শরীর ও মন নিয়ে লেখালেখি

Tuesday, 30 June 2015

ক্যানসার রোগীদের জীবন মানের ওপর ধার্মিকতা এবং আধ্যাত্মিকতা

সম্প্রতি আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে ক্যানসার রোগীদের জীবন মানের (Quality of life) ওপরে আধ্যাত্মিকতা এবং ধার্মিকতার প্রভাব নিয়ে চমৎকার একটি পর্যবেক্ষণের ফলাফল উপস্থাপিত হয়েছে। 

আমরা সবাই জানি কারও ক্যানসার রোগ ধরা পড়া একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। একমাত্র ভুক্তভোগী ব্যক্তি ছাড়া এর ভয়াবহতা অন্য কারও পক্ষে আসলে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। স্বভাবতই ক্যানসার রোগ শনাক্ত হওয়ার পরে অনেকেই ধর্মকর্ম  কিংবা আধ্যাত্মিকতার প্রতি ঝুঁকে পড়েন। গবেষকদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যানসার রোগীদের এই ক্রান্তিকালে  আধ্যাত্মিকতা এবং ধার্মিকতা কিভাবে তাদের জীবনের শেষ দিনগুলিকে প্রভাবিত করে সেটা পর্যবেক্ষণ করা। সর্বমোট ৫৫১ জন ক্যানসার রোগীর ওপর ১ বছর যাবত এই পর্যবেক্ষনটি করা হয়। মার্কিন ন্যাশনাল ক্যানসার ইন্সটিটিউটের সংজ্ঞা অনুসারে আধ্যাত্মিকতা (spirituality) বলতে একজন ব্যক্তির মানসিক প্রশান্তির অনুভূতি বা জীবনের উদ্দেশ্য এবং সামগ্রিকভাবে জীবনের অর্থ সম্পর্কে উপলব্ধিকে বোঝানো হয়ে থাকে। আর কোন বিশেষ বিশ্বাস এবং আচার-আচরন পালনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা অর্জনের পথকে ধার্মিকতা হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সংজ্ঞানুসারে কেউ ধার্মিক না হলেও আধ্যাত্মিক হতে পারেন; আবার কেউ ধার্মিক হলেও আধ্যাত্মিকতা নাও অর্জন পারেন।
  
গবেষকগণ ক্যানসার রোগীদের চারটি গ্রুপে ভাগ করেছেনঃ ১) কম আধ্যাত্মিক এবং কম ধার্মিক ২) অধিক আধ্যাত্মিক এবং অধিক ধার্মিক ৩) অধিক আধ্যাত্মিক এবং কম ধার্মিক ৪) কম আধ্যাত্মিক এবং অধিক ধার্মিক। ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যখন এই সকল ক্যানসারের রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণ করছিলেন তখন তাদের শারীরিক এবং মানসিক জীবন মান সম্পর্কে  বিভিন্ন তথ্য আহরণ করা হয়। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যারা অধিক ধার্মিক এবং অধিক আধ্যাত্মিক তাদের শারীরিক এবং মানসিক জীবন মান ভালো ছিল। মজার বিষয় হচ্ছে যারা অধিক ধার্মিক কিন্তু কম আধ্যাত্মিক তাদের পরিস্থিতি কিন্তু তত ভালো নয়।  গবেষকদের বক্তব্য হচ্ছে, এর ফলে এটাই প্রমাণিত হয় যে শুধু ধার্মিকতা নয়; আধ্যাত্মিক হওয়ার মাধ্যমেই আমরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন মান তথা সামগ্রিক প্রশান্তি বজায় রাখতে পারি। 

উল্লেখ্য ইদানীং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্ম এবং আধ্যাত্মিকতা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলছে। ক্যানসার রোগীদের ওপর ধার্মিকতা এবং আধ্যাত্মিকতার এমন ভিন্নতর প্রভাব দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, কেন এমন ফলাফল পাওয়া গেল? 

এক কথায় আমরা এর উত্তর জানিনা। 

তবে অনেকে মনে করছেন ধার্মিকতা যদি ব্যক্তির জীবনে বাহ্যিক হয়ে থাকে এবং তার জীবন বোধের সঙ্গে যদি আত্মস্থ না হয়, তা হলে সেটা ব্যক্তির শারীরিক এবং মানসিক পরিস্থিতির ওপর তেমন প্রভাব ফেলে না। অন্যদিকে আধ্যাত্মিকতার উৎস অন্তর থেকে; এটা মানুষের শরীর ও মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে এবং অপার্থিব শক্তির ওপর গভীর আস্থা তার মনে অনাবিল প্রশান্তি এবং স্বস্থির মনোভাব সৃষ্টি করে। এজন্য ক্যানসার রোগীদের প্রান্তিক সময়টিকে শান্তিময় করে তোলার উদ্দেশে আধ্যাত্মিকতার উপযুক্ত  প্রয়োগের ওপরেই সকলে জোর দিচ্ছেন।  ধার্মিকতা কিংবা আধ্যাত্মিকতা হয়তো ক্যানসার রোগীর মূল চিকিৎসায় কোন পার্থক্য সৃষ্টি করবে না; কিন্তু ক্যানসার রোগীর ক্রান্তিকালীন সময়কে প্রশান্তিময় এবং সহনশীল করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ধার্মিক ব্যক্তিদের নিকট এই গবেষণার ফলাফল হয়তো তেমন নতুন কিছু মনে হবে না; তবে ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগে ধার্মিকতা এবং আধ্যাত্মিকতার প্রভাব সম্পর্কে এ পর্যন্ত পরিচালিত এটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য।  

তথ্যসূত্রঃ 
Cannon AJ, Garcia J, Loberiza FR. Interplay between spirituality and religiosity on the physical and mental well-being of cancer survivors post-treatment. Program and abstracts of the 168th American Psychiatric Association Annual Meeting; May 16-20, 2015; Toronto, Ontario, Canada. Abstract 63.
Pew Research Group. America's changing religious landscape. http://www.pewforum.org/2015/05/12/americas-changing-religious-landscape/ Accessed June 30, 2015.


Friday, 12 June 2015

বেদনানাশক ওষুধ নরহত্যার প্রবণতা বাড়ায়

একটু অবাক হওয়ার মতোই তথ্য। এতদিন ধারণা করা হতো মানসিক রোগের জন্য সাইকোট্রপিক ওষুধ খেলে অনেকের বিপজ্জনক আচরণের সম্ভাবনা থাকে। এখন দেখা যাচ্ছে বিষণ্ণতা রোধক ওষুধ, বেনজোডায়াজেপিন এবং বিভিন্ন ধরণের ব্যাথানাশক ওষুধ খেলে নরহত্যার মতো মারাত্মক প্রবণতাও দেখা দিতে পারে।

সুইডেনের একদল গবেষকের পর্যবেক্ষণে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিষণ্ণতারোধক ওষুধ ব্যবহার করলে আসলেই নরহত্যার প্রবণতা বাড়ে কিনা তা দেখার জন্য সুইডিশ গবেষকগণ ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৯৫৯ জন নরঘাতক দাগী আসামীর ওপর পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর এদের সঙ্গে তুলনা করার জন্য বেঁচে নেওয়া হয়েছে প্রায় দশ হাজার সাধারণ নাগরিককে। ১৯৯৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এদের সকলের ওষুধ ব্যবহারের ইতিহাস খুব ভালোভাবে পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে।

ফলফলে দেখা যাচ্ছে বিষণ্ণতা রোধক ওষুধ ব্যবহারে নরহত্যার প্রবণতা ৩১% এবং বেনজোডায়াজেপিনে ৪৫% পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সবচেয়ে আশংকার বিষয় হচ্ছে নারকোটিক এনং নন-নারকোটিক বেদনানাশক ওষুধ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই প্রবণতা দুই  থেকে তিন গুণ বেড়ে যায়। কিন্তু যে অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ নিয়ে আমাদের এত আশংকা,সেটার ব্যবহারের সঙ্গে আসলে নরহত্যার প্রবণতার জোরালো কোন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

সুতরাং গবেষকদের বক্তব্য হচ্ছে যাদের অপরাধ করার ইতিহাস রয়েছে তাদের চিকিৎসার সময় বেদনানাশক ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।


তথ্যসূত্রঃ 
Tiihonen J, Lehti M, Aaltonen M, et al.: Psychotropic drugs and homicide: A prospective cohort study from Finland. World Psychiatry 2015; 14:245-47

Thursday, 11 June 2015

দীর্ঘদিন প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ব্যবহার করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে

প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর বহুল ব্যবহৃত ওষুধ। আজকাল প্রেসক্রিপশন ছাড়াও এটা দোকানে কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি পর্যবেক্ষণের ফলাফলে রক্তনালীর ওপর এর বিরূপ প্রভাবের গুরুতর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে দীর্ঘদিন প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক ২৯ লাখ রোগীর ১৬ মিলিয়ন ক্লিনিকাল ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ করার পরে এই ফলাফল দেখতে পেয়েছেন। তবে এইচ টু ব্লকার জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ার কোন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
বিশেষত গ্যাস্ট্রো-এসফেজিয়াল রিফ্লাক্সের জন্য যারা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ব্যবহার করেছেন তাদের  হার্ট অ্যাটাকের হার ১৬% বেশী। হৃদরোগের কারণে মৃত্যুহারও এদের দ্বিগুণ।
স্বভাবতই প্রশ্ন এসেছে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ব্যবহার করলে কেন এটা ঘটছে?
এ প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার যারা ক্লোপিডেগ্রলের সঙ্গে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে ক্ষতিকর প্রভাবের প্রমাণ আগেও পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে শুধু হৃদরোগী নয়, কম বয়সী সাধারণ মানুষও প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ব্যবহার করলে হৃদরোগের শিকার হতে পারেন।  প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর  ডাইমিথাইল আর্জিনেজ (DDAH) নামে পরিচিত একটি এনজাইমের কাজ করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এই এনজাইমটি রক্তনালীর সুস্থতার জন্য দরকারী। প্রোটন পাম্প ইনহিবিটরের এই ক্ষতিকারক প্রভাব যে কোন মানুষের রক্তনালীর ওপরেই পড়তে পারে। 
ওষুধ হিসেবে প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর খুবই কার্যকরী। কিন্তু এটা আজকাল খুবই সুলভ এবং সহজলভ্য হওয়ার কারণে অনেকেই প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে এটা ব্যবহার করে থাকেন। এজন্য অনেকেই প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর ব্যবহারে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের দরকার বলে মনে করছেন। অবশ্য এ বিষয়ে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে গবেষকগণ  প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর নিয়ে আরও পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। 


তথ্যসূত্রঃ 
Shah NH, LePendu P, Bauer-Mehren A, Ghebremariam YT, Iyer SV, et al. (2015) Proton Pump Inhibitor Usage and the Risk of Myocardial Infarction in the General Population. PLoS ONE 10(6): e0124653.

Wednesday, 3 June 2015

কাজের ফাঁকে ফেসবুক দেখতে এত মজা কেন?

যারা সারাদিন কম্পিউটারে কাজ করেন তারা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন কাজের ফাঁকে ফাঁকে তারা অন্যমনস্ক হয়ে যান। প্রকৃতপক্ষে ২০১১ সালে একটি জরীপে ৫৩% মানুষ স্বীকার করেছিলেন যে তারা প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা সময় অন্যমনস্ক হয়ে নষ্ট করেছেন। বর্তমান সময়ে অন্যমনস্ক হয়ে সময় ব্যয় করার একটি প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। অনেকে স্বীকার করতে না চাইলেও কাজের ফাঁকে ফেসবুক দেখার পেছনে কারণ রয়েছে। একটি নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে আমাদের বিশ্রামরত মস্তিস্ক অথবা মস্তিস্ক যখন একটু বিরতি চায় তখন তা আপনাআপনি এমন একটি অবস্থায় চলে যায় যা মূলত সামাজিক সম্পর্কের জন্য কাজ করে।
মজার বিষয় হচ্ছে আমরা যখন কোন কাজ করি না, তখনও কিন্তু মস্তিস্কের কার্যক্রম বন্ধ থাকে না। নানারকম এলেবেলে চিন্তা-ভাবনা মাথার ভেতরে চলতেই থাকে। ১৯৯০-এর দশকে এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মিললেও; মস্তিস্কের এমন আচরণের কারণ জানা যায়নি। তবে দেখা যাচ্ছে অলস মস্তিস্ক সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভাবতে বা চিন্তা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এজন্য আমরা কাজের ভিড়ে একটু ফুরসৎ পেলেই ফেসবুকের টাইম লাইনে পরিচিত বন্ধু-বান্ধব এবং স্বজনদের ছবি কিংবা কাজকর্ম দেখতে ভালোবাসি । মস্তিস্কের কোন অংশ আমাদের কোন ধরণের মানসিক অবস্থায় কাজ করছে তা দেখার জন্য আজকাল ফাংশনাল এমআরআই (fMRI) ব্যবহার করা হয়। এর সাহায্যে বিভিন্ন মানসিক পরিস্থিতিতে মস্তিস্কের কোন অংশ উদ্দীপিত হচ্ছে তা শনাক্ত করা যায়। এর ভিত্তিতে পরীক্ষা করেই গবেষকগণ এখন বলছেন, “মস্তিস্ককে নির্দিষ্ট কাজে ব্যস্ত রাখা একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া। মস্তিস্ক যখনই ছুটি পায় তখন সে তার ডিফল্ট মোডে চলে যায়। আর সেটি আসলে সামাজিক কার্যকলাপে অংশ নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এজন্যই ফেসবুকের প্রতি আমাদের এমন আকর্ষণ”। সে অর্থে এটাকে অস্বাভাবিক বলে গণ্য করা যাচ্ছে না। বরং কাজের ফাঁকেও যারা এমন করেন না তাদের মস্তিস্কের স্বাভাবিকতা নিয়েও অনেকে একটু আধটু সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
তথ্যসূত্রঃ  Spunt RP, Meyer ML, Lieberman MD. The default mode of human brain function primes the intentional stance. Journal of Cognitive Neuroscience. 2015 Jun; 27(6):1116-24.

Thursday, 28 May 2015

বীর্যপাতের সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যানসারের সম্পর্ক

 ২০১৪ সালের হিসেব অনুসারে দুনিয়াজুড়ে পুরুষদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক শনাক্তকৃত ক্যানসার হচ্ছে প্রোস্টেট ক্যানসার। প্রোস্টেট ক্যানসার সম্পর্কে অনেক কিছু জানা গেলেও এখন পর্যন্ত এটা প্রতিরোধ করার কোন উপায় জানা যায়নি। এজন্য এ নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। 
আমেরিকান ইউরোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন ২০১৫ সালের বার্ষিক সম্মেলনে মজার একটি তথ্য দিয়েছে। পুরুষেরা এটা জেনে হয়তো আনন্দিত হবেন। বলা হচ্ছে অধিক বীর্যপাত প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। নতুন তথ্য হলেও এর পেছনে বেশ জোরালো প্রমাণ রয়েছে। এজন্য গবেষকগণ এটা জানাতে পেরেও আনন্দ বোধ করছেন। অবশ্য মূল গবেষক ডঃ রাইডার তার গবেষণার ফলাফল সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার উপদেশ দিয়েছেন।
মূলত  স্বাস্থ্যপেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩২,০০০  জনের উপর ১৮ বছর পর্যবেক্ষণের পর এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে।  এই সময়ে ৩৮৩৯ জনের প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮৪ জনের ক্যানসার খুব মারাত্মক ছিল। ১৯৯২ সাল থেকে এই পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছিল। ২০থেকে ২৯ এবং ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষেরা মাসে গড়ে কতবার বীর্যপাত করেছেন তার একটি গড় হিসেব করা হয়েছে। বিভিন্ন হিসেব নিকেশের পরে দেখা যাচ্ছে যারা মাসে ২১ বারের বেশী বীর্যপাত করেছেন তাদের প্রোস্টেট ক্যানসারের হার মাসে ৪ থেকে ৭ বার বীর্যস্খলনকারীদের চেয়ে ২০% কম। ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী পুরুষেদের প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১ জন মাসে ৮ থেকে ১২ বার বীর্যপাত করেছেন; মাত্র ৮.৮% পুরুষ ২১ বারের বেশী বীর্যস্খলনের কথা বলেছেন। ডঃ রাইডার অবশ্য বীর্যপাতের সত্যিকারের সংখ্যার ওপরে তত জোর দিচ্ছেন না। তার বক্তব্য হচ্ছে, “পুরুষদের নিরাপদ যৌন সক্রিয়তা প্রোস্টেটের জন্য উপকারী ”।  আসলে এদের ওপর পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ১০ বছর আগেই বলা হয়েছিল যে অধিকবার বীর্যপাতের সঙ্গে প্রোস্টেট ক্যানসারের একটি সম্পর্ক আছে। দশ বছর পর এখন সেই তথ্যই আরও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হল।  অন্য আরও কয়েকটি পর্যবেক্ষণেও একই রকম তথ্য এসেছে। অনেকে শুধু বীর্যপাত নয়, বেশী বেশী অর্গাজমের ভূমিকা নিয়েও অনেকে আশার আলো দেখছেন।
ডঃ রাইডারের গবেষণার শক্তিশালী  দিক হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যাপকসংখ্যক অংশগ্রহণকারীদের পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। আর বীর্যপাতের হিসেবনিকেশের জন্য কোন লুকোছাপা না করে সরাসরি যৌন মিলন, হস্তমৈথুন এবং স্বপ্নদোষের  বীর্যপাতের তথ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ৫৯ বছর ছিল এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রত্যেকের অন্তত ৫ বার পিএসএ (প্রোস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) পরীক্ষা করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই বিবাহিত। তবে যাদের বীর্যপাতের হার মাসে ২১ বারের বেশী তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদকারী পুরুষের সংখ্যা বেশী ছিল।   

 তথ্যসূত্রঃ
  • American Urological Association (AUA) 2015 Annual Meeting: Abstract PD6-07. Presented May 15, 2015.
  • Leitzmann MF, Platz EA, Stampfer MJ, Willett WC, Giovannucci E. Ejaculation Frequency and Subsequent Risk of Prostate Cancer. JAMA. 2004; 291(13):1578-1586. doi:10.1001/jama.291.13.1578.

Sunday, 17 May 2015

উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ এবং আছাড় খাওয়া

ছোটবেলায় সকলেরই কমবেশি আছাড় খাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও বয়সকালে এটা আনন্দের বিষয় নয়। ছোটদের একটি ছড়া আছে-
“রেল গাড়ী ঝমাঝম,
পা পিছলে আলুর দম”। 
তা বাস-ট্রেন থেকে পড়ে এখনও আছাড় খাওয়ার প্রবণতা এখনও সমানে চলছে। কিন্তু বেশী গোল বাধে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের নিয়ে। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ব্যবহার করার সময় এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরী। 
যাদের বয়স ৭০ থেকে ৯৭ বছর হয়েছে তাদের উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অনেকের মনেই আশঙ্কা থাকে যে এই বয়সে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ব্যবহার করলে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে  যেতে পারে এবং অনেকেই মাথা ঘুরে পড়ে যেতে পারেন কিংবা আছাড় খেতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি পর্যবেক্ষণে এ ধরণের বয়সী প্রায় ৬০০ উচ্চ রক্তচাপের রোগীকে নিয়মিত ওষুধ সেবন করানোর পরেও রক্তচাপ খুব কমে আছাড় খাওয়ার অতিরিক্ত কোন ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। এই পর্যবেক্ষণের রোগীদের বিটা ব্লকার, এসিই ইনহিবিটর, ডাইউরেটিক্স, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার সহ ছয় ধরণের উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন করতে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ এক বছরের পর্যবেক্ষণে ৫৪১ টি আছাড় খাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।   অর্ধেকের বেশী রোগী কোন রকম আছাড় খাননি। প্রায় ৪৫ শতাংশ রোগী এক বছরে ১ বার থেকে ১৭ বার পর্যন্ত আছাড় খাওয়ার কথা জানিয়েছেন। যারা আছাড় খেয়েছেন তাদের মধ্যে ১৩.৭% ঘরের বাইরে, ২১.২% ঘরের ভিতরে এবং ৭.৪% ঘরের ভিতরে এবং বাইরে আছাড় খেয়েছেন। আছাড়ের ফলে প্রতি ৪ জনের মধ্যে ১ জন গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং এর জন্য চিকিৎসা নেওয়া লেগেছে।  দেখা যাচ্ছে যারা দুর্বল এবং সক্রিয় তারাই বেশী আছাড় খেয়ে থাকেন। ঘরের ভিতরে যারা আছাড় খেয়েছেন তারা আসলেই দুর্বল; কিন্তু আশেপাশের আসবাবপত্র ধরে ফেলার কারণে তাদের আছাড় তেমন গুরুতর হয়নি। কিন্তু ঘরের বাইরে যারা আছাড় খান তারা শারীরিকভাবে অতিরিক্ত সক্রিয় এবং এদের আছাড় গুরুতর হয়ে থাকে। যাদের এসিই ইনহিবিটর এবং ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে আছাড় খাওয়ার প্রবণতা কম দেখা গিয়েছে। এসিই ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ পেশীর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছু ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে। এজন্য এটা সেবনের পরে কম আছারের ঘটনা পাওয়া গিয়েছে। ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার শুধু আছাড় খাওয়ার ঝুঁকি কমায়ই না, এটা মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের গতি বাড়িয়ে দেয়। এ কারণেও এদের মধ্যে আছাড় খাওয়ার প্রবণতা কম হতে পারে।
বার্ধক্যে আছাড় খাওয়া একটি নিয়মিত ঘটনা এবং এটা অনেক জটিলতা সৃষ্টি করে যা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনে। এজন্য বয়স বেশী হলে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন করে ঝুঁকি বাড়ানো ঠিক কিনা এ নিয়ে সংশয় আছে। তবে এখন গবেষকগণ মনে করছেন যথাযথ সতর্কতার সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।   
তথ্যসূত্রঃ

Lipsitz LA, Habtemariam D, Gagnon M, Iloputaife I, Sorond F, Tchalla AE, et al. Reexamining the Effect of Antihypertensive Medications On Falls in Old Age. Hypertension. 2015 May 4, 2015. 

Saturday, 25 April 2015

টাকার ময়লা হাতে

টাকা নাকি হাতের ময়লা । কিন্তু আসলে হাতের ময়লা টাকায় লাগে, নাকি টাকার ময়লা হাতে লাগে, সেটাও একটা প্রশ্ন নানারকম জীবাণু আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ। আমরা যতই পরিচ্ছন্ন থাকি না কেন জীবাণু আমাদের পিছু ছাড়ে না। ঘরের দরজার হাতল থেকে শুরু করে বাথরুম পর্যন্ত সব জায়গাতেই কমবেশি জীবাণু থাকে। কিন্তু প্রতিবার মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে কিংবা রেখে আমরা কি হাত পরিস্কার করার কথা ভাবি

সম্প্রতি নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের একটি ব্যাংকের ডলার পরীক্ষা করে বিভিন্ন নোটে গড়পড়তা ৩০০০ রকমের ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ব্যাকটেরিয়ার কিছু স্বাভাবিকভাবে আমাদের ত্বকে বাস করে। গবেষকগণ অবাক হয়েছেন যে নোটের উপর এমন কিছু ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যেগুলি সাধারণত আমাদের মুখে কিংবা মেয়েদের যোনীতে বাস করে। গরমকালের চেয়ে শীতকালে টাকার ওপর বেশী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এরমধ্যে নিউমোনিয়ার জীবাণুও রয়েছে। কিছু কিছু ডলারের নোটে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াও পাওয়া গিয়েছে। এ পর্যবেক্ষণের ফলাফল থেকে মনে হচ্ছে টাকা রোগ জীবাণু ছড়ানোর জন্য বেশ উপযুক্ত মাধ্যম; অতএব এসম্পর্কে সচেতন থাকার প্রয়োজন রয়েছে।


তথ্যসূত্রঃ এ বি সি নিউজ

Friday, 24 April 2015

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের থ্রি-ডি প্রিন্টিং



বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ করার ক্ষমতা কমতে শুরু করে। ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্দান্ত প্রতাপশালী কোন রাজা-বাদশাহও এই  অমোঘ নিয়মের বাত্যায় ঘটাতে পারেননি। কিন্তু সম্প্রতি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের  থ্রি-ডি প্রিন্টিং এই ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।


প্রথমে খুব সাধারণভাবে শুরু হলেও এখন মানুষের হৃদপিণ্ড, লিভার কিংবা মস্তিষ্কের হুবহু   থ্রি-ডি প্রিন্টিং করা সম্ভব হচ্ছে। যে অঙ্গের  থ্রি-ডি প্রিন্টিং করতে হবে প্রথমে সিটি স্ক্যান কিংবা এমআরআইয়ের সাহায্যে ব্যক্তির অঙ্গটির মাপ নিয়ে তারই কোষ-কলা দিয়ে একটি রেপ্লিকা তৈরি করা হয়। ব্যক্তির নিজের কোষকলা ব্যবহার করার কারণে এ ধরণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করলে শরীর সেটাকে আর প্রত্যাখ্যান করে না এবং অন্য কোন রকম প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা থাকে না।

Friday, 3 April 2015

রাতের পেঁচা হওয়ার বিপদ

বেশী রাত জাগা ভালো নয়- এটা অনেক পুরনো কথা। কিন্তু গবেষণার মাধ্যমে আবার সেটা নতুন করে প্রমাণিত হল। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যারা অধিক রাত জেগে থাকেন তাদের ডায়াবেটিস এবং মেটাবলিক সিনড্রোম  বেশী হয়। কোরিয়ার ৪৭ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ১৬২০ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যাদের রাত জাগার অভ্যাস আছে তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক সিনড্রোম বেশী হয়। এদের শরীরে  মাংসপেশীর পরিমাণ কমে যায় এবং  চর্বির পরিমাণ পরিমাণ বেড়ে যায়। পুরুষদের রাত জাগার সঙ্গে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক বেশী আর মেয়েদের রাত জাগার সঙ্গে মেটাবলিক সিনড্রোমের সম্পর্ক বেশী। অধিক রাত জাগলে উভয়ের শরীরে চর্বি বেড়ে যায়, তবে ছেলেদের পেশী শুকিয়ে যায় আর মেয়েদের পেটে চর্বির পরিমাণ অধিক বেড়ে যায়। যারা রাতে দেরী করে ঘুমায় তাদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বেশী, রাতের খাবার অনেক দেরী করে খায় এবং তাদের মধ্যে অলস জীবন যাপনের প্রবণতা বেশী থাকে। কোরিয়ার গবেষকগণ মনে করছেন আজকাল তরুণ-তরুণীদের  মধ্যে রাত জাগার প্রবণতা বেড়েছে। এটা ভবিষ্যতে তাদের জন্য নানা ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করবে। অতএব “Early to bed and early to rise, Makes a man healthy and wise” সেই পুরনো আপ্তবাক্যের প্রতিই আমাদের আস্থা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।


তথ্যসূত্রঃ Yu JH, Yun C-H, Ahn JH, Suh S, Cho HJ, Lee SK, et al. Evening Chronotype is Associated with Metabolic Disorders and Body Composition in Middle-Aged Adults. The Journal of Clinical Endocrinology & Metabolism. 0(0):jc.2014-3754. PubMed PMID: 25831477.  

Tuesday, 17 March 2015

স্ট্রোক বা মস্তিস্কের পক্ষাঘাত প্রতিরোধে ফলিক অ্যাসিডের ভূমিকা

বিভিন্ন ধরণের রোগ প্রতিরোধে ফলিক অ্যাসিডের ভূমিকা নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। পশ্চিমা পর্যবেক্ষণে এতদিন পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে কোন ইতিবাচক ফলাফল আসেনি। কিন্তু সম্প্রতি  চীনের গবেষকদল এ সম্পর্কে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক ফলাফল পেয়েছেন। চাইনিজ সোসাইটি অব কার্ডিওলজি এবং আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির ২০১৫ সালের যৌথ বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে ডঃ ইয়ং হুও এ সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল জানিয়েছেন এবং তা একই সঙ্গে জার্নাল অব আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (JAMA) সাম্প্রতিক  সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

চাইনা স্ট্রোক প্রাইমারি প্রিভেনশন ট্রায়ালে ( The China Stroke Primary Prevention Trial-CSPPT) ২০,০০০-এর অধিক উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে অর্ধেক উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য এনালাপ্রিল (enalapril) এবং ফলিক অ্যাসিড সেবন করেছেন আর বাকী অর্ধেক শুধু এনালাপ্রিল গ্রহণ করেছেন। সাড়ে চার বছর ওষুধ সেবনের পর ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যারা এনালাপ্রিলের সঙ্গে ফলিক অ্যাসিড সেবন করেছেন তাদের মধ্যে অন্য গ্রুপের চেয়ে স্ট্রোকের হার তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।
ডঃ ইয়ং হুও চাইনিজ সোসাইটি অব কার্ডিওলজির বর্তমান সভাপতি। তিনি মনে করছেন গবেষণার এ ফলাফল শুধু চীনের জনগণের জন্য প্রযোজ্য তা নয়; বরং অন্যান্য দেশের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের জন্যও প্রযোজ্য। এমনকি যাদের উচ্চ রক্তচাপ নেই তারাও ফলিক অ্যাসিড সেবনের মাধ্যমে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে পারেন।          
বর্তমানে দুনিয়া জুড়ে স্ট্রোকের প্রকোপ অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে চীনে স্ট্রোকের হার বিগত দুই দশকে খুবই বেড়েছে। এটা প্রতিরোধ করার জন্য সুলভ কোন ওষুধ একান্ত প্রয়োজনীয়। সেক্ষেত্রে তুলনামূলক ভাবে সস্তা এবং সহজলভ্য এনালাপ্রিল এবং ফলিক অ্যাসিড অনেকের মনেই উৎসাহ জাগিয়েছে । কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এর আগে পশ্চিমা পরীক্ষাসমূহে ফলিক অ্যাসিডের কার্যকারিতা প্রমাণিত হল না কেন? অনেকের ধারণা পশ্চিমা দেশে মানুষের শরীরে ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি থাকে না। কিন্তু চীনের ২০ থেকে ৬০ শতাংশ জনগণের শরীরে ফলিক অ্যাসিডের অভাব রয়েছে। এজন্য চীনের জনগণের ওপর ফলিক অ্যাসিড প্রয়োগ করে ভালো ফলাফল পাওয়া গিয়েছে।
যেহেতু তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য দেশের জনগণের মধ্যেও ফলিক অ্যাসিডের স্বল্পতা রয়েছে, সেজন্য এই পর্যবেক্ষণের ফলাফলকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য ফলিক অ্যাসিডের ভূমিকা নিয়ে আরও ব্যাপক পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
তথ্যসূত্রঃ
1.      Huo Y, Li J, Qin X, et al. Efficacy of folic acid therapy in primary prevention of stroke among adults with hypertension in china: The CSPPT randomized clinical trial. JAMA: the journal of the American Medical Association. 2015. DOI:101001/jama.2015.2274.
2.      Stampfer M, Willett W. Folate supplements for stroke prevention: Targeted trial trumps the rest. JAMA: the journal of the American Medical Association. 2015. DOI:101001/jama.2015.1961





Tuesday, 3 March 2015

পুরুষের লিঙ্গের দৈর্ঘ্য

অবশেষে পুরুষের লিঙ্গের গড় দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হল। আসলে পুরুষের লিঙ্গের গড় দৈর্ঘ্য কত সেটা নিয়ে একটা বিতর্ক বরাবরই ছিল। 

সম্প্রতি একদল গবেষক প্রায় ১৫,০০০ পুরুষের লিঙ্গের দৈর্ঘ্য হিসেব করে তার ফলাফল ব্রিটিশ জার্নাল অব ইউরলোজিতে প্রকাশ করেছেন। দেখা যাচ্ছে একজন পুরুষের উত্থিত লিঙ্গের দৈর্ঘ্য গড়পড়তা ১৩.১২ সেন্টিমিটার (৫.১৬ ইঞ্চি) এবং বেড় ১১.৬৬ সেন্টিমিটার ( ৪.৬ ইঞ্চি) হয়ে থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় লিঙ্গের দৈর্ঘ্য ৯.১৬ সেন্টিমিটার (৩.৬ ইঞ্চি)  এবং বেড় ৯.৩১ (৩.৭ ইঞ্চি)। ব্রিটিশ গবেষকদল মনে করছেন এ গবেষণার ফলাফল অনেক পুরুষের মনে তাদের লিঙ্গের দৈর্ঘ্য নিয়ে যে অসন্তোষ বা হীনমন্যতা আছে, তা দূর করবে এবং অনেকেই উদ্বেগ মুক্ত হবেন। যারা নিজের লিঙ্গ ক্ষুদ্র মনে করে দুশ্চিন্তায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য অবশ্যই এই গবেষণার ফলাফল বিশাল স্বস্তি বয়ে আনবে। আর বাস্তবে এরকম পুরুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। 

দেখা যাচ্ছে প্রকৃত পক্ষে ২.২৮% পুরুষের লিঙ্গ আসলেই ছোট এবং সমসংখ্যক পুরুষের লিঙ্গ অস্বাভাবিক বড় হয়ে থাকে। এই গবেষণায় ১৭ থেকে ৯১ বছর বয়সী পুরুষদের লিঙ্গের আকার হিসেব করা হয়েছে। ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা এবং আমেরিকার পুরুষদের ওপর পরিচালিত ২০টি গবেষণার ফলাফল এখানে হিসেবের মধ্যে আনা হয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ  Veale D, Miles S, Bramley S, Muir G, Hodsoll J. Am I normal? A systematic review and construction of nomograms for flaccid and erect penis length and circumference in up to 15 521 men.  BJU International. 2015:n/a-n/a.


Wednesday, 18 February 2015

রজঃনিবৃত্তির পরে ৭ বছর তাপঝলক

অর্ধেকের বেশী মহিলা মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তির সাত বছর পরেও তাপ ঝলক অনুভব করতে পারেন এবং রাতে ঘামতে পারেন। সম্প্রতি JAMA Internal Medicine জার্নালে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪৯ জন মহিলার ওপর ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের পর এটা জানানো হয়েছে।
   
দেখা যাচ্ছে মহিলাদের মেনোপজ পরবর্তী লক্ষণ-উপসর্গ গড়ে ৭.৪ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ সকল লক্ষণ সর্বোচ্চ ১১.৪ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে। যাদের মেনোপজ কম বয়সে হয় তাদের ক্ষেত্রে এটা ৯.৪ বছর পর্যন্ত ঘটতে দেখা গিয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাদের মেনোপজ পরবর্তী লক্ষণ গড়ে ১০ বছর এবং জাপানী এবং চীনা মহিলাদের গড়ে যথাক্রমে ৪.৮ এবং ৫.৪ বছর স্থায়ী হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা ৬.৫ বছর স্থায়ী হয়।

সুতরাং মেনোপজের পরে দীর্ঘদিন যাবত এর আনুষঙ্গিক লক্ষণ উপসর্গ চলতে থাকলে অবাক হওয়ার কোন কারণ নেই। মেনোপজের আনুষঙ্গিক লক্ষণ-উপসর্গসমূহ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এখন বিভিন্ন ধরণের ওষুধ রয়েছে। এক্ষেত্রে যে ব্যাপক গবেষণা চলছে তাতে ভবিষ্যতে আরও নানাবিধ অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

তথ্যসূত্রঃ
·         Avis NE, Crawford SL, Greendale G, et al. Duration of menopausal vasomotor symptoms over the menopause transition. JAMA Internal Medicine. 2015. Published online February 16, 2015.

·         Richard-Davis G, Manson JE. Vasomotor symptom duration in midlife women—research overturns dogma. JAMA Internal Medicine. 2015. Published online February 16, 2015.

Tuesday, 17 February 2015

মস্তিস্কের যৌবন ধরে রাখে ধ্যান?

 আজকাল মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। কিন্তু মস্তিষ্কের ক্ষয়তো আর রোধ করা যায় না। জীবনের প্রথম দুই দশকের পর থেকেই মস্তিষ্কের ওপর বয়সের ছাপ পড়তে থাকে। বয়স যতই বাড়তে থাকে, মস্তিষ্কের ক্ষয়ও ততই বাড়তে থাকে। মস্তিস্ককে আজীবন সতেজ রাখার জন্য তাই চেষ্টার কমতি নেই। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন প্রক্রিয়াই সফল প্রমাণিত হয় নি। তবে অনেকের ধারণা ছিল ধ্যান করলে হয়তো মস্তিষ্কের ওপর উপকারী প্রভাব পড়তে পারে। এবং এখন তা সত্য বলেই মনে হচ্ছে। আসলেই ধ্যান করলে মস্তিষ্কের বয়সজনিত ক্ষয় কম হয়। নতুন একটি পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে যারা দীর্ঘদিন ধরে ধ্যান করেছেন তাদের মস্তিষ্কের ধূসর বস্তু বা গ্রে ম্যাটারের ক্ষয় তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে ধ্যানীদের মস্তিষ্কের এই কম ক্ষয় হওয়ার বিষয়টি বেশ ব্যাপক। গবেষকগণ প্রকৃতপক্ষে মস্তিষ্কের ওপর ধ্যানের এমন সর্বব্যাপী প্রভাব আশা করেননি। মোট ১০০ জনের মস্তিষ্কের বিভিন্ন আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এই পর্যবেক্ষণ কর্মটি সমাধা করা হয়েছে। মস্তিষ্কের ওপর ধ্যানের প্রভাব সম্পর্কে এ পর্যন্ত সম্পন্ন এটাই সত্যিকার অর্থে  বড় ধরণের এবং দীর্ঘ মেয়াদের আধুনিক পর্যবেক্ষণ।


তথ্যসূত্রঃ Luders E, Cherbuin N, Kurth F. Forever Young(er): Potential Age-defying Effects of Long-term Meditation on Gray Matter Atrophy. Frontiers in Psychology. 2015 2015-January-21;5. English.  

Tuesday, 10 February 2015

অস্ট্রেলীয়দের যৌন জীবন

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের যৌন জীবনের একটি সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে বিগত ১০ বছরে অস্ট্রেলীয়দের জীবনে নিয়মিত যৌন মিলনের হার ২০ শতাংশ কমে গিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত জরীপ ১০ বছর আগে হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল অস্ট্রেলীয়রা সপ্তাহে ১.৮ বার যৌন মিলন করে থাকে। কিন্তু এবার ১৭,০০০ অংশগ্রহনকারীর উপর জরীপে দেখা যাচ্ছে তা সপ্তাহে ১.৪ বারে নেমে এসেছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা সপ্তাহে ২ থেকে ৪ বার যৌন সম্পর্ক উপভোগ করার আশা ব্যক্ত করেছে। কিন্তু তাদের সে আশা পূরণ হচ্ছে না।  
এবারের সমীক্ষার প্রধান জুলিয়েট রিখটার ৩০ বছর যাবত মানুষের যৌনসম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি মনে করছেন অস্ট্রেলীয়দের যৌন জীবন এমন মরুভুমি হয়ে যাওয়ার জন্য  ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোন দায়ী। কারণ আজকাল অফিস আর বাসার মধ্যে সীমারেখা মুছে গিয়েছে। অনেকে বাসায় বসেও অফিসের মেইল চেক করছেন, জরুরী কাজ কর্ম সারছেন। আর এটা নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে দাম্পত্য জীবন সংক্ষিপ্ত হয়ে আসছে।  অবশ্য এক্ষেত্রে ব্রিটিশদের অবস্থাও খারাপ। তারা আরও কম যৌন মিলনের সুযোগ পাচ্ছে। ব্রিটিশরা ১৯৯০ সালে প্রতিমাসে গড়ে ৫ বার যৌন মিলনের সুযোগ পেত; ১০ বছর আগে তা কমে হয়েছিল সপ্তাহে একবার; বর্তমানে তা হয়েছে প্রতিমাসে ৩ বার। অর্থাৎ অস্ট্রেলীয়দের চেয়ে ব্রিটিশরা গড়ে প্রায় অর্ধেক সেক্স করার সুযোগ পাচ্ছে।
গবেষকগণ বলছেন আমেরিকা এবং ফ্রান্সেও একই প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।   
জাপানের অবস্থা আরও সঙ্গীন। তাদের বেডরুমে রীতিমতো খরা চলছে। বলা হচ্ছে জাপানে বিবাহিতদের ৪০ শতাংশ প্রতিমাসে ১ বার যৌন সম্পর্ক করার সুযোগ পায়।
অবশ্য জুলিয়েট রিখটার মনে করছেন সেক্সই তো আর জীবনের সব কিছু নয়। অস্ট্রেলীয় দম্পতিদের মনের মিল খুব বেশী। আর তাদের যৌনজীবনে এখন বৈচিত্র্য অনেক বেশী। এবারের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে আগের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশী মহিলা এবং ৮ শতাংশ বেশী পুরুষ ওরাল সেক্স করছে। গড়ে পুরুষদের জীবনে ১৮ জন মহিলা এবং মেয়েদের জীবনে ৮ জন পুরুষ সঙ্গী এসেছে। সমকামী পুরুষেরা গড়ে ৯৬ জন সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে; আর সমকামী মহিলারা গড়ে ৬ জনের সঙ্গ লাভ করেছে।  যৌন জীবনে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আগের চেয়ে কমেছে। মহিলারা আজকাল প্রায় পুরুষদের মতোই বহুচারিনী হয়ে উঠছে।  

Saturday, 7 February 2015

প্রতি দুইজনে একজনের ক্যান্সার

নতুন এক হিসেবে দেখা যাচ্ছে বিলেতে ১৯৬০ সালে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের অন্তত প্রতি দুইজনে একজনের জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
১৯৩০ সালে যাদের জন্ম হয়েছে তাদের চেয়ে ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যানসারের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশী। মোট শনাক্ত করা ক্যানসারের ৬০ শতাংশ ৬৫ বছরের বেশী বয়সীদের হয়েছে। বেশীদিন বাঁচলে ক্যানসার বেশী হবে সেটা নিয়ে অবাক হওয়ার তেমন কিছু নেই। তারপরেও ধূমপান নিবারণ, শারীরিক পরিশ্রম, মদ কম পান করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে।  প্রতি ৫ টির মধ্যে ২ টি ক্যানসার জীবনাচরণ বদলে প্রতিরোধ করা সম্ভব।


তথ্যসূত্রঃ Ahmad AS, Ormiston-Smith N, Sasieni PD. Trends in the lifetime risk of developing cancer in Great Britain: comparison of risk for those born from 1930 to 1960. Br J Cancer. 2015. Published online February 3, 2015. 

Saturday, 24 January 2015

“বিশ্ব কোলাকুলি” দিবস

গত পরশু দিন রাস্তায় দেখি এক ভদ্রলোকের পিঠে একটা পোস্টার লাগানো। তাতে লেখা আছে, “বিনামূল্যে কোলাকুলি(free hug)।” অর্থাৎ কেউ চাইলে তাকে আলিঙ্গন করতে পারে। এজন্য কোন পয়সা দিতে হবে না। ঘটনা কি?

পরে শুনি ২১ জানুয়ারি নাকি “বিশ্ব কোলাকুলি” দিবস। তাই উনি মুফতে কোলাকুলি বিলিয়ে বেড়াচ্ছেন। কয়েকজন সুন্দরী রমণী তাকে ‘কোলাকুলি’ করার জন্য সারি ধরে দাঁড়িয়ে আছে । 
এমন একটি দিবস আছে তা আমার জানা ছিল না। পরে আরও ভালো করে বুঝতে পারলাম আমাদের জ্ঞাতি ভাইদের ‘কোলাকুলির’ অন-লাইন ছবি দেখে। আহা! যদি বাংলাদেশের দুই দলের সবাই মিলেমিশে এমন কোলাকুলি করতে পারতো! 



যাহোক কোলাকুলির গুণাগুণ পড়ে আমি তাজ্জব। এত বছরের মেডিক্যাল সায়েন্সে চলাফেরা করলাম; অথচ কোলাকুলির উপকারই ভালো করে দেখা হয় নাই। আমার মতো কেউ এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকলে তাদের জন্য নীচে কোলাকুলির দশটা উপকার উল্লেখ করছিঃ

১) কোলাকুলি সুখী হওয়ার অব্যর্থ দাওয়াই। আমরা চেনা-অচেনা যার সঙ্গেই কোলাকুলি করি না কেন এর ফলে আমাদের শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ নামে পরিচিত হরমোন নিঃসরিত হয়। আর এই হরমোন আমাদের মনে কুলকুল সুখের অনুভূতি জাগায়। 
২) কোলাকুলি করলে উদ্বেগ কমে। কারণ কোলাকুলি যেমন ‘অক্সিটোসিন’-এর পরিমাণ বাড়ায়, তেমন আমাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়।
৩) শিশুদের খাবার এবং পানির মতো প্রচুর কোলাকুলির প্রয়োজন। গবেষকগণ বলছেন শিশুকে প্রচুর আলিঙ্গন না করলে তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 
৪) কোলাকুলি করলে ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার উন্নতি হয়! 
৫) কোলাকুলি করলে প্লেয়ারদের খেলার মান বাড়ে। দেখা গিয়েছে যে দলের প্লেয়াররা বেশী বেশী কোলাকুলি করে তাদের দলের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।
৬) কোলাকুলি করলে আমাদের ডাক্তারের কাছে কম যেতে হয়। কারণ কোলাকুলি থাইমাস গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।
৭) একই কারণে কোলাকুলি করলে শরীরে জীবাণু সংক্রমণ কম হয়।    
৮) কোলাকুলি হৃদযন্ত্রকে সুস্থ-সবল রাখে। 
৯) যে দম্পতি বেশী বেশী কোলাকুলি করে তারা সুখী দম্পতি। 
১০) কোলাকুলি বিনা বাক্য ব্যয়ে প্রমাণ করে কারও প্রতি আমাদের ভালবাসা; আমরা কাউকে কতটা গুরুত্ব দেই।  

অতএব দুনিয়ার সুখ-শান্তি বাড়ানোর জন্য আমরা ‘কোলাকুলি’র ব্যাপারে যেন  কোন কৃপণতা না করি। জয় ‘কোলাকুলি’ দিবস। বিশ্ব ‘কোলাকুলি’ দিবস জিন্দাবাদ।

Tuesday, 27 May 2014

সঙ্গীত চিকিৎসা


সঙ্গীত শুধু বিনোদনের বিষয় নয়। সঙ্গীতের রোগ নিরাময় করার ক্ষমতাও আছে।

২০১১ সালে ৩২ টি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় ৩১৮১ জনের উপরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। এখানে দেখা যায় সঙ্গীত দুশ্চিন্তা এবং উদ্বেগ লাঘব করে, বিষণ্ণতা প্রশমন করে। এদের মধ্যে সাতটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায় সঙ্গীত ব্যথা উপশম করে এবং ৪ টি পর্যবেক্ষণে হৃদঘাত কমানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। শুধু তাই নয় সঙ্গীত জীবনের মান উন্নত করে।

ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া যে কারও জন্য শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক  উৎকণ্ঠার বিষয়। সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের রোগের চিকিৎসায়  সঙ্গীতের ভূমিকা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ২০১০ সালে ৩০ টি  পর্যবেক্ষণে ১৮৯১ জন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর ওপর সঙ্গীতের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়। এখানেও দেখা যায় সঙ্গীত রোগীদের উদ্বেগ প্রশমন করে, মুড ভালো করে এবং সার্বিকভাবে রোগীদের অবস্থা উন্নত করে। আমরা সকলেই জানি ক্যানসারের রোগীদের অনেক সময় অসম্ভব ব্যথা হয়। দুটি গুরুত্বপূর্ণ রিভিউয়ে দেখা যাচ্ছে গান ক্যানসারের ব্যথা উপশমে সক্ষম।

স্ট্রোকের পরে অনেক রোগী বিষণ্ণতায় ভুগে থাকে। সাধারণত প্রতি তিন জন স্ট্রোকের রোগীর মধ্যে অন্তত একজন উল্লেখযোগ্য বিষণ্ণতায় ভুগে থাকে। এটা স্ট্রোক নিরাময়ের পথে অন্তরায়। স্ট্রোকের পরে বিষণ্ণতা হলে রোগের জটিলতা বাড়ে, মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকগণ সব সময় আশা করেন যেন স্ট্রোকের পরে কারও বিষণ্ণতা না হয়। এজন্য নানারকম ওষুধ ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি অন্যান্য পদ্ধতিও প্রয়োগ করা হয়। যেমন- সাইকো থেরাপি, আকুপাংচার, বৈদ্যুতিক শক, সঙ্গীত ইত্যাদি। সঙ্গীতের সাহায্যে স্ট্রোকের পরে বিষণ্ণতা লাঘবে ভালো উপকার পাওয়া গিয়েছে।

গর্ভবতী মহিলাদের ওপরেও সঙ্গীতের প্রভাব দেখা হয়েছে। দেখা গিয়েছে সুমধুর সঙ্গীত গর্ভবতী মহিলাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। সঙ্গীত আনন্দ দেয়, সেজন্যই এমন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে না। গবেষকগণ মনে করছেন সঙ্গীত কোন কারণে আসলেই রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।   

কিন্তু সঙ্গীত কিভাবে আমাদের সুস্থ করে তোলে? সঙ্গীতের মূল বিষয় শব্দ। আর শব্দের মূলে রয়েছে কম্পন। গবেষকগণ এখন বিভিন্ন ধরণের শব্দ কম্পন নিয়ে পরীক্ষা করছেন। কি ধরণের শব্দ কম্পন কতক্ষণ ব্যবহার করলে কেমন উপকার হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। মনে করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের সঙ্গীতের শব্দ কম্পন শরীরে বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং এরই কোন কোনটি আমাদের জন্য উপকারী। তারা মনে করছেন অচিরেই কোন রোগের জন্য কি ধরণের সঙ্গীত কতক্ষণ, কত বার এবং কতদিন শোনা দরকার তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তখন চিকিৎসকেরা বিভিন্ন রোগের জন্য প্রেসক্রিপশন আকারে সঙ্গীতের পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন।

তথ্যসূত্রঃ
1. Overview of Systematic Reviews. Evidence-based complementary and alternative medicine: eCAM. 2014;2014:170396. PubMed PMID: 24817897. Pubmed Central PMCID: PMC4003746. 
2. Nabavi SF, Turner A, Dean OM, Sureda A, Nabavi SM. Post-Stroke Depression Therapy: Where are we now? Current neurovascular research. 2014 May 22. PubMed PMID: 24852795. 
3. Zhang JM, Wang P, Yao JX, Zhao L, Davis MP, Walsh D, et al. Music interventions for psychological and physical outcomes in cancer: a systematic review and meta-analysis. Supportive care in cancer: official journal of the Multinational Association of Supportive Care in Cancer. 2012 Dec; 20(12):3043-53. PubMed PMID: 23052912. 
4. Fritz TH, Ciupek M, Kirkland A, Ihme K, Guha A, Hoyer J, et al. Enhanced response to music in pregnancy. Psychophysiology. 2014 May 18. PubMed PMID: 24835575. 
5. Bradt J, Dileo C, Grocke D, Magill L. Music interventions for improving psychological and physical outcomes in cancer patients. The Cochrane database of systematic reviews. 2011 (8):CD006911. PubMed PMID: 21833957.

Sunday, 18 May 2014

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য জনসম্পদ

২০০৭ সালে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে জনসম্পদের ওপর অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি জরীপ করা হয়েছিল। এই  জরীপের ফলাফলে দেখা যায় আমাদের প্রতি ১০,০০০ মানুষের জন্য- 
  • ৫ জন চিকিৎসক
  • ২ জন নার্স 
  •  ১২ জন হাতুড়ে গ্রাম্য চিকিৎসক
  •  ১১ জন ফার্মেসীর ওষুধ বিক্রেতা
  • ৩৩ জন কবিরাজ বা বৈদ্য
  • ৩২ জন ঝাড়ফুঁক দেওয়ার লোক এবং
  • ৬ জন হোমিওপ্যাথ ডাক্তার আছে

এরা সবাই কম-বেশী বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবা দেয় এবং ওষুধের পরামর্শ দেয়।

কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য জনশক্তির সংখ্যা দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক কম। যেমনঃ আমাদের দেশে প্রতি ১০০০০ মানুষের জন্য চিকিৎসক, দাঁতের ডাক্তার এবং নার্স আছে সাকুল্যে ৭.৭ জন। শ্রীলংকায় এই সংখ্যা ২১.৯ জন, ভারতে ১৪.৬ জন, পাকিস্তানে ১২.৫ জন। সহস্রাব্দের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে এই সংখ্যা প্রতি ১০০০০ জনগণের জন্য ২৩.০ জন হওয়া উচিত। 
  
আমাদের সেবিকা এবং চিকিৎসকের অনুপাত ২:৫ । অর্থাৎ প্রতি ৫ জন চিকিৎসকের জন্য ২ জন নার্স আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে প্রতি ৩ জন নার্সের জন্য ১ জন চিকিৎসক থাকা উচিত। যে কোন কমিউনিটির জন্য পর্যাপ্ত নার্স থাকা বিশেষ জরুরী। কারণ হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের চিকিৎসা সেবার প্রাণশক্তি নার্স। আমাদের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টেরও স্বল্পতা রয়েছে। প্রতি ১ জন চিকিৎসকের জন্য ৫ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট থাকা উচিত। সার্বিকভাবে এই জরীপে দেখা যায় উন্নয়নশীল দেশের মানদণ্ডে বিবেচনা করলে আমাদের আরও ৬০,০০০ চিকিৎসক, ২৮০,০০০ নার্স এবং ৪৮৩,০০০ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট দরকার। 


তথ্যসূত্রঃ Ahmed SM, Hossain MA, Rajachowdhury AM, Bhuiya AU. The health workforce crisis in Bangladesh: shortage, inappropriate skill-mix and inequitable distribution. Human resources for health. 2011;9:3.

Wednesday, 7 May 2014

যৌনক্ষমতা বাড়ানোর “সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হার্বাল ওষুধ” আসলে কতটুকু নিরাপদ?

পথে-ঘাটে কিংবা বাসে-লঞ্চে চলতে ফিরতে আমরা পুরুষের যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ নিয়ে নানারকম বিজ্ঞাপন দেখি কিংবা হকারদের বক্তৃতা শুনতে পাই। অনলাইনেও পুরুষের “বিশেষ অঙ্গ” দীর্ঘ করার জন্য কিংবা যৌন শক্তি বাড়ানোর জন্য নানারকম প্রচারণা দেখা যায়। এ সব ওষুধে আসলে কি থাকে এবং তা কতটুকু নিরাপদ? 

সম্প্রতি ইতালির কয়েকজন গবেষক এ সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর অনেক রকম ওষুধ আছে সত্য; কিন্তু এদের অধিকাংশই মানসিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, এমন কি ম্যানিয়া পর্যন্ত হতে পারে।এজন্য তারা পথে ঘাটে কিংবা অন লাইনে বিক্রি হওয়া এসব ওষুধ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে চান। এসকল ওষুধের ওপর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। যারা এধরনের ওষুধ সেবন করেন তাদের এমনিতেই মানসিক সমস্যা থাকে; আবার ওষুধ সেবনের ফলে তা আরও বেড়ে যায়। বিগত বছরগুলিতে যৌনক্ষমতাবর্ধক ওষুধ বিক্রির পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এদের প্রতিটির গায়েই লেখা থাকে “সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক” কিংবা “হার্বাল”। অতএব কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। অধিকাংশ পুরুষ আরও লম্বা “বিশেষ অঙ্গ” এবং আরও বেশী সময় রমণের আশায় সহজেই এ সকল বাণিজ্যিক প্রচারণার ফাঁদে পড়ছে। এই ধরণের ভিত্তিহীন  প্রচারণা  জনস্বাস্থ্য এবং সুস্থ চিন্তাভাবনার পথে বিশাল অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। 

গবেষকদল বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং অনলাইন থেকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১০৮ রকমের যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধের বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করেছেন। পরীক্ষা করে দেখা যাচ্ছে এসবের মধ্যে মূলত ৪ ধরণের ওষুধ থাকেঃ ইওহিম্বিন (yohimbine), ম্যাকা (maca), জিঙ্কো বিলোবা (ginkgo biloba)  এবং হর্নি গোট উইড (horny goat weed )। এই ৪ রকমের ওষুধই আসক্তিসহ উদ্বেগ, প্যানিক, মুডের পরিবর্তন, মানসিক বিভ্রমজাতীয়  মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। 

ইওহিম্বিন বিভিন্ন গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে দাবী করা হয়েছে এটা ধ্বজ-ভঙ্গের জন্য কার্যকরী। আবার এ ওষুধ সেবন করলে ওজন কমে এবং সুস্বাস্থ্য লাভ করা যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ইওহিম্বিনের অনেক রকম পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এটা সেবন করলে মানসিক অস্থিরতা এবং উদ্বেগ সৃষ্টি হয়; পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা হতে পারে, হৃদঘাত বেড়ে যায় এবং উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।   
ম্যাকা (Lepidium meyenii) এক বিশেষ ধরণের গাছ থেকে সংগৃহীত ওষুধ। এর মূল উপাদান টেট্রাহাইড্রো-বিটা-কারবোলিন। দাবী করা হয় এটা যৌন শক্তি বাড়ায় এবং বন্ধাত্য রোধ করে। কিন্তু টেট্রাহাইড্রো-বিটা-কারবোলিন এমন একটি রাসায়নিক উপাদান যা ক্ষুধা বাড়ায় এবং আসক্তি সৃষ্টি করে। 

হর্নি গোট উইড সেবন করলে মানসিক উন্মত্ততা সৃষ্টি হয়; হৃদপিণ্ডের ছন্দ বিঘ্নিত হয় এবং ত্বকে নানারকম প্রতিক্রিয়া হতে পারে। 

জিঙ্কো বিলোবা স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এটা সুস্থ মানুষের শরীরেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। এ ছাড়া এটা অন্যান্য ওষুধ যেমন অ্যালপ্রাজোলাম, সিটালোপ্রাম ইত্যাদি ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এমন কি মানসিক উন্মত্ততা সৃষ্টি করতে পারে। 

এ চার রকম ওষুধ ছাড়া আরও পাওয়া গিয়েছে হরিণের শিংয়ের চামড়া। কিন্তু এটা সেবন করলে প্রকৃতপক্ষে শরীর ভেঙে যায় এবং নানারকম স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে।

মজার বিষয় হচ্ছে এসকল ওষুধ বিক্রির ওপর প্রায় কোনরকম নিয়ন্ত্রণই নাই। যে কেউ যে কোন সময় ইচ্ছে করলেই প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এসব ওষুধ কিনতে পারে এবং  সেবন করতে পারে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হচ্ছে এসকল ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোন হিসেব নিকেশ নাই এবং সেটা নিয়ে কোন জবাবদিহিতার ব্যবস্থাও নাই। অনেকেই জানেন না যে যৌনক্ষমতা বাড়ানোর “সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক হার্বাল” ওষুধের নামে তারা যা সেবন করছেন, সেগুলির মধ্যে অনেক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান রয়েছে এবং এসকল ওষুধও অন্যান্য অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের মতো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এসকল ওষুধের কোন প্রকার মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকার ফলে অনেক সময় এর মধ্যে আসলে কি উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা আদৌ কোন ওষুধ আছে কিনা সে সম্পর্কেও কোন কিছু জানা যায় না। 

তথ্যসূত্রঃ American Psychiatric Association's 2014 Annual Meeting. Abstract NR4-44. Presented  May 4, 2014.

Tuesday, 29 April 2014

একটি সাঁকোর জন্য আর কতদিন ?

এক ভদ্রলোক নদীর পাড় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন নদীতে একজন ডুবন্ত মানুষ। ভদ্রলোক কালবিলম্ব না করে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং ডুবন্ত মানুষটিকে উদ্ধার করে তীরে তুলে আনলেন। কিন্তু পাড়ে উঠতে না উঠতেই তিনি দেখতে পেলেন আরেক জন ডুবন্ত মানুষ। তিনি তাকেও উদ্ধার করলেন। দ্বিতীয়জনকে নিয়ে আসতে না আসতেই তার চোখে পড়লো নদীতে আরও কয়েকজন মানুষ ডুবে যাচ্ছে। এভাবে ডুবন্ত মানুষদের উদ্ধার করতে করতে ভদ্রলোক নিজেই অসুস্থ হয়ে নদীর পাড়ে শুয়ে পড়লেন। তিনি মনে মনে চিন্তা করছেন যে এই নদীতে এত মানুষ ডুবে যাচ্ছে কেন?

পরদিন তিনি নদীর পাড় দিয়ে উজানের দিকে হাঁটা শুরু করলেন। দুই পাড়ে কোন তেমন জনবসতি নেই। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পরে তিনি দেখতে পেলেন নদীর দুই পাড়ে দুটি গ্রাম। এক গ্রামের মানুষ নানা প্রয়োজনে অন্য গ্রামে যায়। কিন্তু নদীতে কোন পারাপারের ব্যবস্থা নেই। নদীর ওপর কোন সাঁকোও নেই। ফলে প্রতিদিন অনেকেই নদী পার হতে গিয়ে ডুবে যায়।

কিন্তু ভদ্রলোকের পক্ষে একা কি আর এত ডুবন্ত মানুষকে প্রতিদিন উদ্ধার করা সম্ভব। এরজন্য দরকার একটি সাঁকো। আমাদের অবস্থা হয়েছে এরকম। আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দল দুটি দুই পাড়ের দুটি গ্রাম। মাঝখানে বিশাল নদী; কিন্তু নেই কোন সাঁকো। আমরা সবাই ডুবন্ত মানুষ।


আজ চিকিৎসক-সংবাদকর্মী কিংবা চিকিৎসক-রোগীর সঙ্গে যে সকল সমস্যা তার মূলেও সেই নদী। কিন্তু নেই সাঁকোর বন্ধন। আমরা একটি সাঁকোর জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করবো?  

Monday, 28 April 2014

স্যার-এ কি সার?

“স্যার” শব্দ পাওয়া যায় মধ্যযুগের ফরাসী ভাষায়ফরাসী messire  থেকে sire এবং পরে তা পরিণত হয়েছে sir শব্দে। এর অর্থ “আমার প্রভু” (mylord) পুরনো ফরাসী ভাষায় sieur এসেছে Seigneur থেকে। এ শব্দটির অর্থও “প্রভু”। ল্যাটিন ভাষায় সিনিয়র বা গুরুজনদের উদ্দেশ্য করেও এটা বলা হতো এবং মূলত সেখান থেকে এটা ইউরোপীয় ভাষাসমূহে প্রবেশ করে। ১২০৫ সাল থেকে ইংরেজ নাইট বা ব্যারনদের(knight or baronet) সম্মান করে “স্যার” সম্বোধন করা হতো। ইংরেজীতে “স্বাধীন পুরুষ”, “পিতা” এবং “গুরুত্বপূর্ণ মানুষ” বোঝানোর জন্যও স্যার বলা হয়ে থাকে। পরবর্তীকালে স্যার শব্দের বিচিত্র ব্যবহার দেখা যায়। সাধারনত উচ্চ পদস্থ এবং মর্যাদার কর্মকর্তাদের এবং শিক্ষকদের “স্যার” সম্বোধন করা হতে থাকে। ব্যবসায়ীরা তাদের ক্রেতাদেরকেও স্যার সম্বোধন করে থাকে।  মহিলাদের জন্য সমতুল্য শব্দ হচ্ছে “ম্যাম” বা “ম্যাডাম” (ma'am or madam)তবে কম বয়সী মেয়েরা এটা শুনতে পছন্দ করে না। তারা “মিস” (miss) ডাকলে আনন্দ পায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে নাইটের সমতুল্য শব্দ হচ্ছে “ডেম” বা “লেডি”( Dame or Lady)নাইটের পত্নীদের এভাবেই সম্বোধন করা হয়।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের যখন সূর্য অস্ত যেতো না তখন প্রতি বছর অনেককে ঘটা করে “নাইট” (এবং লেডি) উপাধি দেওয়া হতো। ভারতে ব্রিটিশ রাজকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ১৮৬১ সাল থেকে অনেক বিখ্যাত আমলা, সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী ভারতীয় নাগরিককে the Order of the Star of India প্রদান করা শুরু হয়। ১৮৭৮ সাল থেকে জুনিয়র অফিসারদের The Order of the Indian Empire উপাধি দেওয়া প্রচলন হয়। এসকল তকমা প্রাপ্তদের “স্যার” বলা হতো। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত  ভেঙ্গে স্বাধীন ভারত এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এ সকল উপাধি দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ভারতে এটা সরকারীভাবে নিষিদ্ধ হয় ১৯৫০ সালে আর পাকিস্তান নিষিদ্ধ করে ১৯৫৬ সালে।

মজার বিষয় হচ্ছে আধুনিক পশ্চিমা দুনিয়ায় এখন আর সাধারনভাবে “স্যার” সম্বোধন শোনা যায় না। প্রত্যেকের নামের দুটি অংশ-প্রথম নাম এবং পারিবারিক নাম। যেমন একজনের নাম হায়দার আলী। হায়দার আলীর পরিচিতজন তাকে শুধু “হায়দার” বলে ডাকে; কিন্তু যারা তাকে চেনেনা তারা তাকে “মিঃ আলী” বলে সম্বোধন করে। হায়দার আলী যদি কোন স্কুলের টিচার হন, তাহলে তার সকল ছাত্রছাত্রী তাকে “মিঃ আলী” বলে সম্বোধন করে থাকে। কিন্তু সহকর্মীরা “তাকে” হায়দার বলে ডাকে।

ততোধিক মজার বিষয় হচ্ছে ব্রিটিশদের প্রভুত্ব থেকে মুক্ত হয়ে উপমহাদেশের জনগণ ব্রিটিশ তকমা দেওয়ার প্রচলন আদেশ জারী করে বন্ধ করেছে। কিন্তু নিজেরা এখনও “স্যার” অর্থাৎ “হে প্রভু” ডাক শুনতে চায়; এই বেলায় অফিসার, ডাক্তার, উকিল-মোক্তার কিংবা বিচারক কোন ফারাক দেখা যায় না। সবার মনের ভিতরেই প্রভু হওয়ার সুপ্ত বাসনা। কেউ সেবক হতে চায় না। 

Tuesday, 15 April 2014

স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেট পিসি-র টাচ স্ক্রিনের জীবাণু

চিকিৎসক এবং হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মীদের স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেট পিসি-র টাচ স্ক্রিন নানারকম জীবাণু দ্বারা আক্রান্তসম্প্রতি জার্মান হাসপাতালে চিকিৎসক এবং সেবিকাদের স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেট পিসি-র টাচ স্ক্রিন পরীক্ষা করে এমনই দেখা গিয়েছেএটা শুধু চিকিৎসক এবং সেবিকাদের ব্যক্তিগত সুস্থতার জন্যই হুমকি নয়, তাদের পরিবার এবং রোগীদের জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে। স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেট পিসি-র টাচ স্ক্রিনে যে সকল জীবাণু শনাক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ Staphylococcus aureusEnterococcus, and Enterobacteriaceae জাতীয় ব্যাকটেরিয়া। এজন্য সতর্কতা হিসেবে সকল চিকিৎসক এবং সেবিকার উচিত তাদের স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেট পিসি-র টাচ স্ক্রিন নিয়মিত পরিস্কার করা; বিশেষত হাসপাতাল থেকে বাড়ী ফেরার আগে অবশ্যই তা করা উচিত। অন্যথায় তাদের শিশুদের মধ্যে খুব সহজেই এসকল জীবাণু সংক্রমিত হতে পারে। কারণ বাড়ী ফেরার পর অনেকের বাচ্চাই বাবা-মায়ের ফোন নিয়ে খেলা করে কিংবা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করে থাকে।   

তথ্যসূত্রঃ 16th International Congress on Infectious Diseases (ICID): Abstract 61.014. Presented  April 5, 2014.