্য করে না। তারা সশরীরে উপস্থিত হয়ে কথা বলতেই পছন্দ করে।
 
তথ্যসূত্রঃ Lepp A, Li J, Barkley JE. College students' cell phone use and attachment to parents and peers. Computers in Human Behavior. 2016; 64:401-8.

Saturday, 20 August 2016

ঘৃণার মনস্তত্ত্ব


এটা শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে নয়, অনেক সময় ছড়িয়ে পড়ে সমাজ থেকে সমাজে এবং দেশ থেকে দেশে।

আসলে ঘৃণার মনস্তত্ত্ব নিয়ে খুব বেশী গবেষণা হয়নি। স্মৃতি, চেতনা কিংবা ভালবাসা সম্পর্কে আমরা যত তত্ত্বকথা জানতে পারি, ঘৃণা সম্পর্কে তেমন জানা যায় না। নিঃসন্দেহে ঘৃণা একটি জটিল মানসিক আবেগ। কিন্তু ঘৃণার বশে আজকাল যেভাবে সহিংসতা ঘটছে তাতে অনেকেই মনে করছেন এ সম্পর্কে আরও গভীর পর্যবেক্ষণ করা দরকার।  
মজার ব্যাপার হচ্ছে যারা মনে তীব্র ঘৃণা পোষণ করেন, তারাও নিজেদের দয়ালু এবং সহমর্মী ব্যক্তি বলে ভেবে থাকেন। তাদের মানসিক বলয়ের এই দুই বিপরীত ধরণের আবেগ সমাজে পরিস্থিতি ভেদে তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করে দেয়। এরকম ব্যক্তি একই সময়ে তার পরিচিতজনের জন্য যত্নশীল এবং সহানুভূতিপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে; কিন্তু এই একই ব্যক্তি অস্ত্রহাতে কোথাও গিয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ফেলছে। ব্যক্তির এই দ্বৈত আচরণের ব্যাখ্যা পাওয়া সহজ নয়। এরা মনের ভিতরে যে তীব্র ঘৃণার বিষ বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে এবং যারা তার ঘৃণার কারণে সংঘটিত অপরাধের শিকার হচ্ছে, তার জন্য অনেক সময় কোন অনুশোচনাও বোধ করে না। বরং যাদের প্রতি সে ঘৃণা পোষণ করছে, তাদের যেকোনোভাবে নির্মূল করাকেই তার “পবিত্র কর্তব্য” বলে মনে করছে।  

ধরণ এবং মাত্রাভেদে এটা নানা রূপ ধারণ করতে পারে। জার্মান মনস্তত্ত্ববিদ এরিক ফ্রম ঘৃণার দুটি ধরণের কথা বলেছেন – একটি যুক্তিসঙ্গত ঘৃণা আর অন্যটি চরিত্র-নির্ধারিত ঘৃণা। যুক্তিসঙ্গত ঘৃণার তেমন ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোন ব্যক্তির মন্দ কাজ কিংবা অপরাধকে আমরা যৌক্তিক কারণে ঘৃণা করতে পারি। কিন্তু চরিত্র-নির্ধারিত ঘৃণা একটু জটিল বিষয়। যেমন কেউ জন্মের পরে মন্ত্রণা কিংবা শিক্ষার কারণে যদি কোন গোষ্ঠী, বর্ণ, ধর্ম কিংবা জাতির মানুষকে ঘৃণা করে তাহলে সেটা একটি সমস্যার বিষয়ই বটে। এরকম ঘৃণার অনেক উদাহরণ এখন আমাদের সামনে। আমেরিকার মতো উন্নত দেশেও মুসলমান, মেক্সিকান, সমকামী কিংবা এশিয়ার মানুষ তীব্র ঘৃণার মুখে অসহায় বোধ করছে। নাৎসি চেতনার মতো উন্নাসিকতার ফলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের অনুভুতি থেকে সৃষ্ট এই ঘৃণা অন্যদের মানবাধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করছে। কিন্তু তারা সেটা বোঝার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছে। চরিত্র-নির্ধারিত ঘৃণার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে এটা দুনিয়াকে সরল দুই ভাগে বিভক্ত করে দেয়- আমরা শ্রেষ্ঠ; আর “তারা” আমাদের কেউ নয়, তারা কিছু নয়। এই “তাদের” প্রতি ঘৃণার মাত্রা এতই তীব্র এবং বিধ্বংসী যে “তাদের” নির্মূল করার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়াই বৈধ বলে মনেপ্রাণে তারা বিশ্বাস করে। আর এভাবেই সৃষ্টি হচ্ছে সহিংসতা। এটা ব্যক্তি পর্যায়ে ঘটতে পারে, কিন্তু একসময়ে তা ছোটগণ্ডী ছাড়িয়ে বৃহত্তর গণহত্যায়ও রূপ নিতে পারে। তার উদাহরণ ভারত উপমহাদেশে বার বার দেখা গিয়েছে, দেখা গিয়েছে দুটি বিশ্বযুদ্ধের সময়ে। 

প্রশ্ন হচ্ছে এই কাণ্ডজ্ঞানহীন ঘৃণা থেকে আমরা কিভাবে মুক্তি পাব?

সমাধান একটিই। যুগে যুগে মহৎ ব্যক্তিরা সেই একটি বিষয়ের কথাই বলে গিয়েছেন। মার্টিন লুথার কিং বলেছেন, এই সেদিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বলেছেন- ঘৃণা এবং সহিংসতা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের একে অপরকে ভালবাসতে শিখতে হবে। দুর্ভাগ্যের বিষয় ঘৃণার আগুণ থেকে দুনিয়াকে রক্ষা করার জন্য আমাদের হাতে কোন যাদু-মন্ত্র নেই। তবে দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার কিছু স্বীকৃত আচার-অনুশাসন আমাদের জানা রয়েছে। ঘৃণা একটি অর্জিত আবেগ; কেউ জন্ম থেকেই ঘৃণা নিয়ে এই দুনিয়ায় আসে না। তাই ঘৃণা দূর করা যায়। এরজন্য দরকার সর্বস্তরে একটি সহনশীল, নমনীয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল পরিবেশ গড়ে তোলা। ক্ষণস্থায়ী জীবনে এই ছোট পৃথিবীতে নানা বর্ণ,ধর্ম এবং মতবিশ্বাসের মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বসবাস করতে শিখতে হবে। আর সেজন্যই গনতান্ত্রিক মূল্যবোধের আপাতত কোন বিকল্প নেই।


ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ফলে আজ দুনিয়া ছোট হয়েছে সত্য; কিন্তু নতুন বিপদও হয়েছে। স্বাস্থ্য নয়, ব্যাধিই সংক্রামক-এটা যেমন সত্য; তেমন ভালবাসা নয়, ঘৃণাই সংক্রামক। আগে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘৃণা রপ্তানী করতে মাস কিংবা বছর লেগে যেত; কিন্তু এখন অন্তর্জালে মুহূর্তেই ঘৃণার আগুণ লেলিহান শিখার মতো দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মানুষের সামনে আজ এটা একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। তবে মানুষের প্রতি আস্থা হারানোর কিছু নেই। মানুষ মানুষের জন্যই। অতএব আমাদের আশাবাদী হতে হবে যে আমরা অবশ্যই ঘৃণামুক্ত ভালবাসার সহনশীল শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবো।     

Monday, 15 August 2016

কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম



সব রোগ রোগ নয়; অনেক সময় তা হয়ে দাঁড়ায় আমাদের জীবনের অংশ। কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম(computer vision syndrome) আসলে তেমন একটি সমস্যা। চিকিৎসা শাস্ত্রে বিশেষ কোন কারণে সৃষ্ট একাধিক লক্ষণ-উপসর্গের সমষ্টিকে সিনড্রোম বলা হয়। কোন কোন সিনড্রোমের নাম এসেছে যে অঙ্গে রোগটি হয় তার নাম থেকে। যেমন- কার্পাল টানেল সিনড্রোম। কব্জির সামনে কার্পাল টানেলে মিডিয়ান নার্ভ অতিরিক্ত চাপের কারণে এটা হয়। ডাউনস সিনড্রোমের নাম এসেছে ব্রিটিশ চিকিৎসক ডাঃ জন ল্যাঙ ডন ডাউন-এর নাম থেকে। ১৮৬২ সালে তিনি এই বংশগত রোগটির প্রথম বর্ণনা দিয়েছিলেন। আবার অনেক সিনড্রোমের নাম এসেছে সমস্যার বর্ণনা থেকে। যেমন- রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম। তবে অনেক সময় নামের সঙ্গে সিনড্রোমের বর্ণনার মিল নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। 
 
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভিধানে ছয়শ’য়ের বেশী সিনড্রোমের নাম রয়েছে। তার সঙ্গে অধুনা নতুন যুক্ত হয়েছে “কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম”। প্রশ্ন হচ্ছে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম আসলে কি? আজকাল যারা দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার নিয়ে কাজ করেন তারা চোখের বিভিন্নরকম সমস্যার কথা বলেন; যেমন- চোখের পানি শুকিয়ে যায়, দৃষ্টি ঝাপসা মনে হয়, চোখে জ্বালাপোড়া করে ইত্যাদি।অনেকের সমস্যার তীব্রতা এতই বেশী হয় যে তারা আর কম্পিউটারে কাজ করতে পারেন না। 

অনুমান করা হচ্ছে পৃথিবীতে এখন ৭ কোটি মানুষের কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম হওয়ার ঝুঁকি আছে। লেখাপড়া, কর্মক্ষেত্র এবং বিনোদনের জন্য যেভাবে  কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। গবেষকদের মতে যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কম্পিউটার নিয়ে কাজ করেন তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ জন এ ধরণের এক বা একাধিক লক্ষণ-উপসর্গের অভিযোগ করেন। এসব ছাড়া ঘাড়ে ব্যথা, পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা ইত্যাদি ধরণের সমস্যা তো রয়েছেই। এসব কিছু মিলে কম্পিউটার নিয়ে বেশী কাজ করা অনেকের জন্য আসলেই এক সমস্যা।
    
কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম কেন হচ্ছে তা নিয়ে নানারকম ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে মোদ্দা কথা হচ্ছেঃ
কম্পিউটারের অক্ষর এবং ছবি পিক্সেল দিয়ে তৈরি। এর কিনারা ঝাপসা থাকে। এজন্য কাগজে ছাপা অক্ষর কিংবা ছবি পড়ার চেয়ে কম্পিউটারের অক্ষর এবং ছবি পড়তে চোখের ওপর বেশী চাপ পড়ে। ক্রমাগত এরকম অতিরিক্ত চাপের কারণে চোখের উপসর্গসমূহ সৃষ্টি হয়।
চোখের পলক পড়ার হার কমে যাওয়া আরেকটি সমস্যা। কেউ যখন একটানা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে কাজ করতে থাকে তখন তার চোখের পলক পড়া কমে যায়। স্বাভাবিকভাবে প্রতি মিনিটে একজন মানুষের অন্তত ১৭ বার চোখের পলক পড়ে। কিন্তু মনোযোগ দিয়ে কম্পিউটারে কাজ করার সময় এটা কমে মিনিটে ১২ থেকে ১৫ বারে নেমে আসে। চোখের পলক পড়া কমে গেলে চোখের পানির প্রবাহ কমে যায় এবং চোখে শুষ্কতা অনুভূত হয়। 

কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম প্রতিরোধ করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে; যেমন- 
কাজের সময় কম্পিউটারের খুব নিকটে বসা ঠিক নয়। সাধারণত চোখ থেকে কম্পিউটার স্ক্রিনের দূরত্ব অন্তত দুই ফুট হওয়া উচিত।
কম্পিউটার মনিটরের অবস্থানঃ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে কম্পিউটারের মনিটর চোখ থেকে ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি নীচে থাকা উচিত। নীচের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে চোখের দুই পাতার মধ্যে ব্যবধান কম থাকে। ফলে চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসে।
কম্পিউটার স্ক্রিনের কনট্রাস্টঃ এটা এমনভাবে সেট করা উচিত যেন চোখের ওপর কম চাপ পড়ে।উজ্জ্বল সাদা স্ক্রিনে কালো অক্ষরই এজন্য উপযুক্ত।
কম্পিউটারের মনিটরে আলোর ঝলমলে ভাব কমানোঃ ঘরে উজ্জ্বল আলো ব্যবহার না করলে এবং জানালা দিয়ে কম আলো আসতে দিলে, মনিটরের আলো স্তিমিত রাখলে এবং বিশেষ ধরণের চশমা পরলে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
মাঝে মাঝে বিরতি নেওয়াঃ এজন্য ২০-২০-২০ সূত্র অনুসরণ করা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট কাজ করার পরে ২০ সেকেন্ড বিরতি নিতে হবে এবং এই সময়ে ২০ ফুট দূরে তাকাতে হবে। এরসঙ্গে ঘাড় এবং কাঁধের হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে।
অক্ষরের ফন্ট বড় রাখাঃ অক্ষরের বড় ফন্ট ব্যবহার করলে চোখের ওপর চাপ কম পড়ে। 
চোখের পানি যেন শুকিয়ে না যায় সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। এজন্য প্রয়োজন মতো চোখের পলক ফেলতে হবে। তারপরেও যদি চোখ শুকিয়ে যায়, তাহলে চোখের জন্য কৃত্রিম চোখের পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এজন্য একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।
নিয়মিত চোখের চোখের চেক-আপ করানো জরুরী। যাদের চোখে রি-ফ্র্যাকসনের সমস্যা আছে তাদের অবশ্যই সঠিক চশমা পরে কম্পিউটারে কাজ করতে হবে। এজন্য নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে হবে এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।



কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবের সঙ্গে সৃষ্ট নতুন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত আমাদের এধরণের সমস্যার মুখোমুখি হওয়া নতুন নয়। একে অতিক্রম করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।   

Sunday, 7 August 2016

ঘুমের মধ্যে শ্বাসের সমস্যা এবং স্ট্রোক


 
অনেকেরই ঘুমের সময় শ্বাসের সমস্যা হয়। আর এটাও ঠিক যে অনেক স্ট্রোক ঘুমের মধ্যেই ঘটে থাকে। সম্প্রতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে আসলে ঘুমের মধ্যে শ্বাসের সমস্যা থেকেই এসকল স্ট্রোক হয়ে থাকে।
মোট ২৯ টি সমীক্ষায় ২৩৪৩ জন রোগীর স্ট্রোক সম্পর্কে খুব গভীর পর্যবেক্ষণে দেখা যায় এদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের ঘুমের সময় শ্বাসের সমস্যা ছিল। শ্বাসের সমস্যার মধ্যে রয়েছে - ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা(obstructive sleep apnea), সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং শ্বাসের অনিয়মিত ছন্দ (Cheyne-Stokes breathing)।  এধরণের শ্বাসের সমস্যার কারণে ঘুমের মধ্যে শ্বাসের গতি কমে যায় কিংবা সাময়িকভাবে দম নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। যাদের স্ট্রোক হয়েছে তাদের ঘুমের মধ্যে এরকম শ্বাস শ্লথ কিংবা থেমে যাওয়ার ঘটনা ঘণ্টায় পাঁচ কিংবা তার চেয়ে বেশী বার ঘটেছে।
 
আরও কিছু সমীক্ষাতেও শ্বাসের সমস্যার সঙ্গে স্ট্রোকের সম্পর্ক চিহ্নিত হয়েছে। এজন্য অনেকেই এখন উচ্চ রক্তচাপ-ডায়াবেটিসের মতো ঘুম এবং শ্বাসের সমস্যাকেও স্ট্রোকের ঝুঁকি হিসেবে গণ্য করছেন। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন এসকল সমীক্ষার ফলাফলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই; তবে যাদের ঘুমের সময় শ্বাসের সমস্যা হয়, তাদের এবিষয়ে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।  

তথ্যসূত্রঃ Hermann DM, Bassetti CL. Role of sleep-disordered breathing and sleep-wake disturbances for stroke and stroke recovery.  Neurology. August 3,2016.

Saturday, 23 July 2016

মানুষের মস্তিষ্কের নতুন মানচিত্র




পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে যাওয়ার মানচিত্র রয়েছে। গুগল মানচিত্রের সাহায্যে এখন যেকোন জায়গায় যাওয়া সম্ভব। অনেক সময় বাইরের দুনিয়ার মতো মানুষের মগজের ভিতরেও বিশেষ কোন অঞ্চলের কাজ পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন হয়।তার জন্য রয়েছে মস্তিষ্কের মানচিত্র।সম্প্রতি মানুষের মস্তিষ্কের মানচিত্রের  একটি নতুন সংস্করণ বের হয়েছে।

 ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকগণ মানুষের মস্তিষ্কের নতুন মানচিত্র প্রণয়ন করেছেন। তারা  মানুষের সেরিব্রাল কর্টেক্স বা গুরু মস্তিষ্কের বাইরের আস্তরণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানাধরণের অনুভূতির সংযোগস্থলের বিস্তারিত চিত্র চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। সম্প্রতি ন্যাচার (Nature)পত্রিকায় মানুষের নতুন মানচিত্রের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। এরফলে মস্তিষ্কের অনেক রোগ যেমন- অটিজম, ডিমেন্সিয়া, সিজোফ্রেনিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে ভবিষ্যৎ গবেষণায় আরও সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বলাবাহুল্য মস্তিস্ক এমন কোন কম্পিউটার নয় যে সব ধরণের অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে এটা কাজ করবে। বরং এর সফটওয়ার(মস্তিষ্কের যে ভাবে কাজ করে)এটার হার্ডওয়ারের(মস্তিষ্কের গঠনপ্রণালীর)সঙ্গে সম্পর্কিত। এজন্য মস্তিস্ক কিভাবে কাজ করে তা বুঝতে হলে আমাদের এর গঠন প্রণালী বুঝতে হবে।
     
বর্তমানে মস্তিষ্কের যে মানচিত্র ব্যবহার করা হয় তা প্রায় একশবছর পুরনো। উনবিংশ শতকের শুরুর দিকে জার্মান নিউরো-অ্যানাটমিস্ট করবিনিয়ান ব্রডম্যান প্রথম মস্তিষ্কের মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। কিন্তু পুরনো ম্যাপে আসলে মস্তিষ্কের অনেক কাজকর্মের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তাই অনেকদিন ধরে মস্তিষ্কের একটি বিস্তারিত ম্যাপের প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছিল।

মস্তিষ্কের নতুন মানচিত্র তৈরি করার জন্য গবেষকগণ Human Connectome Project-এর ডাটা ব্যবহার করেছেন। এই প্রজেক্টে এমআরআই মেশিনের সাহায্যে নেওয়া ১২০০ মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। গঠন, ধরণ এবং কার্যানুসারে মস্তিষ্কের দুই অংশে ১৮০টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আশা করা হচ্ছে অচিরেই অনেক ধরণের স্নায়ুরোগের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের নতুন মানচিত্র বিশেষ ভূমিকা রাখবে।


তথ্যসূত্রঃ  Glasser M, Coalson T, Robinson E, Hacker C, Harwell J, Yacoub E. A Multi-Modal Parcellation of Human Cerebral Cortex. Nature, 2016.    

Saturday, 18 June 2016

হাঁটাহাঁটির অংক


গড়পড়তা একজন মানুষ ২০০০ কদম হাঁটলে এক মাইল হাঁটা হয়। সুতরাং ১০,০০০ কদমে পাঁচ মাইল। শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় বা অলস একজন মানুষ দিনে বড়জোর ১০০০ থেকে ৩০০০ কদম হাঁটে।  

সাধারনত প্রতি মাইল হাঁটলে ১০০ ক্যালরি শক্তি খরচ হয়। কেউ যদি প্রতিদিন অতিরিক্ত তিন মাইল হাঁটে তাহলে তার ৩০০ ক্যালরি খরচ হবে। প্রতি দিন ৩০০ ক্যালরি খরচ করলে সপ্তাহে ২১০০ ক্যালরি খরচ হয়। অর্থাৎ মাসে প্রায় ৯০০০ ক্যালরি খরচ হবে। এর ফলে গড়ে আড়াই পাউন্ড ওজন কমে। এভাবে পুরো একবছর হাঁটলে তারপক্ষে ৩১ পাউন্ড ওজন কমানো সম্ভব। কিন্তু শর্ত হচ্ছে অতিরক্ত হাঁটার ফলে যে ক্যালরি খরচ হবে তার জন্য খাবারের পরিমাণ বাড়ানো যাবে না।

ঘণ্টায় চার মাইল বেগে হাঁটলে অতিরিক্ত তিন মাইল হাঁটার জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫ মিনিট ব্যয় করতে হবে। অতএব বলা যায় প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪৫ মিনিট করে নিয়মিত হাঁটলে এবং খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ না বাড়ালে বছরে ৩১ পাউন্ড বা ১৪ কিলোগ্রাম ওজন কমানো সম্ভব।

সমস্যা হচ্ছে আমরা বেশী হাঁটলে কিংবা পরিশ্রম করলে অতিরিক্ত খাই। ফলে আর ওজন কমানো সম্ভব হয় না। সহজ গাণিতিক সূত্র হচ্ছে পরিমিত আহার এবং প্রতিদিন অতিরক্ত তিন মাইল হাঁটলে যে কারও পক্ষে প্রয়োজন মতো ওজন কমানো সম্ভব।  


মনে রাখতে হবেঃ
  • ১ মাইল = প্রায় ২০০০ কদম হাঁটা
  • ১ মাইল হাঁটা = ১০০ ক্যালরি খরচ হওয়া
  • ১ পাউন্ড ওজন কমানোর জন্য = ৩৫০০ ক্যালরি অতিরক্ত খরচ করতে হবে
  • সপ্তাহে ২ পাউন্ড ওজন কমাতে হলে = ৭০০০ ক্যালরি খরচ করতে হবে অর্থাৎ প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫০০ ক্যালরি খরচ করতে হবে।
  • হেঁটে সপ্তাহে ১ পাউন্ড ওজন কমাতে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫ মাইল হাঁটতে হবে। এজন্য বলা হয় প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০,০০০ কদম হাঁটলে সপ্তাহে ১ পাউন্ড ওজন কমে।
  • প্রতিদিন অতিরিক্ত আড়াই মাইল বা ৫০০০ কদম হাঁটলে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫০ ক্যালরি কম খাদ্য গ্রহণ করলেও একই ফল পাওয়া সম্ভব।



এগুলি গাণিতিক হিসেব। কিন্তু মানুষ কখনও এভাবে হিসেব করে কাজ করে না; আর খাওয়াদাওয়ার সময় এত সব অংক মনেও থাকে না। অতএব যা হওয়ার তাই হয়।    

Friday, 17 June 2016

হাঁটার উপকারিতা



কাউকে চিকিৎসা হিসেবে হাঁটার প্রেসক্রিপশন দিলে হয়তো তেমন মনঃপুত হবে না কিন্তু সত্যিকার অর্থে বিনে পয়সায় এর চেয়ে ভাল ওষুধ খুব কমই আছে আমরা সবাই জানি ব্যায়াম করা শরীরের জন্য উপকারী এজন্য আমরা মনে করি জিমে যেয়ে অনেক ভারী ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ব্যায়াম করতে বে কিন্তু হাঁটা একটি অতি সহজ ব্যায়াম বিনে খরচার এই ব্যায়ামের উপকারের কোন তুলনা হয় না

প্রতিদিন নিয়মিত ২১ মিনিট অর্থাৎ সপ্তাহে আড়াই ঘণ্টা করে হাঁটলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ কমে যায় কোন যন্ত্রপাতি ছাড়া যে কোন জায়গায় এই সহজ কাজটি করলে হৃদরোগ ছাড়াও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়; রক্তচাপ এবং রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে; আর মস্তিস্ক থাকে সতেজ এবং সক্রিয়।

হাঁটার আরও পাঁচটি উপকারিতাঃ

১) হাঁটা আমাদের শরীরের ওজন বাড়ানোর জিনের কাজ কমিয়ে দেয়। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকগণ ১২,০০০ মানুষের ওপর ৩২ রকমের ওজন বাড়ানোর জিন নিয়ে পরীক্ষা করেছেন। এতে দেখা গিয়েছে দৈনিক এক ঘণ্টা জোরে জোরে হাঁটলে ওজন বাড়ানোর জিনের কার্যকারিতা অর্ধেক কমে যায়।
    
২) হাঁটলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়। সাধারণত যাদের মিষ্টি খাওয়ার লোভ বেশী তাদের ওজন সহজে বেড়ে যায়। কিন্তু নিয়মিত ১৫ মিনিট হাঁটলে চকলেটসহ অন্যান্য মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়। যারা বেশী হাঁটেন তাদের যেকোন ধরণের মিষ্টিযুক্ত খাদ্যগ্রহণের প্রবণতা কম থাকে।

৩) হাঁটলে স্তন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। যেকোনো ধরণের ব্যায়াম স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। তবে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির সমীক্ষায় দেখা যায়, যে সকল মহিলা সপ্তাহে কমপক্ষে সাত ঘণ্টা হাঁটেন তাদের স্তন ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
  
৪) হাঁটলে বাতের ব্যাথা কমে যায়। অনেকগুলি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে বাতের জন্য হাঁটা উপকারী। যারা সপ্তাহে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় মাইল হাঁটেন তাদের মধ্যে বাতের প্রকোপ কম। হাঁটলে আমাদের বোন জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিসমূহ সুস্থ থাকে। ফলে বাতের প্রকোপ লাঘব হয়।

৫) হাঁটলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। যারা নিয়মিত হাঁটেন তাদের সর্দি-গর্মি কম হয়। প্রায় ১০০০ মহিলা এবং পুরুষের ওপর দীর্ঘদিন সমীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যারা প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচদিন হাঁটেন, তাদের অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের চেয়ে প্রায় অর্ধেক কম।  

অতএব সুস্থতার জন্য হাঁটুন। হাঁটুন এবং সুস্থ থাকুন।


Tuesday, 14 June 2016

রাণী এলিজাবেথের নবতিতম জন্মবার্ষিকী পালন


ইউনাইটেড কিংডমের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁর জীবনের নব্বই বসন্ত পার করেছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ারও রাণী। আজ রাণীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ায় সরকারী ছুটির দিন। যুক্তরাজ্যসহ কমনওয়েলথভুক্ত সকল দেশের জনগণের নিকট নিজ গুণে রাণী একটি পরম শ্রদ্ধার আসন অর্জন করেছেন। যে উচ্ছ্বাস এবং আবেগ নিয়ে সকলে এই ছুটির দিনটি উদযাপন করে তা আসলেই মন কেড়ে নেওয়ার মত।

মজার বিষয় হচ্ছে রাণীর জন্মদিন কিন্তু দুটি। তার আসল জন্মতারিখ ২১ এপ্রিল। ওই দিনটি তিনি একান্ত পারিবারিক পরিবেশে পালন করে থাকেন।আর সরকারীভাবে আজ ১৩ জুন তার জন্মদিন পালন করা হচ্ছে । দ্বিতীয় কিং জর্জের সময় ১৭৪৮ সাল থেকে ব্রিটিশ রাজা-রাণীদের সরকারী জন্মদিন এভাবে মে কিংবা জুন মাসে পালিত হয়ে আসছে।ভাল আবহাওয়ায় সরকারী অনুষ্ঠান  পালন করার সুবিধার জন্য মে-জুন মাসের একটি দিন বেছে নেওয়া হয়।


এবারের সরকারী সামরিক কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠানে রাণীর উজ্জ্বল সবুজ পোশাকের  উপস্থিতি খুবই দৃষ্টি আকর্ষণীয় ছিল।

শিউলি নয়, লুকুলিয়া



কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি খুব গানের প্রথম দুটি চরণ- 

“শিউলি তলায় ভোর বেলায় কুসুম কুড়ায় পল্লী-বালা।
শেফালি পুলকে ঝরে পড়ে মুখে খোঁপাতে চিবুকে আবেশ-উতলা।।“ 

অনেকেরই খুব প্রিয় ফুল এই শিউলি ফুল বা শেফালী ফুল।সাদা রঙের ছোট ছোট ফুল। আর উজ্জ্বল কমলা রঙের বোঁটা। সনাতন ধর্মে একে স্বর্গের ফুল বলে মনে করে হয়। ধারণা করা হয় কৃষ্ণ এই ফুল স্বর্গ থেকে মর্তে এনেছিলেন। শরত আর হেমন্ত কালে রাতে এই ফুল ফোটে। সারা রাত গাছে থাকার পরে শিশিরসিক্ত সকালে গাছের নীচে ঝরে পড়ে। ছোটবেলায় অনেকেরই সেই ঝরা ফুল কুড়নোর সুখস্মৃতি রয়েছে। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে শিউলি আসলে বেদনার প্রতীক। গল্পটি এক রাজকন্যাকে নিয়ে। তার নাম পারিজাতিকা বা পারিজাত। তার রূপে মুগ্ধ সবাই। কিন্তু তিনি আবেশিত হয়েছিলেন সূর্য দেবের রূপে। কিন্তু তার ভালোবাসা রয়ে গেল অধরা। দুঃখ সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করলেন। রাজকন্যার দেহভস্ম থেকে জন্ম নেয় একটি গাছ। সেই গাছে ফুল ফোটে।সকাল বেলায় যেন সুর্যের মুখ দেখতে না হয়, তার জন্য সারারাত গাছে ফুল থাকার পর সকাল হবার আগেই ঝরে পরে গাছ থেকে। সেটাই আমাদের পরিচিত শিউলি ফুল বা শেফালী ফুল। রাজকন্যার নামে রাখা ফুলের নাম পারিজাত বা পারিজাতিকা। কাজী নজরুল কিন্তু আরেকটি গানে সেই শিউলি বিছানো পথে আসার খুবই কাব্যিক আহবান জানিয়েছেন- 

“এসো শারদ প্রাতের পথিক এসো শিউলি বিছানো পথে।
এসো ধুইয়া চরণ শিশিরে এসো অরুণ-কিরণ-রথে।।
দলি, শাপলা শালুক শতদল এসো রাঙায়ে তোমার পদতল
নীল লাবনি ঝরায়ে চলচল এসো অরণ্য পর্বতে।।”

আমি কবি নই। তাই সেভাবে এর সৌন্দর্য বর্ণনা করতে পারছি না। দক্ষিণ গোলার্ধে অস্ট্রেলিয়ায় এখন কুয়াশার চাদর মুড়ি দিয়ে শীত এসেছে। শিশির ভেজা সকালে সেদিন ড্যান্ডেনং পাহাড়ে গিয়েছিলাম। সকালে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। গাছের পাতায় রোদের ঝিকিমিকি, আর ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির রূপালি কনা। অকস্মাৎ চোখে পড়লো একটি গাছের নীচে শিউলি ফুলের মতোই অসংখ্য ফুল ঝরে পড়েছে। ঠিক সাদা নয়; ঈষৎ গোলাপি রঙের ফুল, শিউলির মতোই; কিন্তু শিউলি না। এর নাম লুকুলিয়া (luculia)।
এরাও সাধারনত শরৎকাল এবং শীতকালে ফোটে।আবাস নেপালের হিমালয় পার্বত্য এলাকায়। ভুটান এবং দক্ষিণ চীনেও দেখতে পাওয়া যায়। জানিনা কেউ একজন হয়তো শখ করে নেপাল থেকে এনে ড্যান্ডেনং পাহাড়ের ওপরে লুকুলিয়া ফুলের গাছ লাগিয়েছিল। আর এই শীতের শিশির ভেজা বৃষ্টি স্নাত সকালে সেই ফুল ঝরে পড়ে শিউলির মতই গাছের নীচে চাদর বিছিয়ে রেখেছে।   

Sunday, 12 June 2016

যারা বেশী পর্ণ ছবি দেখে, পরবর্তীতে তারা বেশী ধার্মিক হয় !!


বলা হয় যে প্রত্যেক সাধুর অতীত রয়েছে এবং প্রত্যেক পাপীর ভবিষৎ রয়েছে।কিন্তু বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও যে এমন প্রমাণ পাওয়া যাবে সেটা একটু অবাক হওয়ার মতো বিষয়। সম্প্রতি পর্ণছবি নিয়ে একটি আকর্ষণীয় গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সব মিলিয়ে যত দর্শক নেটফ্লিক্স, আমাজন এবং টুইটারে প্রতিদিন ভিড় করে, তারচেয়ে অনেক অনেক বেশী দর্শক প্রতিদিন ইন্টারনেটে পর্ণসাইটগুলোতে ভিড় করে। এক্স-রেটেড ভিডিও কেউ প্রকাশ্যে দেখে না, এমন কি এসম্পর্কে তেমন আলাপ-আলোচনাও শোনা যায় না। কিন্তু “জার্নাল অব সেক্স রিসার্চে” প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যারা বেশী বেশী পর্ণ ছবি দেখে, তারা পরবর্তীতে অতিরিক্ত ধার্মিক হয়ে থাকে।
   
বিগত কয়েক দশকে পর্ণছবি দেখার হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। পর্ণছবি নিয়ে বিভিন্নধরণের গবেষণাও প্রচুর হচ্ছে। আগে মনে করা হতো যারা বেশী ধার্মিক তারা কম পর্ণছবি দেখে। সত্যিকার অর্থে কোন ধর্মেই এধরণের ছবি দেখা অনুমোদিত নয়। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে যারা বেশী পর্ণছবি দেখে, তারাই পরবর্তীতে বেশী ধর্মপরায়ণ হয়ে যায়।

ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা কর্মে ১৩১৪ জন পর্ণ দর্শককে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে অনুসরণ করা হয়েছে। এই সময়ে তাদের পর্ণছবি দেখার হার এবং ধর্মপরায়ণতা লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের বয়স, জেন্ডার এবং আরও অনেক বিষয় বিবেচনা করার পরেও দেখা যাচ্ছে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধার্মিক হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।গবেষকগণ যা আশা করেছিলেন এ ফলাফল একেবারেই তার উলটো।  কিন্তু পর্ণ ছবি দেখলে কেন ধর্ম পালনের প্রতি আগ্রহ বাড়ে, তার কোন ব্যাখ্যা গবেষকগণ দিতে পারেননি। অনেকে মনে করছেন পর্ণছবি দেখার ফলে মানুষের মনে একধরণের পাপবোধ জাগে। প্রথম দিকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের প্রতি আগ্রহ না থাকলেও পরবর্তীতে তারা ধর্মীয় অনুশাসন মেনে এই পাপবোধ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চায়।
  
একসময়ের কানাডার পর্ণ-তারকা সানি লিওন ভারতের বলিউডের মূলধারায় আসার পরেও বৃহত্তর সমাজে নিজের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে এখন পর্যন্ত সংগ্রাম করে চলেছেন। উল্লেখ্য শতকরা ৪৭ জন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী পর্ণছবি দেখাকে তাদের সংসারে একটি বড় ধরণের সমস্যা বলে গণ্য করেন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীসহ মুসলমানদের মধ্যেও পর্ণছবি দেখা গ্রহণযোগ্য নয়।  


তথ্যসূত্রঃ Perry SL. Does Viewing Pornography Diminish Religiosity Over Time? Evidence from Two-Wave Panel Data. Journal of Sex Research. 2016:1-13.

Saturday, 11 June 2016

মাইগ্রেন মেয়েদের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়



ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন মাইগ্রেন সাধারণ মাথাব্যাথা নয়। বিভিন্ন হিসেবে দেখা যায় প্রতি দশজনে অন্তত একজন মাইগ্রেনের ব্যাথায় ভুগে থাকেন। এদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা। বলাবাহুল্য মাইগ্রেনের অভিজ্ঞতা  অত্যন্ত কষ্টদায়ক। মাইগ্রেনের রোগীদের শতকরা ৯০ জন সময় বিশেষে এর কারণে স্কুল-কলেজ কিংবা কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হন।

একটি নতুন গবেষণার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, মাইগ্রেন মহিলাদের হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। শুধু তাই নয় এরফলে তুলনামুলকভাবে মৃত্যুহারও বেড়ে যায়। মার্কিন এবং জার্মান গবেষকগণ নার্সেস হেলথ স্টাডিঃ ২-এ অংশগ্রহণকারী ১১৫,০০০ মহিলার ওপর পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য দিয়েছেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এদের ওপর পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বয়স, জেন্ডার, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ি, হরমোন থেরাপি ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় রাখার পরেও দেখা যাচ্ছে মাইগ্রেনের ফলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং মৃত্যুহার বেশী থাকে।
   
এজন্য অনেকে মনে করছেন মাইগ্রেন সম্পর্কে আমাদের আবার নতুন করে ভাবতে হবে।

মাইগ্রেনের সঙ্গে স্ট্রোকের সম্পর্ক অবশ্য নতুন বিষয় নয়। এর আগেও মাইগ্রেনের ফলে স্ট্রোক হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। অনেক নীরব স্ট্রোকেরকারণ আসলে মাইগ্রেন। তবে মাইগ্রেনের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক এবং মৃত্যুহার বেশী হওয়ার বিষয়টি এবারই প্রথম সামনে আসলো।  
 

তথ্যসূত্রঃ Kurth T, Winter AC, Eliassen AH, Dushkes R, Mukamal KJ, Rimm EB, et al. Migraine and risk of cardiovascular disease in women: prospective cohort study. BMJ. 2016; 353:i2610.

Thursday, 9 June 2016

মেয়েদের মেদভুঁড়ি বাড়ছে।


বয়স বাড়লে পুরুষ কিংবা মহিলা যে কারও ওজনও বাড়ে কিন্তু মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নতুন হিসেব প্রকাশ করে বলছে যে, মেয়েদের মেদভুঁড়ি আগের চেয়ে বেশী বেড়েছে ২০০৫ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে মহিলাদের মোটা হওয়ার হার পুরুষদের চেয়ে বেড়ে গিয়েছে বর্তমানে ৪০ শতাংশ মহিলা স্থূলকায় আর পুরুষদের মধ্যে হার ৩৫ শতাংশ সম্প্রতি জার্নাল অব আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে এই ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে

এর আগে ১৯৮০ সালের তুলনায় ২০০০ সালে সকলের ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছিল ওই সময়ে প্রতি তিনজনে একজন মোটা বা স্থূলকায় ছিলেন এর ফলে মেদভুঁড়ি আমেরিকার একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়।এবার দেখা যাচ্ছে মেয়েরা এক্ষেত্রে আরেক ধাপ বেশী এগিয়েছে।
   
মেদভুঁড়ি সামাল দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চললেও, খুব বেশী উপকার হচ্ছে বলে মনে হয় না। মূলত ফাস্টফুড বেশী খাওয়া, শারীরিক ব্যায়াম না করে অলস জীবন যাপন করা এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার মেদভুঁড়ির মহামারী সৃষ্টি করার জন্য দায়ী।